ঢাকা , রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোনো বাধা ছাড়াই দেশত্যাগের সমঝোতায় পদত্যাগ করেন সাহাবুদ্দিন

কোনো বাধা ছাড়াইদেশ ছাড়ার সমঝোতার পর পদত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বিএনপির সঙ্গে এই সমঝোতার ভিত্তিতেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন বলে দাবি একাধিক রাজনৈতিক সূত্রের।
সমঝোতা অনুযায়ী, পদত্যাগের পর তিনি যেন কোনো বাধা ছাড়াই দেশ ছাড়তে পারেন- এ বিষয়ে আশ্বাস পান। টাইমস অফ বাংলাদেশের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলা। সূত্রগুলো জানায়, বিএনপি শুধু সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের আওতায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর জন্য তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে তার বিরুদ্ধে থাকা কোনো মামলা বা বিতর্কের দায় নিতে দলটি রাজি নয়।
বিএনপির নেতাদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত হওয়ায় সাহাবুদ্দিনের দ্রুত দেশ ত্যাগ করাই নিরাপদ। পদত্যাগের পর গণমাধ্যমকে তিনি নিজেও জানান, শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ হলে ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে বিদেশে যাবেন। এদিকে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন এবং এ বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারণী সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ এবং এ-সংক্রান্ত সমঝোতার বিষয়টি জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাও আগেই জানতেন। জামায়াতের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের চাপ ছিল। সার্বিক দিক বিবেচনা করে বিএনপিও তাকে আর রাখতে চায়নি। অবশেষে একটি সম্মানজনক বিদায়ের মাধ্যমেই তাকে বিদায় জানানোর পথ বেছে নেয় বিএনপি।’ কৌশলগত কারণে বিএনপি নেতারা এবং সরকারের প্রতিনিধিরা সাহাবুদ্দিনের ‘গুরুতর অসুস্থতা’-কেই পদত্যাগের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণেই রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছেন, এর বাইরে আর কিছু বলার নেই। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোনো মামলা দায়ের হলে তা খতিয়ে দেখা হবে। সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে সুরক্ষা দেয়। তবে আইনগত সুরক্ষা দিলেও রাষ্ট্রপতি হওয়ার পূর্বে সাহাবুদ্দিনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের দায় বিএনপি নেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। এর আগে গত ২৪ জুলাই স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মো. সাহাবুদ্দিন। পরবর্তীতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তার পদত্যাগ এবং স্পিকার কর্তৃক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। আগামী সেপ্টেম্বরে বসতে যাওয়া জাতীয় সংসদ অধিবেশনেই দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

কোনো বাধা ছাড়াই দেশত্যাগের সমঝোতায় পদত্যাগ করেন সাহাবুদ্দিন

আপডেট সময় ০৪:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
কোনো বাধা ছাড়াইদেশ ছাড়ার সমঝোতার পর পদত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বিএনপির সঙ্গে এই সমঝোতার ভিত্তিতেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন বলে দাবি একাধিক রাজনৈতিক সূত্রের।
সমঝোতা অনুযায়ী, পদত্যাগের পর তিনি যেন কোনো বাধা ছাড়াই দেশ ছাড়তে পারেন- এ বিষয়ে আশ্বাস পান। টাইমস অফ বাংলাদেশের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলা। সূত্রগুলো জানায়, বিএনপি শুধু সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের আওতায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর জন্য তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে তার বিরুদ্ধে থাকা কোনো মামলা বা বিতর্কের দায় নিতে দলটি রাজি নয়।
বিএনপির নেতাদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত হওয়ায় সাহাবুদ্দিনের দ্রুত দেশ ত্যাগ করাই নিরাপদ। পদত্যাগের পর গণমাধ্যমকে তিনি নিজেও জানান, শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ হলে ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে বিদেশে যাবেন। এদিকে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন এবং এ বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারণী সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ এবং এ-সংক্রান্ত সমঝোতার বিষয়টি জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাও আগেই জানতেন। জামায়াতের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের চাপ ছিল। সার্বিক দিক বিবেচনা করে বিএনপিও তাকে আর রাখতে চায়নি। অবশেষে একটি সম্মানজনক বিদায়ের মাধ্যমেই তাকে বিদায় জানানোর পথ বেছে নেয় বিএনপি।’ কৌশলগত কারণে বিএনপি নেতারা এবং সরকারের প্রতিনিধিরা সাহাবুদ্দিনের ‘গুরুতর অসুস্থতা’-কেই পদত্যাগের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণেই রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছেন, এর বাইরে আর কিছু বলার নেই। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোনো মামলা দায়ের হলে তা খতিয়ে দেখা হবে। সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে সুরক্ষা দেয়। তবে আইনগত সুরক্ষা দিলেও রাষ্ট্রপতি হওয়ার পূর্বে সাহাবুদ্দিনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের দায় বিএনপি নেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। এর আগে গত ২৪ জুলাই স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মো. সাহাবুদ্দিন। পরবর্তীতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তার পদত্যাগ এবং স্পিকার কর্তৃক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। আগামী সেপ্টেম্বরে বসতে যাওয়া জাতীয় সংসদ অধিবেশনেই দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।