ঢাকা , রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিয়ানমারে ২৪ ঘণ্টায় দুই দফা ভূমিকম্প

বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর দুটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। সর্বশেষ শনিবার (১১ জুলাই) ভোররাতে ৪ দশমিক ১ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। এর একদিন আগেই শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় দেশটিতে ৪ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাড়ছে। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) জানিয়েছে, শনিবারের ভূমিকম্পটি ভারতীয় প্রমাণ সময় (আইএসটি) রাত ১২টা ২০ মিনিটে আঘাত হানে। এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে সংস্থাটি জানায়, কম্পনটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ৯০ কিলোমিটার গভীরে। এর স্থানাঙ্ক ছিল ২১.৬৯৮ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯৪.৫০৪ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৯ মিনিটে (আইএসটি) মিয়ানমারে ৪.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। ওই ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূগর্ভের ১০০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পবিদরা জানিয়েছেন, মিয়ানমার ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটি মূলত চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেট- ভারতীয়, ইউরেশীয়, সুন্দা এবং বার্মা প্লেটের সংযোগস্থলে থাকায় এখানে প্রতিনিয়ত ভূগর্ভস্থ সক্রিয় প্রক্রিয়া চলমান থাকে। ফলে দীর্ঘ উপকূলরেখাজুড়ে মাঝারি ও বড় মাত্রার ভূমিকম্প এবং সুনামির স্থায়ী ঝুঁকি বিদ্যমান।
বিশেষজ্ঞদের প্রধান উদ্বেগের কারণ দেশটির মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘সাগাইং ফল্ট’ বা ফাটল রেখা। এই ফাটলটি আন্দামান স্প্রেডিং সেন্টারকে উত্তরের সাগাইং ফল্ট নামক একটি সংঘর্ষ অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এই ঝুঁকিপূর্ণ ফাটল এলাকার আশপাশেই গড়ে উঠেছে সাগাইং, মান্দালে, বাগো ও ইয়াঙ্গুনের মতো প্রধান শহর, যেখানে মিয়ানমারের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৬ শতাংশ মানুষের বসবাস।
গবেষকদের মতে, ইয়াঙ্গুন শহরটি মূল ফাটল রেখা থেকে কিছুটা দূরে থাকলেও অতিরিক্ত জনঘনত্বের কারণে সেখানে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। অতীতের রেকর্ড অনুযায়ী, ১৯০৩ সালে বাগো অঞ্চলে সংঘটিত ৭.০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে ইয়াঙ্গুন শহরও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, সাম্প্রতিক এই দুটি ভূমিকম্পে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সূত্র: এএনআই

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

মিয়ানমারে ২৪ ঘণ্টায় দুই দফা ভূমিকম্প

আপডেট সময় ১১:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর দুটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। সর্বশেষ শনিবার (১১ জুলাই) ভোররাতে ৪ দশমিক ১ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। এর একদিন আগেই শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় দেশটিতে ৪ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাড়ছে। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) জানিয়েছে, শনিবারের ভূমিকম্পটি ভারতীয় প্রমাণ সময় (আইএসটি) রাত ১২টা ২০ মিনিটে আঘাত হানে। এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে সংস্থাটি জানায়, কম্পনটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ৯০ কিলোমিটার গভীরে। এর স্থানাঙ্ক ছিল ২১.৬৯৮ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯৪.৫০৪ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৯ মিনিটে (আইএসটি) মিয়ানমারে ৪.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। ওই ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূগর্ভের ১০০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পবিদরা জানিয়েছেন, মিয়ানমার ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটি মূলত চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেট- ভারতীয়, ইউরেশীয়, সুন্দা এবং বার্মা প্লেটের সংযোগস্থলে থাকায় এখানে প্রতিনিয়ত ভূগর্ভস্থ সক্রিয় প্রক্রিয়া চলমান থাকে। ফলে দীর্ঘ উপকূলরেখাজুড়ে মাঝারি ও বড় মাত্রার ভূমিকম্প এবং সুনামির স্থায়ী ঝুঁকি বিদ্যমান।
বিশেষজ্ঞদের প্রধান উদ্বেগের কারণ দেশটির মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘সাগাইং ফল্ট’ বা ফাটল রেখা। এই ফাটলটি আন্দামান স্প্রেডিং সেন্টারকে উত্তরের সাগাইং ফল্ট নামক একটি সংঘর্ষ অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এই ঝুঁকিপূর্ণ ফাটল এলাকার আশপাশেই গড়ে উঠেছে সাগাইং, মান্দালে, বাগো ও ইয়াঙ্গুনের মতো প্রধান শহর, যেখানে মিয়ানমারের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৬ শতাংশ মানুষের বসবাস।
গবেষকদের মতে, ইয়াঙ্গুন শহরটি মূল ফাটল রেখা থেকে কিছুটা দূরে থাকলেও অতিরিক্ত জনঘনত্বের কারণে সেখানে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। অতীতের রেকর্ড অনুযায়ী, ১৯০৩ সালে বাগো অঞ্চলে সংঘটিত ৭.০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে ইয়াঙ্গুন শহরও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, সাম্প্রতিক এই দুটি ভূমিকম্পে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সূত্র: এএনআই