ঢাকা
,
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
এনসিপি বলতে কিছু নেই, যা আছে তা জামায়াতের শিশু সংগঠন: রাশেদ খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ধীরগতিতে টানা ভোগান্তি
সরকারে যুক্ত হচ্ছেন শরিকরা
পরিহার করতে হবে পুরোনো ধারার রাজনীতি
যুক্তরাষ্ট্রে এক মাসে রেকর্ড ৫১ হাজার অভিবাসী গ্রেফতার
অনলাইন জুয়ায় ডুবছে দেশ
সিলেটে বাস দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার পাবে ৫ লাখ টাকা
যুক্তরাষ্ট্রে এক মাসে ৫১ হাজার অভিবাসী আটক
জুলাই যোদ্ধাদের সিএনজি-অটোরিকশা-রিকশা উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রেমিকাকে অর্থ দেওয়ার অভিযোগ, অস্বীকার ইনফান্তিনোর
বন্যায় পানিবন্দি ১০ লক্ষাধিক
-
স্বাধীনতা নিউজ ডেস্ক : - আপডেট সময় ১১:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
- ৫ বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এ ছাড়া নতুন করে বন্যাকবলিত হয়েছে আরও কয়েকটি জেলার নিম্নাঞ্চল। সব মিলিয়ে সারাদেশে ১০ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত শুধু চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলাতেই ৯ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। চট্টগ্রামে সাময়িকভাবে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল কমলেও বন্যার পানি কমেনি। উল্টো দুই জেলার কয়েকটি উপজেলায় বিস্তীর্ণ এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। এ উপজেলায় বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সাতকানিয়া উপজেলায় এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে উপকূলীয় জেলা ভোলার মনপুরায় পানিবন্দি অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছে ২০ হাজারের বেশি মানুষ। এ ছাড়া সাতক্ষীরা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। এ ছাড়া খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের বিভিন্ন সড়ক এখনও পানির নিচে থাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।
চট্টগ্রাম : গতকাল বিকালে চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সাড়ে ৭ লাখের বেশি মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকা গতকালও পানিতে তলিয়ে ছিল। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার প্রতিটি উপজেলা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে।
সেনাবাহিনী মোতায়েন : বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার সাত উপজেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক
প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে জেলা প্রশাসনের জরুরি অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন ও ২৪ পদাতিক ডিভিশন বন্যাদুর্গত বিভিন্ন উপজেলায় অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
ভেসে গিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু : বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নে গতকাল শুক্রবার পৃথক ঘটনায় পাহাড়ি ঢলে ভেসে গিয়ে মারা যায় দুই শিশু। তারা হলো- দক্ষিণ ইলশা গ্রামের প্রবাসী কামাল উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ আশিক (৭) এবং রত্নপুর এলাকার মোহাম্মদ মিরাজ (৩)।
সাতকানিয়া-চন্দনাইশে পরিস্থিতি : গতকাল চট্টগ্রামের সাতকানিয়া বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। এ ছাড়া চন্দনাইশে পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। এর মধ্যে সাতকানিয়া উপজেলার চরতি ইউনিয়নে পানিতে ভেসে গিয়ে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার চরতি ইউনিয়নের পশ্চিম দুরদুরী ৬নং ওয়ার্ড এলাকায় ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে মোহাম্মদ যায়েদ (১৭) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়।। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যায়েদ স্থানীয় দুরদুরী প্রাইমারি স্কুলের পাশে জাল দিয়ে মাছ ধরতে গেলে পানির প্রবল স্রোতে ভেসে যায়। পরবর্তী সময় স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন। গতকাল উপজেলার সাঙ্গু, ডলু, হাঙর নদী ও হদের খালের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
বাঁশখালীর ৮ ইউনিয়নে পানি বেড়েছে : সোমবার থেকে টানা বৃষ্টির পর মঙ্গলবার পাহাড়ি ঢলে বাঁশখালীর ১৪টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়। বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে কয়েকটি ইউনিয়নে পানি নামতে শুরু করলেও খানখানাবাদ, বাহারছড়া, কাথারিয়া, গণ্ডামারা, শেখেরখীল, ছনুয়া ও সরলসহ উপকূলের আটটি ইউনিয়নে পানি বেড়েছে।
গতকাল বাহারছড়া, শেখেরখীল ও পুঁইছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ বসতভিটায় এখনও দুই থেকে তিন ফুট পানি। অনেক পরিবার চার দিন ধরে রান্না করতে পারেনি। শুকনা খাবারের ওপর নির্ভর করেই দিন কাটছে তাদের। শিশু ও নারীদের অনেকেই স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের হিসাবে, উপজেলার ২১২টি গ্রামের মধ্যে অন্তত ১৫০টি গ্রাম এখনও পানির নিচে। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। প্লাবিত হয়েছে এক লাখের বেশি ঘরবাড়ি।
রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়িতে পানি কমছে : উত্তর চট্টগ্রামের রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী উপজেলার নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে এখন সামনে আসছে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি, ভাঙা সড়ক-সেতু এবং মাছের খামারের ক্ষতির চিত্র। হাটহাজারীর শিকারপুর ইউনিয়নে এখনও পানি নামেনি। ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা লোকমান হাকিম বলেন, তিন দিন ধরে পরিবার নিয়ে রাউজানে মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। দক্ষিণ বুড়িশ্চর, দক্ষিণ মাদার্শা ও উত্তর মাদার্শা ইউনিয়নেও জলাবদ্ধতা রয়েছে।
খাগড়াছড়ি-বান্দরবানে যোগাযোগে ভোগান্তি : খাগড়াছড়িতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দীঘিনালা-লংগদু ও খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কে টানা তৃতীয় দিনের মতো যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাঘাইহাট-মাচালং-সাজেক সড়কের বিভিন্ন অংশও এখনও পানির নিচে। মহালছড়ির একটি সেতু ডুবে যাওয়ায় কয়েকটি এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি কমতে শুরু করায় জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নেমেছে। ফলে অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে বাড়ি ফিরছেন। তবে নিম্নাঞ্চলে এখনও পানি রয়েছে। দীঘিনালার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, উপজেলায় ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে সাত হাজারের বেশি পরিবার রয়েছে। তাদের জন্য খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাত থেকে পানি কমতে শুরু করায় কিছু সড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক হচ্ছে। খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে আশ্রয় নেওয়া মানুষ ও পানিবন্দি পরিবারের জন্য খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ এবং শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মৎস্য খাতে ৩৯ কোটি টাকার ক্ষতি : ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পানি নিষ্কাশনের সংকটে চট্টগ্রামের মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলার ১৫ উপজেলায় ৭ হাজার ৩৭৫টি পুকুর-দীঘি ও মাছের খামার এবং ৪৫টি চিংড়িঘের প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ১ হাজার ৮০৫ টন মাছ ও ৪৮ লাখ ৪০ হাজার পোনা ভেসে গেছে। প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম বলেন, এখন পর্যন্ত ৭ হাজার ৪২০টি জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ক্ষতির পরিমাণ ৩৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে মাঠপর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ জরিপের মাধ্যমে চূড়ান্ত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
কক্সবাজার : অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি দলে কক্সবাজারের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল রয়েছে। কক্সবাজারকে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া, পেকুয়া রামু ও মাতামুহুরি উপজেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে। পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে মাতামুহুরী নদীর ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে বেশ কয়েকটি গ্রাম। পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানিতে এই চার উপজেলার ১০০টি গ্রাম বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ করে মেহেরনামা এলাকায় মাতামুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যায়। এতে নদীর পানি ঢুকে আশপাশের গ্রাম জলমগ্ন হয়ে পড়ে। মাতামুহুরী নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ : ভারী বৃষ্টিতে জেলার সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত সুনামগঞ্জ-হবিগঞ্জের সীমানায় কুশিয়ারা নদীর পানি দিরাইয়ের মার্কুলি পয়েন্টে বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। জেলার সুরমা নদী ও হাওর এলাকার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। এর মধ্যে আরও একদিন সুনামগঞ্জ ও উজানের ভারতের মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
রাঙামাটি : অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটি জেলা জুড়ে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। শতাধিক স্থানে হয়েছে পাহাড় ধস। বন্যায় জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে বরকল, বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলায়। জেলার ৪১টি আশ্রয় কেন্দ্রে তিন হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। রাঙামাটি জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ইতোমধ্যে ৩ হাজার ৫২৪ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
মৌলভীবাজার : উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের প্রভাবে মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। জেলার মনু নদীর পানি বিপদসীমার ৮৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকাল ৫টায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেকর্ড অনুযায়ী মনু নদীর পানি বিপদসীমার অনেক ওপরে অবস্থান করছে। শুক্রবার ভোররাতে জেলার রাজনগর উপজেলার টেংরাবাজার ইউনিয়নের উজিরপুর এলাকায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে যায়। এতে প্রায় ১০ থেকে ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয় এবং কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। জেলার মোট ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
নালিতাবাড়ী (শেরপুর) : উপজেলায় বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের স্রোতের তোড়ে বিধ্বস্ত হয়ে নদীতে বিলীন হয়েছে শেরপুর-গাজীরখামার-নালিতাবাড়ী সড়কের প্রায় ৩০ মিটার পাকা সড়ক। গতকাল বিকালে ঢলের পানি নেমে যাওয়ার পর বিধ্বস্ত পাকা সড়ক ভেসে উঠেছে। গত দুই দিনে পাহাড়ি ঢলে চেল্লাখালী নদীর পানি বিপদসীমা ছাড়িয়ে প্রবাহিত হয়। তবে শুক্রবার সারাদিন বৃষ্টিপাত না থাকায় ঢলের পানি ভাটির দিকে নেমে যাওয়ায় আপাতত বন্যার আশঙ্কা নেই।
সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরায় বৃহস্পতিবার রাতভর টানা বর্ষণে তীব্র জলাবদ্ধতায় পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে গোটা সাতক্ষীরা। পৌরসভাসহ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা তালিয়ে যায়। বিশেষ করে সাতক্ষীরা পৌরসভার কামালনগর, ইটাগাছা, মেহেদীবাগ, রসুলপুর, বদ্দীপুর কলোনি, রইচপুর, মধ্য কাটিয়া, রথখোলা, রাজার বাগান, মুনজিতপুর, গদাইবিল ও পুরাতন সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে।
মনপুরা (ভোলা) : উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও চরাঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। কর্মহীন হয়ে পড়ায় নিম্নআয়ের বহু পরিবারের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্যসংকট। দীর্ঘ সময় ধরে পানি আটকে থাকায় বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) : বৃষ্টি কমলেও সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে কয়েকদিনের প্রবল বৃষ্টি আর ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে বাড়ছে নদী ও হাওরের পানি। এ কারণে উপজেলার নিম্নাঞ্চলে বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সড়কে পানি উঠার আশঙ্কা বাড়ছে। ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ছড়া দিয়ে নেমে আসা পানিতে সীমান্ত এলাকার বেশকিছু বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত ও শুল্ক বন্দরের ডিপোতে থাকা কয়লা ও চুনাপাথর পানির স্রোতে ভেসে গেছে।
হবিগঞ্জ : কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে খোয়াই নদী। গত বৃহস্পতিবার রাতে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এতে অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়।
ঢাকা : ঢাকায় বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে, উজানের ঢল ও নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে দেশের নদ-নদীর পানির বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল দেশের পাঁচটি নদীর ৯টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা সমুদ্রবন্দর ও কক্সবাজারে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান গণমাধ্যমকে বলেন, বৃহস্পতিবারের তুলনায় শুক্রবার পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে কোথায় কত বৃষ্টি হবে, বিশেষ করে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উজানে বৃষ্টির পরিমাণের ওপর আগামী দিনের বন্যা পরিস্থিতি নির্ভর করবে।
কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, গতকাল ৯টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনে পাঁচটি নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে বান্দরবানে সাঙ্গু নদীর পানি বান্দরবান পয়েন্টে বিপদসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার এবং দোহাজারী পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মাতামুহুরী নদীর পানি লামা পয়েন্টে ৪৭ সেন্টিমিটার এবং কক্সবাজারের চিরিঙ্গা পয়েন্টে ৩২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া কুশিয়ারা নদীর পানি সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার, মনু নদের পানি মৌলভীবাজারের মনু রেলসেতু পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার ও মৌলভীবাজার পয়েন্টে ৮০ সেন্টিমিটার এবং খোয়াই নদের পানি হবিগঞ্জের বল্লা পয়েন্টে ৬০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, দেশের ১২৭টি পানি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৭৯টিতে নদ-নদীর পানি বাড়ছে, ৪৩টিতে কমছে এবং পাঁচটিতে অপরিবর্তিত রয়েছে।
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ























