ঢাকা , রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্তুগালের বিদায়ের পর দায়িত্ব ছাড়লেন কোচ মার্তিনেজ

স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়ার পর পর্তুগালের কোচের দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন রবার্তো মার্তিনেজ। তবে তিনি এই ফলাফলকে ‘ব্যর্থতা’ বলতে নারাজ।
সোমবার এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনো ৯১তম মিনিটে গোল করে স্পেনকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলে দেন। একই সঙ্গে এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ অভিযানও শেষ হয়ে যায়। ২০২৩ সালে পর্তুগালের কোচের দায়িত্ব নেন মার্তিনেজ। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মার্তিনেজ জানান, এই দায়িত্বে আর থাকা যুক্তিযুক্ত হবে না। এর আগে ২০২৪ সালের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপেও পর্তুগাল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল। মার্তিনেজ বলেন, ‘হ্যাঁ, এটি জাতীয় দলের সঙ্গে আমার শেষ ম্যাচ। আমি গর্বিত। আমি ৪৫টি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছি। পর্তুগালে আমি স্বাগত পেয়েছি, ভালোবাসা পেয়েছি। এই স্মৃতি আমি সবসময় সঙ্গে রাখব।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি ছিল আনন্দের, গর্বের এবং দায়িত্বের একটি অভিজ্ঞতা। বিদায় নেওয়া কঠিন, কিন্তু এটি একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে এ সিদ্ধান্তই যৌক্তিক।’ পর্তুগালের দায়িত্ব নেওয়ার আগে মার্তিনেজ বেলজিয়ামের কোচ ছিলেন। এর আগে তিনি এভারটন, উইগান ও সোয়ানসির মতো ক্লাবের দায়িত্বও পালন করেছেন। পর্তুগালের দলে ছিল বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা প্রতিভার সমাহার। মাঝমাঠে ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস ও ব্রুনো ফার্নান্দেসের মতো খেলোয়াড় এবং আক্রমণভাগে রোনালদো থাকলেও শেষ ষোলো থেকে বিদায়কে ব্যর্থতা হিসেবে মানতে রাজি নন মার্তিনেজ। তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যর্থ হইনি। আমরা একটি ম্যাচ হেরেছি, এমন একটি দলের কাছে যারা শিরোপার অন্যতম দাবিদার। আমরা অসাধারণ ব্যক্তিগত প্রতিভা দেখিয়েছি। বড় ম্যাচে, বড় দলের বিপক্ষে জয়-পরাজয় অনেক সময় ছোট ছোট বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনি তখনই ব্যর্থ হন, যখন জেতার চেষ্টা করেন না। আমরা শেষ মিনিট পর্যন্ত জয়ের চেষ্টা করেছি।’ মার্তিনেজ বলেন, ‘শুধু পর্তুগাল নয়, খুব বেশি দেশ নেই যারা নিয়মিত বিশ্বকাপের শেষ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। ধারাবাহিকভাবে ভালো করা এবং সবসময় যোগ্যতা অর্জন করা খুব কঠিন।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘কিছু বিষয় পার্থক্য গড়ে দেয়। যেমন কোনো শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসা। বিশ্বকাপের ভাগ্য অনেক সময় এমন ছোট বিষয়েই নির্ধারিত হয়।’ ম্যাচের পুরো ৯০ মিনিট রোনালদোকে মাঠে রাখার সিদ্ধান্তের পক্ষেও ব্যাখ্যা দেন মার্তিনেজ। ৪১ বছর বয়সী এই তারকাকে তুলে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বলেন, দলের যখন গোল দরকার হয়, তখন রোনালদোকে মাঠের বাইরে রাখা যায় না। তিনি বলেন, ‘তিনি ৯০ মিনিট খেলতে পারেন, এতে কোনো সমস্যা নেই। তার উপস্থিতিই প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করে। তিনি মাঠে জায়গা তৈরি করেন, সেট পিসে বিপজ্জনক, আর গোলমুখে যেকোনো মুহূর্তে কিছু করে দেখাতে পারেন। তাই তাকে তুলে নেওয়ার কোনো অর্থ ছিল না।’ মার্তিনেজ আরও বলেন, ‘অতিরিক্ত সময়ে হয়তো গনসালো রামোসকে ব্যবহার করা যুক্তিযুক্ত হতো। কিন্তু ৯০ মিনিটের মধ্যে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে তুলে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

পর্তুগালের বিদায়ের পর দায়িত্ব ছাড়লেন কোচ মার্তিনেজ

আপডেট সময় ১১:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়ার পর পর্তুগালের কোচের দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন রবার্তো মার্তিনেজ। তবে তিনি এই ফলাফলকে ‘ব্যর্থতা’ বলতে নারাজ।
সোমবার এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনো ৯১তম মিনিটে গোল করে স্পেনকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলে দেন। একই সঙ্গে এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ অভিযানও শেষ হয়ে যায়। ২০২৩ সালে পর্তুগালের কোচের দায়িত্ব নেন মার্তিনেজ। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মার্তিনেজ জানান, এই দায়িত্বে আর থাকা যুক্তিযুক্ত হবে না। এর আগে ২০২৪ সালের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপেও পর্তুগাল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল। মার্তিনেজ বলেন, ‘হ্যাঁ, এটি জাতীয় দলের সঙ্গে আমার শেষ ম্যাচ। আমি গর্বিত। আমি ৪৫টি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছি। পর্তুগালে আমি স্বাগত পেয়েছি, ভালোবাসা পেয়েছি। এই স্মৃতি আমি সবসময় সঙ্গে রাখব।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি ছিল আনন্দের, গর্বের এবং দায়িত্বের একটি অভিজ্ঞতা। বিদায় নেওয়া কঠিন, কিন্তু এটি একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে এ সিদ্ধান্তই যৌক্তিক।’ পর্তুগালের দায়িত্ব নেওয়ার আগে মার্তিনেজ বেলজিয়ামের কোচ ছিলেন। এর আগে তিনি এভারটন, উইগান ও সোয়ানসির মতো ক্লাবের দায়িত্বও পালন করেছেন। পর্তুগালের দলে ছিল বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা প্রতিভার সমাহার। মাঝমাঠে ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস ও ব্রুনো ফার্নান্দেসের মতো খেলোয়াড় এবং আক্রমণভাগে রোনালদো থাকলেও শেষ ষোলো থেকে বিদায়কে ব্যর্থতা হিসেবে মানতে রাজি নন মার্তিনেজ। তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যর্থ হইনি। আমরা একটি ম্যাচ হেরেছি, এমন একটি দলের কাছে যারা শিরোপার অন্যতম দাবিদার। আমরা অসাধারণ ব্যক্তিগত প্রতিভা দেখিয়েছি। বড় ম্যাচে, বড় দলের বিপক্ষে জয়-পরাজয় অনেক সময় ছোট ছোট বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনি তখনই ব্যর্থ হন, যখন জেতার চেষ্টা করেন না। আমরা শেষ মিনিট পর্যন্ত জয়ের চেষ্টা করেছি।’ মার্তিনেজ বলেন, ‘শুধু পর্তুগাল নয়, খুব বেশি দেশ নেই যারা নিয়মিত বিশ্বকাপের শেষ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। ধারাবাহিকভাবে ভালো করা এবং সবসময় যোগ্যতা অর্জন করা খুব কঠিন।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘কিছু বিষয় পার্থক্য গড়ে দেয়। যেমন কোনো শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসা। বিশ্বকাপের ভাগ্য অনেক সময় এমন ছোট বিষয়েই নির্ধারিত হয়।’ ম্যাচের পুরো ৯০ মিনিট রোনালদোকে মাঠে রাখার সিদ্ধান্তের পক্ষেও ব্যাখ্যা দেন মার্তিনেজ। ৪১ বছর বয়সী এই তারকাকে তুলে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বলেন, দলের যখন গোল দরকার হয়, তখন রোনালদোকে মাঠের বাইরে রাখা যায় না। তিনি বলেন, ‘তিনি ৯০ মিনিট খেলতে পারেন, এতে কোনো সমস্যা নেই। তার উপস্থিতিই প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করে। তিনি মাঠে জায়গা তৈরি করেন, সেট পিসে বিপজ্জনক, আর গোলমুখে যেকোনো মুহূর্তে কিছু করে দেখাতে পারেন। তাই তাকে তুলে নেওয়ার কোনো অর্থ ছিল না।’ মার্তিনেজ আরও বলেন, ‘অতিরিক্ত সময়ে হয়তো গনসালো রামোসকে ব্যবহার করা যুক্তিযুক্ত হতো। কিন্তু ৯০ মিনিটের মধ্যে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে তুলে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না।’