ঢাকা , রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারকেই আলোচনায় আসতে হবে: সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দিপকে

ভারতের নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনে সরকার ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উত্তেজনা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। উভয় পক্ষই আলোচনার কথা বললেও, কে আগে উদ্যোগ নেবে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন টানাপোড়েন।

আন্দোলনকারীদের নেতৃত্বে থাকা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানিয়েছে, আলোচনার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি থেকে তারা একচুলও সরে আসবে না। ভারতীয় বার্তাসংস্থা এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে দুই মাস আগে আত্মপ্রকাশ করা ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দিপকে বলেন, ‘সরকার যদি আলোচনা করতে চায়, তাহলে তাদেরই এখানে আসতে হবে। আমাদের শর্ত মেনেই আলোচনা করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন সম্মত হয়। তাদের অহংকারের অবসান হওয়া উচিত।’

অন্যদিকে, সরকারি সূত্র জানিয়েছে, আন্দোলনকারীরা আলোচনায় এলে সরকার প্রস্তুত রয়েছে। তবে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে আলোচনা নিরপেক্ষ কোনো স্থানে বা যন্তর মন্তরে হতে পারে। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি থেকে আমরা সরে আসব না।’

এদিন দুপুরে সরকার ও আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বিতীয় দফা বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।

নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে আন্দোলনের ৩২তম দিনে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিজিৎ দিপকে সরকারের বিরুদ্ধে আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণের অভিযোগ তোলেন।

তার দাবি, সরকার একদিকে আলোচনার আহ্বান জানালেও অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অভিযান চালিয়েছে।

দিপকে বলেন, ‘সরকার আমাদের সময় নষ্ট করেছে। তারা আমাদের প্রতিনিধিদলকে ডেকেছিল, মোবাইল ফোন নিয়ে নিয়েছিল। আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে কার্যত জেপি নাড্ডার বাসভবনে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছিল।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘সরকারের উদ্দেশ্য ছিল আমাদের দলকে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া। একদিকে আলোচনা, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ এভাবে কোনো সংলাপ হতে পারে না।’

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

এর আগে সোমবার ককরোচ জনতা পার্টির দুই প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেন বিজেপির সভাপতি জেপি নাড্ডা। বৈঠকে তিনি আন্দোলনকারীদের দাবি নিয়ে সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করার আশ্বাস দেন।

একই দিন হাজারো শিক্ষার্থী সংসদ ভবনের দিকে মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই সহিংসতার জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারকেই আলোচনায় আসতে হবে: সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দিপকে

আপডেট সময় ০৩:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ভারতের নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনে সরকার ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উত্তেজনা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। উভয় পক্ষই আলোচনার কথা বললেও, কে আগে উদ্যোগ নেবে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন টানাপোড়েন।

আন্দোলনকারীদের নেতৃত্বে থাকা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানিয়েছে, আলোচনার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি থেকে তারা একচুলও সরে আসবে না। ভারতীয় বার্তাসংস্থা এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে দুই মাস আগে আত্মপ্রকাশ করা ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দিপকে বলেন, ‘সরকার যদি আলোচনা করতে চায়, তাহলে তাদেরই এখানে আসতে হবে। আমাদের শর্ত মেনেই আলোচনা করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন সম্মত হয়। তাদের অহংকারের অবসান হওয়া উচিত।’

অন্যদিকে, সরকারি সূত্র জানিয়েছে, আন্দোলনকারীরা আলোচনায় এলে সরকার প্রস্তুত রয়েছে। তবে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে আলোচনা নিরপেক্ষ কোনো স্থানে বা যন্তর মন্তরে হতে পারে। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি থেকে আমরা সরে আসব না।’

এদিন দুপুরে সরকার ও আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বিতীয় দফা বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।

নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে আন্দোলনের ৩২তম দিনে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিজিৎ দিপকে সরকারের বিরুদ্ধে আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণের অভিযোগ তোলেন।

তার দাবি, সরকার একদিকে আলোচনার আহ্বান জানালেও অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অভিযান চালিয়েছে।

দিপকে বলেন, ‘সরকার আমাদের সময় নষ্ট করেছে। তারা আমাদের প্রতিনিধিদলকে ডেকেছিল, মোবাইল ফোন নিয়ে নিয়েছিল। আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে কার্যত জেপি নাড্ডার বাসভবনে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছিল।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘সরকারের উদ্দেশ্য ছিল আমাদের দলকে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া। একদিকে আলোচনা, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ এভাবে কোনো সংলাপ হতে পারে না।’

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

এর আগে সোমবার ককরোচ জনতা পার্টির দুই প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেন বিজেপির সভাপতি জেপি নাড্ডা। বৈঠকে তিনি আন্দোলনকারীদের দাবি নিয়ে সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করার আশ্বাস দেন।

একই দিন হাজারো শিক্ষার্থী সংসদ ভবনের দিকে মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই সহিংসতার জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে।