ঢাকা , রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেষের গোল বাতিলে ড্র করে অপেক্ষায় ইরান, নকআউটে বেলজিয়াম-মিসর

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার আশা এখনো বেঁচে থাকলেও অনিশ্চয়তায় রয়েছে ইরান। মিসরের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করা ম্যাচে শেষ মুহূর্তে করা একটি জয়সূচক গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হওয়ায় নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
শেষ বত্রিশে ওঠা আগেই নিশ্চিত করা মিশর ম্যাচের মাত্র পাঁচ মিনিটেই এগিয়ে যায়। মাহমুদ সাবেরের গোলে শুরুতেই লিড পায় দলটি। তবে ম্যাচের ১৪তম মিনিটে কঠিন কোণ থেকে রামিন রেজাইয়ানের গোলে সমতায় ফেরে ইরান। শুরুর দিকের দ্রুতগতির খেলার পর ম্যাচের উত্তেজনা কিছুটা কমে যায় এবং মাঝমাঠে লড়াই বেশি দেখা যায়। তবে শেষ মুহূর্তে আবারও নাটকীয়তা ফিরে আসে।
ম্যাচের শেষ দিকে মেহদি তারেমির একটি হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এরপর অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে শোজা খলিলজাদেহ বল জালে পাঠালে ইরান শিবিরে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। বেঞ্চে থাকা খেলোয়াড়রাও মাঠে ঢুকে উদ্‌যাপন শুরু করেন। কিন্তু পরে ভিডিও সহায়তায় দেখা যায়, গোলের সময় খলিলজাদেহ সামান্য অফসাইড অবস্থানে ছিলেন। ফলে গোল বাতিল হয়ে যায় এবং মিশর ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে। এই ফলাফলের ফলে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে মিশর গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। সমান পয়েন্ট থাকা বেলজিয়াম গোল ব্যবধানে শীর্ষে রয়েছে। নকআউট পর্বে আগামী ৩ জুলাই ডালাসে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে মিশর। অন্যদিকে তিন পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা ইরানকে এখন অপেক্ষা করতে হবে, সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দলের একটি হিসেবে তারা শেষ বত্রিশে উঠতে পারে কি না। গ্যালারিতে মিশরের বিপুলসংখ্যক সমর্থকের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে ইরানের সমর্থকদের উপস্থিতিও কম ছিল না। তাদের কেউ কেউ পুরোনো জাতীয় পতাকা উড়িয়েছেন, আবার কেউ জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় প্রতিবাদও জানিয়েছেন। ম্যাচের শুরুতে মিশরের আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মোহাম্মদ সালাহ। তার আক্রমণ থেকেই বল পেয়ে গোল করেন মাহমুদ সাবের। যদিও শটটি খুব জোরালো ছিল না, তবুও ইরানের গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্ডের হাত ফসকে বল জালে ঢুকে যায়। পরে ইরান একটি পেনাল্টিও পেয়েছিল। কিন্তু মেহদি তারেমির নেওয়া সেই শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। যদিও পরবর্তী আক্রমণে ফিরতি বলে গোল করে সমতা ফেরান রেজাইয়ান। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেও কাঙ্ক্ষিত জয় না পাওয়ায় এখন ইরানের ভাগ্য আর তাদের নিজেদের হাতে নেই। এখন অন্য ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করতে হবে তাদের।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

শেষের গোল বাতিলে ড্র করে অপেক্ষায় ইরান, নকআউটে বেলজিয়াম-মিসর

আপডেট সময় ১২:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার আশা এখনো বেঁচে থাকলেও অনিশ্চয়তায় রয়েছে ইরান। মিসরের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করা ম্যাচে শেষ মুহূর্তে করা একটি জয়সূচক গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হওয়ায় নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
শেষ বত্রিশে ওঠা আগেই নিশ্চিত করা মিশর ম্যাচের মাত্র পাঁচ মিনিটেই এগিয়ে যায়। মাহমুদ সাবেরের গোলে শুরুতেই লিড পায় দলটি। তবে ম্যাচের ১৪তম মিনিটে কঠিন কোণ থেকে রামিন রেজাইয়ানের গোলে সমতায় ফেরে ইরান। শুরুর দিকের দ্রুতগতির খেলার পর ম্যাচের উত্তেজনা কিছুটা কমে যায় এবং মাঝমাঠে লড়াই বেশি দেখা যায়। তবে শেষ মুহূর্তে আবারও নাটকীয়তা ফিরে আসে।
ম্যাচের শেষ দিকে মেহদি তারেমির একটি হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এরপর অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে শোজা খলিলজাদেহ বল জালে পাঠালে ইরান শিবিরে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। বেঞ্চে থাকা খেলোয়াড়রাও মাঠে ঢুকে উদ্‌যাপন শুরু করেন। কিন্তু পরে ভিডিও সহায়তায় দেখা যায়, গোলের সময় খলিলজাদেহ সামান্য অফসাইড অবস্থানে ছিলেন। ফলে গোল বাতিল হয়ে যায় এবং মিশর ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে। এই ফলাফলের ফলে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে মিশর গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। সমান পয়েন্ট থাকা বেলজিয়াম গোল ব্যবধানে শীর্ষে রয়েছে। নকআউট পর্বে আগামী ৩ জুলাই ডালাসে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে মিশর। অন্যদিকে তিন পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা ইরানকে এখন অপেক্ষা করতে হবে, সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দলের একটি হিসেবে তারা শেষ বত্রিশে উঠতে পারে কি না। গ্যালারিতে মিশরের বিপুলসংখ্যক সমর্থকের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে ইরানের সমর্থকদের উপস্থিতিও কম ছিল না। তাদের কেউ কেউ পুরোনো জাতীয় পতাকা উড়িয়েছেন, আবার কেউ জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় প্রতিবাদও জানিয়েছেন। ম্যাচের শুরুতে মিশরের আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মোহাম্মদ সালাহ। তার আক্রমণ থেকেই বল পেয়ে গোল করেন মাহমুদ সাবের। যদিও শটটি খুব জোরালো ছিল না, তবুও ইরানের গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্ডের হাত ফসকে বল জালে ঢুকে যায়। পরে ইরান একটি পেনাল্টিও পেয়েছিল। কিন্তু মেহদি তারেমির নেওয়া সেই শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। যদিও পরবর্তী আক্রমণে ফিরতি বলে গোল করে সমতা ফেরান রেজাইয়ান। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেও কাঙ্ক্ষিত জয় না পাওয়ায় এখন ইরানের ভাগ্য আর তাদের নিজেদের হাতে নেই। এখন অন্য ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করতে হবে তাদের।