ঢাকা , রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘অদৃশ্য’ শিক্ষার্থী দেখিয়ে উদ্বৃত্ত খাবার আত্মসাৎ

পাবনার বেড়া উপজেলার একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ‘অদৃশ্য’ শিক্ষার্থী দেখিয়ে অতিরিক্ত শিশুখাদ্য বরাদ্দ নেওয়া, উদ্বৃত্ত ডিম-রুটি, দুধ, কলা ও বিস্কুট আত্মসাতের অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে কোটি কোটি টাকার এ সরকারি প্রকল্প। উদ্বৃত্ত খাবার শিক্ষকদের খাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। শিশুদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি ও পুষ্টি নিশ্চিত করার যে লক্ষ্য নিয়ে কর্মসূচিটি চালু হয়েছিল, বাস্তবে তা কতটা অর্জিত হয়েছে, সে প্রশ্নও এখন জোরালো হয়ে উঠেছে। বেড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে চালু হয় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি। এ কর্মসূচির আওতায় সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে ডিম, বনরুটি, দুধ, বিস্কুট ও কলা বিতরণ করা হয়। জেলার মধ্যে শুধু বেড়া উপজেলা স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতার মধ্যে আছে। উপজেলার ১১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ২৪ হাজার ৬৫৮ শিক্ষার্থী রয়েছে। এদের মধ্যে গড়ে ৯০ শতাংশ হারে ২২ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিদিন স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়। বেলা সাড়ে ১১টায় ৩৬ নম্বর ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে হাজিরা খাতায় ১১১ জন শিক্ষার্থী পাওয়া যায়। যদিও বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ১৯০ জন। স্থানীয়দের দাবি, ১৭১ জনের নামে প্রতিদিন শিশুখাদ্য বরাদ্দ আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জনের খাবার উদ্বৃত্ত থাকে, যা শিক্ষকরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন। বেঁচে যাওয়া খাবারের বিষয়ে জানতে চাইলে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসরাইল হোসেন জানান, পচনশীল খাবার যেমন ডিম, পাউরুটি, কলা অনেক সময় তারা নেন। তবে দুধ ও বিস্কুট তারা স্টকে রেখে দেন। দুপুর ১২টার দিকে রূপগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাত্র ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে মোট শিক্ষার্থী ১০৪ জন এবং ৯১ জনের জন্য খাবার বরাদ্দ রয়েছে।
মির্জাপুর-শীতলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হাজিরা খাতায় ৩৬ জন উপস্থিত দেখানো হলেও দ্বিতীয় শিফটে দুপুর ২টার দিকে পাওয়া যায় মাত্র সাতজন শিক্ষার্থী। দেখা গেছে তৃতীয় শ্রেণিতে তিনজন ও চতুর্থ শ্রেণিতে চারজন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি। এখানে শিক্ষার্থীর সংখা ৫৬ জন।
একাধিক অভিভাবকরা জানান, অর্ধশতাধিক ভুয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে খাদ্য বরাদ্দ নেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত খাবার শিক্ষকরা ভাগ করে নেন। তবে এ কর্মসূচি শিক্ষার্থী উপস্থিতি বাড়াতে কার্যকর হয়নি; বরং উদ্বৃত্ত খাবার আত্মসাতের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে বেড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার জানা মতে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের কিছু কিছু বিদ্যালয়ে উপস্থিতি কম থাকলে উদ্বৃত্ত খাবারও উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। তবুও সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হবে এবং সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ইউএনও বলেন, তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

‘অদৃশ্য’ শিক্ষার্থী দেখিয়ে উদ্বৃত্ত খাবার আত্মসাৎ

আপডেট সময় ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
পাবনার বেড়া উপজেলার একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ‘অদৃশ্য’ শিক্ষার্থী দেখিয়ে অতিরিক্ত শিশুখাদ্য বরাদ্দ নেওয়া, উদ্বৃত্ত ডিম-রুটি, দুধ, কলা ও বিস্কুট আত্মসাতের অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে কোটি কোটি টাকার এ সরকারি প্রকল্প। উদ্বৃত্ত খাবার শিক্ষকদের খাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। শিশুদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি ও পুষ্টি নিশ্চিত করার যে লক্ষ্য নিয়ে কর্মসূচিটি চালু হয়েছিল, বাস্তবে তা কতটা অর্জিত হয়েছে, সে প্রশ্নও এখন জোরালো হয়ে উঠেছে। বেড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে চালু হয় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি। এ কর্মসূচির আওতায় সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে ডিম, বনরুটি, দুধ, বিস্কুট ও কলা বিতরণ করা হয়। জেলার মধ্যে শুধু বেড়া উপজেলা স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতার মধ্যে আছে। উপজেলার ১১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ২৪ হাজার ৬৫৮ শিক্ষার্থী রয়েছে। এদের মধ্যে গড়ে ৯০ শতাংশ হারে ২২ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিদিন স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়। বেলা সাড়ে ১১টায় ৩৬ নম্বর ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে হাজিরা খাতায় ১১১ জন শিক্ষার্থী পাওয়া যায়। যদিও বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ১৯০ জন। স্থানীয়দের দাবি, ১৭১ জনের নামে প্রতিদিন শিশুখাদ্য বরাদ্দ আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জনের খাবার উদ্বৃত্ত থাকে, যা শিক্ষকরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন। বেঁচে যাওয়া খাবারের বিষয়ে জানতে চাইলে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসরাইল হোসেন জানান, পচনশীল খাবার যেমন ডিম, পাউরুটি, কলা অনেক সময় তারা নেন। তবে দুধ ও বিস্কুট তারা স্টকে রেখে দেন। দুপুর ১২টার দিকে রূপগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাত্র ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে মোট শিক্ষার্থী ১০৪ জন এবং ৯১ জনের জন্য খাবার বরাদ্দ রয়েছে।
মির্জাপুর-শীতলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হাজিরা খাতায় ৩৬ জন উপস্থিত দেখানো হলেও দ্বিতীয় শিফটে দুপুর ২টার দিকে পাওয়া যায় মাত্র সাতজন শিক্ষার্থী। দেখা গেছে তৃতীয় শ্রেণিতে তিনজন ও চতুর্থ শ্রেণিতে চারজন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি। এখানে শিক্ষার্থীর সংখা ৫৬ জন।
একাধিক অভিভাবকরা জানান, অর্ধশতাধিক ভুয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে খাদ্য বরাদ্দ নেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত খাবার শিক্ষকরা ভাগ করে নেন। তবে এ কর্মসূচি শিক্ষার্থী উপস্থিতি বাড়াতে কার্যকর হয়নি; বরং উদ্বৃত্ত খাবার আত্মসাতের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে বেড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার জানা মতে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের কিছু কিছু বিদ্যালয়ে উপস্থিতি কম থাকলে উদ্বৃত্ত খাবারও উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। তবুও সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হবে এবং সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ইউএনও বলেন, তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’