ঢাকা , রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছয় দেশ, তিন মহাদেশে বসছে ২০৩০ বিশ্বকাপ আসর

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ছয়টি দেশ ও তিনটি মহাদেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপনকে স্মরণীয় করে রাখতে দক্ষিণ আমেরিকায় বিশেষ ‘সেন্টেনারি ম্যাচ’ আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে ফিফা। এরপর মূল পর্বের খেলা হবে ইউরোপ ও আফ্রিকার তিন স্বাগতিক দেশে।

ফিফার প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, ২০৩০ বিশ্বকাপের শতবর্ষ উপলক্ষে ৮ ও ৯ জুন উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে একটি করে উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৩ ও ১৪ জুন মরক্কো, পর্তুগাল ও স্পেনে হবে মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক সূচনা।

বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হতে পারে ২১ জুলাই। যদিও এখনো পূর্ণাঙ্গ ম্যাচ সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি ফিফা।

২০৩০ বিশ্বকাপের অধিকাংশ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোয়। তবে বিশ্বকাপের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে একটি করে ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ পাচ্ছে।

ফিফার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বীকৃতি হিসেবে উরুগুয়ে একটি ম্যাচ আয়োজন করবে। একই আসরের রানার্সআপ হওয়ায় আর্জেন্টিনাকেও একটি ম্যাচ দেওয়া হয়েছে। আর প্যারাগুয়েকে ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবল-এর সদর দপ্তর দেশ হওয়ায়। বিশ্বকাপ শুরুর সময় কনমেবলই ছিল বিশ্বের একমাত্র মহাদেশীয় ফুটবল কনফেডারেশন।

বিশ্বকাপের স্বাগতিক হওয়ায় ইতোমধ্যে ছয়টি দেশ সরাসরি মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে। দেশগুলো হলো-স্পেন, পর্তুগাল, মরক্কো, উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে। বাকি ৪২টি দল ফিফার মহাদেশভিত্তিক বাছাইপর্বের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

যেসব দল দক্ষিণ আমেরিকার তিনটি শতবর্ষের ম্যাচ খেলবে, তাদের পরবর্তী গ্রুপ ম্যাচের আগে অতিরিক্ত ভ্রমণ ও বিশ্রামের সময় দেওয়া হবে। এসব গ্রুপের অন্য দলগুলো নিজেদের অভিযান শুরু করবে ১৫ ও ১৬ জুন। দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচগুলো হওয়ার কথা ২১ ও ২২ জুন।

বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ বিশ্বকাপেও অংশ নেবে ৪৮টি দল। এই ফরম্যাট প্রথম চালু হয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপে। তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ ৬৪ দলে উন্নীত করার একটি প্রস্তাব সংস্থাটি বিবেচনা করবে।

সুইস সংবাদমাধ্যম ব্লুউইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো বলেন, ৪৮ দলের বিশ্বকাপ অত্যন্ত সফল হয়েছে। এতে আরও বেশি দেশ বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল মঞ্চে খেলার সুযোগ পেয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে ফুটবলের প্রসার ঘটেছে। ছোট ফুটবল দেশগুলোর পারফরম্যান্সও এই সিদ্ধান্তকে সার্থক প্রমাণ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ফিফা ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে, ২০৩৪ সালের পুরুষদের বিশ্বকাপের আয়োজক হবে সৌদি আরব। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেশটিকে স্বাগতিক ঘোষণা করা হয়, কারণ একমাত্র বিড জমা দিয়েছিল সৌদি আরবই।

২০৩০ সালের ব্যতিক্রমী যৌথ আয়োজনের বিপরীতে ২০৩৪ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে একটি মাত্র দেশে। তবে সেই আসরের সূচি ও ম্যাচের সময়সূচি এখনো ঘোষণা করেনি ফিফা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

ছয় দেশ, তিন মহাদেশে বসছে ২০৩০ বিশ্বকাপ আসর

আপডেট সময় ০৪:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ছয়টি দেশ ও তিনটি মহাদেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপনকে স্মরণীয় করে রাখতে দক্ষিণ আমেরিকায় বিশেষ ‘সেন্টেনারি ম্যাচ’ আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে ফিফা। এরপর মূল পর্বের খেলা হবে ইউরোপ ও আফ্রিকার তিন স্বাগতিক দেশে।

ফিফার প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, ২০৩০ বিশ্বকাপের শতবর্ষ উপলক্ষে ৮ ও ৯ জুন উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে একটি করে উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৩ ও ১৪ জুন মরক্কো, পর্তুগাল ও স্পেনে হবে মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক সূচনা।

বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হতে পারে ২১ জুলাই। যদিও এখনো পূর্ণাঙ্গ ম্যাচ সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি ফিফা।

২০৩০ বিশ্বকাপের অধিকাংশ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোয়। তবে বিশ্বকাপের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে একটি করে ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ পাচ্ছে।

ফিফার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বীকৃতি হিসেবে উরুগুয়ে একটি ম্যাচ আয়োজন করবে। একই আসরের রানার্সআপ হওয়ায় আর্জেন্টিনাকেও একটি ম্যাচ দেওয়া হয়েছে। আর প্যারাগুয়েকে ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবল-এর সদর দপ্তর দেশ হওয়ায়। বিশ্বকাপ শুরুর সময় কনমেবলই ছিল বিশ্বের একমাত্র মহাদেশীয় ফুটবল কনফেডারেশন।

বিশ্বকাপের স্বাগতিক হওয়ায় ইতোমধ্যে ছয়টি দেশ সরাসরি মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে। দেশগুলো হলো-স্পেন, পর্তুগাল, মরক্কো, উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে। বাকি ৪২টি দল ফিফার মহাদেশভিত্তিক বাছাইপর্বের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

যেসব দল দক্ষিণ আমেরিকার তিনটি শতবর্ষের ম্যাচ খেলবে, তাদের পরবর্তী গ্রুপ ম্যাচের আগে অতিরিক্ত ভ্রমণ ও বিশ্রামের সময় দেওয়া হবে। এসব গ্রুপের অন্য দলগুলো নিজেদের অভিযান শুরু করবে ১৫ ও ১৬ জুন। দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচগুলো হওয়ার কথা ২১ ও ২২ জুন।

বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ বিশ্বকাপেও অংশ নেবে ৪৮টি দল। এই ফরম্যাট প্রথম চালু হয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপে। তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ ৬৪ দলে উন্নীত করার একটি প্রস্তাব সংস্থাটি বিবেচনা করবে।

সুইস সংবাদমাধ্যম ব্লুউইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো বলেন, ৪৮ দলের বিশ্বকাপ অত্যন্ত সফল হয়েছে। এতে আরও বেশি দেশ বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল মঞ্চে খেলার সুযোগ পেয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে ফুটবলের প্রসার ঘটেছে। ছোট ফুটবল দেশগুলোর পারফরম্যান্সও এই সিদ্ধান্তকে সার্থক প্রমাণ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ফিফা ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে, ২০৩৪ সালের পুরুষদের বিশ্বকাপের আয়োজক হবে সৌদি আরব। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেশটিকে স্বাগতিক ঘোষণা করা হয়, কারণ একমাত্র বিড জমা দিয়েছিল সৌদি আরবই।

২০৩০ সালের ব্যতিক্রমী যৌথ আয়োজনের বিপরীতে ২০৩৪ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে একটি মাত্র দেশে। তবে সেই আসরের সূচি ও ম্যাচের সময়সূচি এখনো ঘোষণা করেনি ফিফা।