ঢাকা , রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আসামে ভয়াবহ বন্যা, একদিনে ২১ জনের মৃত্যু

ভারতের আসামে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় গত ২৪ ঘন্টায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরের বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে। একই সঙ্গে রাজ্যের ১৬ জেলায় ৫ লাখ ৬৪ হাজারের বেশি মানুষ বন্যাকবলিত হয়েছেন। শিবসাগর জেলায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পর্যালোচনায় বুধবার (২২ জুলাই) থেকে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো সফর করবেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, উজানের মেঘভাঙা বৃষ্টির কারণে আসামে সাম্প্রতিক বন্যা আমাদের মানুষের জীবনে চরম দুর্ভোগ ডেকে এনেছে। আগামীকাল আমি চরাইদেও, নজিরা, শিবসাগর, সোনারি, জোরহাট ও তেওকের বন্যাকবলিত এলাকা এবং ত্রাণশিবির পরিদর্শন করে ত্রাণ কার্যক্রম পর্যালোচনা করব।

এএসডিএমএ জানায়, গোলাঘাট, কামরূপ, হোজাই, ডিব্রুগড়, বিশ্বনাথ, ধেমাজি, সোনিতপুর, উদালগুড়ি, নগাঁও, চরাইদেও, কামরূপ (মেট্রো), জোরহাট, তিনসুকিয়া, কার্বি আংলং, লখিমপুর ও শিবসাগর এই ১৬ জেলায় ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গত সোমবার ১৫ জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৬৩ হাজারের বেশি।

বুলেটিনে বলা হয়েছে, ৪৪টি রাজস্ব সার্কেলের আওতায় ৮৭২টি গ্রাম এখনও পানিতে তলিয়ে আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৫৩৫ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন শিবসাগরে। এরপর জোরহাটে ৮৭ হাজার ৬৬২ জন এবং চরাইদেওয়ে ৭২ হাজার ৬৪৬ জন বন্যাকবলিত হয়েছেন।

বর্তমানে ৭১টি ত্রাণশিবিরে ১২ হাজার ২৮৪ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া ২০২টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালু রয়েছে।

শিবসাগর জেলার শিবসাগর শহর ও নাংলামুরাঘাটে দিখৌ ও দিসাং নদীর পানি সর্বোচ্চ বন্যা স্তরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া নেমাতিঘাটে ব্রহ্মপুত্র, খোরাংয়ে বুড়িডিহিং এবং গোলাঘাট ও নুমালীগড়ে দক্ষিণ ধানসিরি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে।

কর্মকর্তারা জানান, ভারতীয় বিমান বাহিনী, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ) এবং ফায়ার অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সার্ভিসসহ একাধিক সংস্থা ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

রেললাইনে বন্যার পানি উঠে যাওয়ায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের (এনএফআর) প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা কপিঞ্জল কিশোর শর্মা বলেন, শিবসাগর জেলার শিমালুগুড়ি শহর ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ বন্যার কারণে মালুগুড়ি-নামতিয়ালি এবং শিমালুগুড়ি-সেলেংহাট রুটে ট্রেন চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

আসামে ভয়াবহ বন্যা, একদিনে ২১ জনের মৃত্যু

আপডেট সময় ১১:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ভারতের আসামে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় গত ২৪ ঘন্টায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরের বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে। একই সঙ্গে রাজ্যের ১৬ জেলায় ৫ লাখ ৬৪ হাজারের বেশি মানুষ বন্যাকবলিত হয়েছেন। শিবসাগর জেলায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পর্যালোচনায় বুধবার (২২ জুলাই) থেকে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো সফর করবেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, উজানের মেঘভাঙা বৃষ্টির কারণে আসামে সাম্প্রতিক বন্যা আমাদের মানুষের জীবনে চরম দুর্ভোগ ডেকে এনেছে। আগামীকাল আমি চরাইদেও, নজিরা, শিবসাগর, সোনারি, জোরহাট ও তেওকের বন্যাকবলিত এলাকা এবং ত্রাণশিবির পরিদর্শন করে ত্রাণ কার্যক্রম পর্যালোচনা করব।

এএসডিএমএ জানায়, গোলাঘাট, কামরূপ, হোজাই, ডিব্রুগড়, বিশ্বনাথ, ধেমাজি, সোনিতপুর, উদালগুড়ি, নগাঁও, চরাইদেও, কামরূপ (মেট্রো), জোরহাট, তিনসুকিয়া, কার্বি আংলং, লখিমপুর ও শিবসাগর এই ১৬ জেলায় ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গত সোমবার ১৫ জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৬৩ হাজারের বেশি।

বুলেটিনে বলা হয়েছে, ৪৪টি রাজস্ব সার্কেলের আওতায় ৮৭২টি গ্রাম এখনও পানিতে তলিয়ে আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৫৩৫ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন শিবসাগরে। এরপর জোরহাটে ৮৭ হাজার ৬৬২ জন এবং চরাইদেওয়ে ৭২ হাজার ৬৪৬ জন বন্যাকবলিত হয়েছেন।

বর্তমানে ৭১টি ত্রাণশিবিরে ১২ হাজার ২৮৪ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া ২০২টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালু রয়েছে।

শিবসাগর জেলার শিবসাগর শহর ও নাংলামুরাঘাটে দিখৌ ও দিসাং নদীর পানি সর্বোচ্চ বন্যা স্তরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া নেমাতিঘাটে ব্রহ্মপুত্র, খোরাংয়ে বুড়িডিহিং এবং গোলাঘাট ও নুমালীগড়ে দক্ষিণ ধানসিরি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে।

কর্মকর্তারা জানান, ভারতীয় বিমান বাহিনী, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ) এবং ফায়ার অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সার্ভিসসহ একাধিক সংস্থা ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

রেললাইনে বন্যার পানি উঠে যাওয়ায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের (এনএফআর) প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা কপিঞ্জল কিশোর শর্মা বলেন, শিবসাগর জেলার শিমালুগুড়ি শহর ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ বন্যার কারণে মালুগুড়ি-নামতিয়ালি এবং শিমালুগুড়ি-সেলেংহাট রুটে ট্রেন চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে।