ঢাকা , রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডায়ালিসিস নিয়ে ভুল ধারণা

আমাদের শরীর থেকে মূত্রের মাধ্যমে বর্জ্য পদার্থ বের করে দিতে কিডনি বা বৃক্ক বড় ভূমিকা পালন করে। যখন আমাদের কিডনি খারাপ, নষ্ট হয়ে যায় বা ঠিকমতো কাজ করে না তখন আমাদের শরীরে বর্জ্য পদার্থ জমে বিষক্রিয়া শুরু হয়। তাই কৃত্রিমভাবে বর্জ্য পদার্থ বা বিষগুলো বের করে দেওয়ার জন্য ডায়ালিসিসের দরকার পড়ে।
কখন ডায়ালিসিস করবেন : বয়স্কদের ক্ষেত্রে কিডনির কাজ করার ক্ষমতা শতকরা দশ ভাগের নিচে নেমে গেলে ডায়ালিসিস শুরু করা হয়। কিডনি আক্রান্ত রোগীর যখন নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হবে, বমি বমি ভাব হবে, পুষ্টির ঘাটতি দেখা যাবে, শরীরে অত্যধিক পানি জমে যেতে শুরু করবে। তখন তার ডায়ালিসিসের প্রয়োজন হবে। শিশুদের ক্ষেত্রে যদি দেখা যায় তাদের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তখন ডায়ালিসিস শুরু করা যেতে পারে। লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই ডায়ালিসিস করতে হবে।
ডায়ালিসিস কীভাবে হয় : শরীরের বর্জ্য পদার্থ দূষিত রক্তের মাধ্যমে বাহিত হয়। শিরা দূষিত রক্ত বহন করে নিয়ে যায়। ডায়ালিসিসে এই রক্তকেই শোধন করা হয়। ডায়ালিসিস দুভাবে করা হয়।
১. ডায়ালিসিসে আমাদের শরীর থেকে রক্ত বের করে পরিশ্রুত করে আমাদের শরীরে প্রবেশ করানো হয়। এই পদ্ধতিকে বলা হয় হিমোডায়ালসিস।  ২. আমাদের পেটের মধ্যে নল ঢুকিয়ে তার মধ্য দিয়ে ডায়ালিসিসের সলিউশন দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট সময়ের পরে সেটিকে আবার বের করে নেওয়া হয়। একে বলা হয় পেরিটোনিয়াল ডায়ালিসিস। এই দুই পদ্ধতিতেই ভালো ও খারাপ রয়েছে। যেমন হিমোডায়ালিসিসের জন্য ডায়ালিসিস কেন্দ্রের দরকার পড়ে এবং সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার সেখানে যেতে হবে। কিন্তু পেরিটোনিয়াল ডায়ালিসিসের ক্ষেত্রে বাড়িতে বসেই করা সম্ভব হয়।
রোগীর অবস্থা বুঝে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ডায়ালিসিসের প্রয়োজন হয়। প্রক্রিয়াটি শেষ হতে সাড়ে তিন ঘণ্টা থেকে চার ঘণ্টা সময় লাগে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

ডায়ালিসিস নিয়ে ভুল ধারণা

আপডেট সময় ০৬:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
আমাদের শরীর থেকে মূত্রের মাধ্যমে বর্জ্য পদার্থ বের করে দিতে কিডনি বা বৃক্ক বড় ভূমিকা পালন করে। যখন আমাদের কিডনি খারাপ, নষ্ট হয়ে যায় বা ঠিকমতো কাজ করে না তখন আমাদের শরীরে বর্জ্য পদার্থ জমে বিষক্রিয়া শুরু হয়। তাই কৃত্রিমভাবে বর্জ্য পদার্থ বা বিষগুলো বের করে দেওয়ার জন্য ডায়ালিসিসের দরকার পড়ে।
কখন ডায়ালিসিস করবেন : বয়স্কদের ক্ষেত্রে কিডনির কাজ করার ক্ষমতা শতকরা দশ ভাগের নিচে নেমে গেলে ডায়ালিসিস শুরু করা হয়। কিডনি আক্রান্ত রোগীর যখন নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হবে, বমি বমি ভাব হবে, পুষ্টির ঘাটতি দেখা যাবে, শরীরে অত্যধিক পানি জমে যেতে শুরু করবে। তখন তার ডায়ালিসিসের প্রয়োজন হবে। শিশুদের ক্ষেত্রে যদি দেখা যায় তাদের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তখন ডায়ালিসিস শুরু করা যেতে পারে। লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই ডায়ালিসিস করতে হবে।
ডায়ালিসিস কীভাবে হয় : শরীরের বর্জ্য পদার্থ দূষিত রক্তের মাধ্যমে বাহিত হয়। শিরা দূষিত রক্ত বহন করে নিয়ে যায়। ডায়ালিসিসে এই রক্তকেই শোধন করা হয়। ডায়ালিসিস দুভাবে করা হয়।
১. ডায়ালিসিসে আমাদের শরীর থেকে রক্ত বের করে পরিশ্রুত করে আমাদের শরীরে প্রবেশ করানো হয়। এই পদ্ধতিকে বলা হয় হিমোডায়ালসিস।  ২. আমাদের পেটের মধ্যে নল ঢুকিয়ে তার মধ্য দিয়ে ডায়ালিসিসের সলিউশন দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট সময়ের পরে সেটিকে আবার বের করে নেওয়া হয়। একে বলা হয় পেরিটোনিয়াল ডায়ালিসিস। এই দুই পদ্ধতিতেই ভালো ও খারাপ রয়েছে। যেমন হিমোডায়ালিসিসের জন্য ডায়ালিসিস কেন্দ্রের দরকার পড়ে এবং সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার সেখানে যেতে হবে। কিন্তু পেরিটোনিয়াল ডায়ালিসিসের ক্ষেত্রে বাড়িতে বসেই করা সম্ভব হয়।
রোগীর অবস্থা বুঝে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ডায়ালিসিসের প্রয়োজন হয়। প্রক্রিয়াটি শেষ হতে সাড়ে তিন ঘণ্টা থেকে চার ঘণ্টা সময় লাগে।