ঢাকা , রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফাইনালে ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় আর্জেন্টিনা ও স্পেন

বিশ্বকাপ শুরুর কয়েক মাস আগে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও দক্ষিণ আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের আসরের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফিনালিসিমা’ ম্যাচটি কাতারে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পরিস্থিতি তীব্র হয়ে ওঠায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি বাতিল করা হয়। কে ভেবেছিল, সেই প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার কথা থাকা দুই ফুটবল শক্তি শেষ পর্যন্ত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের ১০৪তম ও শেষ ম্যাচে একে অপরের প্রতিপক্ষ হবে! রোববার ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শক তাকিয়ে থাকবে এই ঐতিহাসিক লড়াইয়ের দিকে। বিশ্বকাপে এ দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা এবার মাত্র দ্বিতীয়বার। এর আগে ১৯৬৬ সালে একমাত্র সাক্ষাতে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে জয় পেয়েছিল। স্পেন সাত ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করে ফাইনালে উঠেছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা সাত ম্যাচে ১৯টি গোল করে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী আক্রমণভাগের পরিচয় দিয়েছে। নিখুঁত সাফল্য ও ইতিহাসের হাতছানি আর্জেন্টিনার সামনে ৪৮ দলের নতুন কাঠামোর বিশ্বকাপে ফাইনালে উঠতে স্পেন ও আর্জেন্টিনাকে এবার আটটি ম্যাচের পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। নতুন নিয়মে যুক্ত হয়েছে ৩২ দলের পর্ব। স্পেন প্রায় নিখুঁত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। তারা ছয়টি ম্যাচ জিতেছে এবং একটি ম্যাচে ড্র করেছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত সব সাতটি ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে অপরাজিত রয়েছে। টানা সাত জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয় দল হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে। এর আগে ২০০২ সালের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল এই নজির গড়েছিল। স্পেনকে হারাতে পারলে লিওনেল স্কালোনির দল একসঙ্গে কয়েকটি ইতিহাস গড়বে। তারা এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ড গড়বে এবং একই আসরে শতভাগ জয়ের তালিকায় পঞ্চম দল হবে। এর আগে উরুগুয়ে ১৯৩০, ইতালি ১৯৩৮, ব্রাজিল ১৯৭০ ও ২০০২ সালে এই কীর্তি গড়েছিল। আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার পথ ছিল কঠিন। গ্রুপ পর্বে তারা আলজেরিয়াকে ৩-০, অস্ট্রিয়াকে ২-০ এবং জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারায়। পরের ধাপে কেপ ভার্দেকে অতিরিক্ত সময়ের লড়াইয়ে ৩-২ গোলে, মিসরকে ৩-২ গোলে, সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে এবং ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে পরাজিত করে। শেষ তিন ম্যাচেই পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। এতে প্রমাণ হয়েছে, টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণে তারা কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। রক্ষণে অনন্য স্পেন, শিরোপার পথে দুর্দান্ত যাত্রা অন্যদিকে স্পেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সেরা রক্ষণাত্মক পারফরম্যান্স দেখিয়ে ফাইনালে উঠেছে। সাত ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করা স্পেন এখন বিশ্বকাপজয়ী দলের মধ্যে সবচেয়ে কম গোল খাওয়ার নতুন রেকর্ড গড়ার দ্বারপ্রান্তে। অতীতের চ্যাম্পিয়নদের তুলনায় তারা একটি ম্যাচ বেশি খেলেও এমন কৃতিত্ব দেখাচ্ছে। আর্জেন্টিনাকে গোল করতে না দিলে তারা এককভাবে নতুন রেকর্ড গড়বে। আর একটি গোল হজম করলে তারা ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স, ২০০৬ সালের ইতালি ও ২০১০ সালের নিজেদের বিশ্বকাপজয়ী দলের রেকর্ডের সমতায় পৌঁছাবে। প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করার পর স্পেন দুর্দান্ত ছন্দে ফেরে। গ্রুপ পর্বে তারা সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে হারায় এবং উরুগুয়েকে ১-০ গোলে পরাজিত করে। নকআউট পর্বেও তাদের পারফরম্যান্স ছিল দারুণ। তারা অস্ট্রিয়াকে ৩-০, পর্তুগালকে ১-০, বেলজিয়ামকে ২-১ এবং সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। বিশ্বকাপের ফাইনাল হতে যাচ্ছে দুই ভিন্ন কৌশলের লড়াই। একদিকে আর্জেন্টিনার শক্তিশালী আক্রমণ ও লড়াকু মানসিকতা, অন্যদিকে স্পেনের দুর্ভেদ্য রক্ষণভাগ। নিউইয়র্কে শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই ফুটবল বিশ্ব প্রত্যক্ষ করবে এমন এক ম্যাচ, যা নিশ্চিতভাবেই ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

ফাইনালে ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় আর্জেন্টিনা ও স্পেন

আপডেট সময় ০১:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপ শুরুর কয়েক মাস আগে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও দক্ষিণ আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের আসরের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফিনালিসিমা’ ম্যাচটি কাতারে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পরিস্থিতি তীব্র হয়ে ওঠায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি বাতিল করা হয়। কে ভেবেছিল, সেই প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার কথা থাকা দুই ফুটবল শক্তি শেষ পর্যন্ত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের ১০৪তম ও শেষ ম্যাচে একে অপরের প্রতিপক্ষ হবে! রোববার ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শক তাকিয়ে থাকবে এই ঐতিহাসিক লড়াইয়ের দিকে। বিশ্বকাপে এ দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা এবার মাত্র দ্বিতীয়বার। এর আগে ১৯৬৬ সালে একমাত্র সাক্ষাতে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে জয় পেয়েছিল। স্পেন সাত ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করে ফাইনালে উঠেছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা সাত ম্যাচে ১৯টি গোল করে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী আক্রমণভাগের পরিচয় দিয়েছে। নিখুঁত সাফল্য ও ইতিহাসের হাতছানি আর্জেন্টিনার সামনে ৪৮ দলের নতুন কাঠামোর বিশ্বকাপে ফাইনালে উঠতে স্পেন ও আর্জেন্টিনাকে এবার আটটি ম্যাচের পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। নতুন নিয়মে যুক্ত হয়েছে ৩২ দলের পর্ব। স্পেন প্রায় নিখুঁত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। তারা ছয়টি ম্যাচ জিতেছে এবং একটি ম্যাচে ড্র করেছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত সব সাতটি ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে অপরাজিত রয়েছে। টানা সাত জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয় দল হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে। এর আগে ২০০২ সালের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল এই নজির গড়েছিল। স্পেনকে হারাতে পারলে লিওনেল স্কালোনির দল একসঙ্গে কয়েকটি ইতিহাস গড়বে। তারা এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ড গড়বে এবং একই আসরে শতভাগ জয়ের তালিকায় পঞ্চম দল হবে। এর আগে উরুগুয়ে ১৯৩০, ইতালি ১৯৩৮, ব্রাজিল ১৯৭০ ও ২০০২ সালে এই কীর্তি গড়েছিল। আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার পথ ছিল কঠিন। গ্রুপ পর্বে তারা আলজেরিয়াকে ৩-০, অস্ট্রিয়াকে ২-০ এবং জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারায়। পরের ধাপে কেপ ভার্দেকে অতিরিক্ত সময়ের লড়াইয়ে ৩-২ গোলে, মিসরকে ৩-২ গোলে, সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে এবং ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে পরাজিত করে। শেষ তিন ম্যাচেই পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। এতে প্রমাণ হয়েছে, টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণে তারা কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। রক্ষণে অনন্য স্পেন, শিরোপার পথে দুর্দান্ত যাত্রা অন্যদিকে স্পেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সেরা রক্ষণাত্মক পারফরম্যান্স দেখিয়ে ফাইনালে উঠেছে। সাত ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করা স্পেন এখন বিশ্বকাপজয়ী দলের মধ্যে সবচেয়ে কম গোল খাওয়ার নতুন রেকর্ড গড়ার দ্বারপ্রান্তে। অতীতের চ্যাম্পিয়নদের তুলনায় তারা একটি ম্যাচ বেশি খেলেও এমন কৃতিত্ব দেখাচ্ছে। আর্জেন্টিনাকে গোল করতে না দিলে তারা এককভাবে নতুন রেকর্ড গড়বে। আর একটি গোল হজম করলে তারা ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স, ২০০৬ সালের ইতালি ও ২০১০ সালের নিজেদের বিশ্বকাপজয়ী দলের রেকর্ডের সমতায় পৌঁছাবে। প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করার পর স্পেন দুর্দান্ত ছন্দে ফেরে। গ্রুপ পর্বে তারা সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে হারায় এবং উরুগুয়েকে ১-০ গোলে পরাজিত করে। নকআউট পর্বেও তাদের পারফরম্যান্স ছিল দারুণ। তারা অস্ট্রিয়াকে ৩-০, পর্তুগালকে ১-০, বেলজিয়ামকে ২-১ এবং সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। বিশ্বকাপের ফাইনাল হতে যাচ্ছে দুই ভিন্ন কৌশলের লড়াই। একদিকে আর্জেন্টিনার শক্তিশালী আক্রমণ ও লড়াকু মানসিকতা, অন্যদিকে স্পেনের দুর্ভেদ্য রক্ষণভাগ। নিউইয়র্কে শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই ফুটবল বিশ্ব প্রত্যক্ষ করবে এমন এক ম্যাচ, যা নিশ্চিতভাবেই ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে।