ঢাকা , রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ ‘ক্যারিয়ার অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন বাংলাদেশি গবেষক সুমাইয়া সমাজী

যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ ‘ক্যারিয়ার অ্যাওয়ার্ড' পেয়েছেন বাংলাদেশি গবেষক সুমাইয়া সমাজী। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের (কেইউ) ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তিনি।
অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত সুমাইয়া সমাজীর বাবা বাংলাদেশের খ্যাতিমান আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী। যিনি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং কর্মজীবনে ইউএনডিপি-বাংলাদেশের ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট (সিআরপিসি), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ প্রসিকিউটোরিয়াল উপদেষ্টা, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফেডারেশন (এনএসএফ) তরুণ গবেষকদের ‘ক্যারিয়ার’ অ্যাওয়ার্ড দিয়ে থাকে। এটা তরুণদের জন্য দেশটির সর্বোচ্চ পুরস্কারগুলোর অন্যতম। এই পুরস্কার পাওয়ায় সুমাইয়া সমাজী আগামী পাঁচ বছরে গবেষণার জন্য প্রায় পাঁচ লাখ ডলার পাবেন।
সুমাইয়া সমাজীর গবেষণার বিষয় ‘সরবরাহ ব্যবস্থার (সাপ্লাই চেইন) নিরাপত্তা’। বর্তমান বিশ্বে কম্পিউটার চিপ, ওষুধ ও নিত্যপণ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যগুলো নানা হাত ঘুরে গ্রাহকের কাছে পৌঁছায়। এই সরবরাহ ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল হওয়ায় পণ্যগুলোর উৎস এবং সেগুলো আসল কি না, তা যাচাই করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। নকল পণ্য শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকিই তৈরি করে না, জননিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। সুমাইয়ার গবেষণার লক্ষ্য হলো, এমন একটি নিরাপদ ও উন্নত ডিজিটাল ব্যবস্থা তৈরি করা, যার মাধ্যমে সহজেই পণ্য ও ব্যক্তির আসল পরিচয় যাচাই করা যাবে। এই প্রযুক্তি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত নকল পণ্য শনাক্ত করতে সাহায্য করবে। ফলে বড় সরবরাহ ব্যবস্থা এবং উচ্চ নিরাপত্তার প্রয়োজন হয়, এমন জায়গাগুলোতে মানুষের আস্থা বাড়বে। সুমাইয়া সমাজীর সঙ্গে এবার কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও দুই সহকারী অধ্যাপক ‘ক্যারিয়ার’ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। তাদের মধ্যে কেমিক্যাল অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আনা মোরাইস সহজে রিসাইকেল (পুনরায় ব্যবহারযোগ্য) করা যায় না এমন প্লাস্টিক (পলিপ্রোপাইলিন) নিয়ে কাজ করছেন। অন্যদিকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের জিজুন ইয়াও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নিরাপদ ও ঝুঁকিহীন ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গবেষণা করছেন। বর্তমানে কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০ জন সহকারী অধ্যাপকের মধ্যে ১১ জনই বিভিন্ন সময় এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পেয়েছেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ ‘ক্যারিয়ার অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন বাংলাদেশি গবেষক সুমাইয়া সমাজী

আপডেট সময় ১০:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ ‘ক্যারিয়ার অ্যাওয়ার্ড' পেয়েছেন বাংলাদেশি গবেষক সুমাইয়া সমাজী। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের (কেইউ) ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তিনি।
অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত সুমাইয়া সমাজীর বাবা বাংলাদেশের খ্যাতিমান আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী। যিনি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং কর্মজীবনে ইউএনডিপি-বাংলাদেশের ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট (সিআরপিসি), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ প্রসিকিউটোরিয়াল উপদেষ্টা, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফেডারেশন (এনএসএফ) তরুণ গবেষকদের ‘ক্যারিয়ার’ অ্যাওয়ার্ড দিয়ে থাকে। এটা তরুণদের জন্য দেশটির সর্বোচ্চ পুরস্কারগুলোর অন্যতম। এই পুরস্কার পাওয়ায় সুমাইয়া সমাজী আগামী পাঁচ বছরে গবেষণার জন্য প্রায় পাঁচ লাখ ডলার পাবেন।
সুমাইয়া সমাজীর গবেষণার বিষয় ‘সরবরাহ ব্যবস্থার (সাপ্লাই চেইন) নিরাপত্তা’। বর্তমান বিশ্বে কম্পিউটার চিপ, ওষুধ ও নিত্যপণ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যগুলো নানা হাত ঘুরে গ্রাহকের কাছে পৌঁছায়। এই সরবরাহ ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল হওয়ায় পণ্যগুলোর উৎস এবং সেগুলো আসল কি না, তা যাচাই করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। নকল পণ্য শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকিই তৈরি করে না, জননিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। সুমাইয়ার গবেষণার লক্ষ্য হলো, এমন একটি নিরাপদ ও উন্নত ডিজিটাল ব্যবস্থা তৈরি করা, যার মাধ্যমে সহজেই পণ্য ও ব্যক্তির আসল পরিচয় যাচাই করা যাবে। এই প্রযুক্তি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত নকল পণ্য শনাক্ত করতে সাহায্য করবে। ফলে বড় সরবরাহ ব্যবস্থা এবং উচ্চ নিরাপত্তার প্রয়োজন হয়, এমন জায়গাগুলোতে মানুষের আস্থা বাড়বে। সুমাইয়া সমাজীর সঙ্গে এবার কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও দুই সহকারী অধ্যাপক ‘ক্যারিয়ার’ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। তাদের মধ্যে কেমিক্যাল অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আনা মোরাইস সহজে রিসাইকেল (পুনরায় ব্যবহারযোগ্য) করা যায় না এমন প্লাস্টিক (পলিপ্রোপাইলিন) নিয়ে কাজ করছেন। অন্যদিকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের জিজুন ইয়াও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নিরাপদ ও ঝুঁকিহীন ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গবেষণা করছেন। বর্তমানে কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০ জন সহকারী অধ্যাপকের মধ্যে ১১ জনই বিভিন্ন সময় এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পেয়েছেন।