ঢাকা , রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে এক মাসে ৫১ হাজার অভিবাসী আটক

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী অভিযান আরো জোরদার করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। দেশজুড়ে চলমান এই অভিযানে গত এক মাসে প্রায় ৫১ হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)।
সংস্থাটির ইতিহাসে এক মাসে এটিই সর্বোচ্চ গ্রেপ্তারের রেকর্ড।
আইসিইর প্রকাশিত তথ্য ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে সংস্থাটি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৬৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর আগে গত জুনে মাসে সর্বোচ্চ প্রায় ৪৩ হাজার গ্রেপ্তারের রেকর্ড ছিল। ফলে টানা দুই মাসে আইসিই নতুন গ্রেপ্তার রেকর্ড গড়ল।
দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশজুড়ে অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারীদের শনাক্ত, আটক ও বহিষ্কারের লক্ষ্যে ফেডারেল সংস্থাগুলোকে অভিযান জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিবাসন অভিযানের মাত্রা বেড়েছে। জর্জিয়ায় পরিচালিত একটি বিশেষ অভিবাসন অভিযানে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১ হাজার ২২৬ জনকে আটক করা হয়েছে।
এ ছাড়া গত মাসে বিমানবন্দরগুলোতেও ৩০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিবাসনবিষয়ক অভিযান বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বহিষ্কারের সংখ্যাও বেড়েছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে জুন পর্যন্ত ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮৯ জনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এই অভিযানকে অভিবাসন আইন কার্যকর করা এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের সরিয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছে। এ বিষয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন বলেন, অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের কমিউনিটি থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগের প্রতি সমর্থন রয়েছে ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিকের।
তার দাবি, অপরাধীদের সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে আরো নিরাপদ করা হচ্ছে। তবে ব্যাপক গ্রেপ্তার অভিযান নিয়ে সমালোচনাও বাড়ছে। অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক অভিযানে এমন ব্যক্তিরাও আটক হয়েছেন, যাদের কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড নেই। কারো কারো বৈধভাবে কাজ করার অনুমতিপত্র বা প্যারোলের নথিও ছিল।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে এক মাসে ৫১ হাজার অভিবাসী আটক

আপডেট সময় ৮ ঘন্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী অভিযান আরো জোরদার করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। দেশজুড়ে চলমান এই অভিযানে গত এক মাসে প্রায় ৫১ হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)।
সংস্থাটির ইতিহাসে এক মাসে এটিই সর্বোচ্চ গ্রেপ্তারের রেকর্ড।
আইসিইর প্রকাশিত তথ্য ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে সংস্থাটি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৬৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর আগে গত জুনে মাসে সর্বোচ্চ প্রায় ৪৩ হাজার গ্রেপ্তারের রেকর্ড ছিল। ফলে টানা দুই মাসে আইসিই নতুন গ্রেপ্তার রেকর্ড গড়ল।
দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশজুড়ে অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারীদের শনাক্ত, আটক ও বহিষ্কারের লক্ষ্যে ফেডারেল সংস্থাগুলোকে অভিযান জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিবাসন অভিযানের মাত্রা বেড়েছে। জর্জিয়ায় পরিচালিত একটি বিশেষ অভিবাসন অভিযানে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১ হাজার ২২৬ জনকে আটক করা হয়েছে।
এ ছাড়া গত মাসে বিমানবন্দরগুলোতেও ৩০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিবাসনবিষয়ক অভিযান বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বহিষ্কারের সংখ্যাও বেড়েছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে জুন পর্যন্ত ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮৯ জনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এই অভিযানকে অভিবাসন আইন কার্যকর করা এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের সরিয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছে। এ বিষয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন বলেন, অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের কমিউনিটি থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগের প্রতি সমর্থন রয়েছে ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিকের।
তার দাবি, অপরাধীদের সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে আরো নিরাপদ করা হচ্ছে। তবে ব্যাপক গ্রেপ্তার অভিযান নিয়ে সমালোচনাও বাড়ছে। অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক অভিযানে এমন ব্যক্তিরাও আটক হয়েছেন, যাদের কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড নেই। কারো কারো বৈধভাবে কাজ করার অনুমতিপত্র বা প্যারোলের নথিও ছিল।