তবে উদ্যোগের পাশাপাশি বাস্তব ফল, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং সুশাসনের প্রশ্নও সামনে এসেছে।
অর্থনীতিতে আস্থার বার্তা : নতুন সরকারের সামনে প্রথম ও সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠন। প্রথম ১০০ দিনে সরকার রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকিং খাতে সংস্কারের উদ্যোগ, ব্যবসা সহজীকরণ এবং রপ্তানিমুখী শিল্পে নীতিগত সহায়তার ওপর জোর দেয়। একই সময়ে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদার, প্রবাসী বিনিয়োগকারী এবং দেশীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ অর্থনৈতিক কূটনীতিকে সক্রিয় করেছে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, নীতিগত ঘোষণা ইতিবাচক হলেও এর প্রকৃত প্রভাব মূল্যায়ন করতে সময় লাগবে। কারণ মূল্যস্ফীতির চাপ, বিনিয়োগের ধীরগতি এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মতো সূচকে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে ধারাবাহিক নীতি বাস্তবায়ন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বাজারে আস্থার পরিবেশ নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
কৃষিতে উদ্যোগ, কিন্তু প্রশ্নও আছে : তারেক রহমানের সরকার কৃষিকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করে স্মার্ট কৃষি, ডিজিটাল কৃষক নিবন্ধন, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষিঋণ সহজীকরণের মতো উদ্যোগের কথা বলেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতায় এসব পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী। তবে দীর্ঘদিন কৃষি খাতের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে আমার পর্যবেক্ষণ হলো, এই খাতের সবচেয়ে বড় সংকট প্রকল্পের সংখ্যা নয়, বরং নেতৃত্ব ও সুশাসন। অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমন্বয়ের অভাব, দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব, স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রভাব এবং জবাবদিহির ঘাটতি নীতির কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।

ড. শাহরীনা আখতার 





















