ঢাকা , রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন বউ রেখে প্রবাসে, দুই মাস পর ফিরছে শোয়াইবের নিথর দেহ

নিজের অভাবী পরিবারকে স্বাবলম্বী করার জন্য বছর তিনেক আগে মালয়েশিয়ায় গিয়ে পাড়ি জমান মো. শোয়াইব বিশ্বাস (২৩) নামে এক যুবক। সেখানে গিয়ে দীর্ঘদিন একটি কম্পানিতে কাজ করে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দেশে আসেন। দেশে এসে গত মাস দুয়েক আগে বিয়ে করেন। তবে তার বিয়ের মেহেদীর রং শুকানোর আগেই জীবিকার তাগিদে ফের মালয়েশিয়ায় নিজের কর্মস্থলে গিয়ে চলে যান। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস-কর্মস্থলে কাজ করার সময় মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁর। নিহত শোয়াইব বিশ্বাস ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরুটিয়া গ্রামের মো. শওকত বিশ্বাসের ছেলে। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সেজো।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় শোয়াইবের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার ভগ্নিপতি মো. তুহিন হাসান। এদিকে শোয়াইয়ের খবরে শোকে স্তব্দ হয়েছে পরিবার। এমন অবস্থায় দেশে লাশ আনতে পরিবারের পক্ষ থেকে চেয়েছেন সরকারের সহযোগিতা।
নিহতের পরিবার জানান, জীবিকার তাগিদে ২০২৩ সালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে একটি কম্পানিতে কাজ শুরু করেন শোয়াইব। সেখানে কাজ শেষে চলতি বছরের এপ্রিলে ছুটিতে বাড়িতে আসেন। বাড়ি আসার পর গত দুই মাস আগে বিয়ে করেন তিনি। এরপর ছুটি শেষে গত ১ জুলাই মালয়েশিয়া চলে যায়। দেশটির জহুরবারু এলাকায় একটি কনস্ট্রাকশন কম্পানির অধীনে বোম্ব ক্রেনের সাহায্যে নির্মাণাধীন ভবনে ফায়ার ফাইটারের পাইপ লাগানোর কাজ শুরু করেন।
শুক্রবার সকালে কাজ করাকালীন বোম্বক্রেন চাপায় নিহত হন তিনি।
নিহতের ভগ্নিপতি তুহিন হাসান বলেন, শুক্রবার দুপুরে মালয়েশিয়ার ওই কম্পানির দায়িত্বরত এক বাংলাদেশি আমাকে ফোন করে নিহতের বিষয়টি জানান। তাছাড়া ওই বাংলাদেশি ছবি ও ভিডিও পাঠিয়েছে, তাতে নির্মমভাবে মৃত্যুর বিষয় ফুটে উঠেছে। কম্পানির পক্ষ থেকে তার মরদেহ ফেরত পাঠানোর জন্য তিন সপ্তাহের সময় চেয়েছেন। তবে মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি। ফরিদপুর প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. আশিক সিদ্দিকী বলেন, নিহত ব্যক্তি কোনো কম্পানির অধীনে কাজ করে থাকলে তাঁরা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ পাঠাতে পারবে। সেখান থেকে কোনো সহযোগিতার না পেলে নিহতের পরিবার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৈধকর্মী হয়ে থাকলে আমরা মরদেহ আনার ক্ষেত্রে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করব।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন বউ রেখে প্রবাসে, দুই মাস পর ফিরছে শোয়াইবের নিথর দেহ

আপডেট সময় ১১:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
নিজের অভাবী পরিবারকে স্বাবলম্বী করার জন্য বছর তিনেক আগে মালয়েশিয়ায় গিয়ে পাড়ি জমান মো. শোয়াইব বিশ্বাস (২৩) নামে এক যুবক। সেখানে গিয়ে দীর্ঘদিন একটি কম্পানিতে কাজ করে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দেশে আসেন। দেশে এসে গত মাস দুয়েক আগে বিয়ে করেন। তবে তার বিয়ের মেহেদীর রং শুকানোর আগেই জীবিকার তাগিদে ফের মালয়েশিয়ায় নিজের কর্মস্থলে গিয়ে চলে যান। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস-কর্মস্থলে কাজ করার সময় মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁর। নিহত শোয়াইব বিশ্বাস ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরুটিয়া গ্রামের মো. শওকত বিশ্বাসের ছেলে। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সেজো।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় শোয়াইবের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার ভগ্নিপতি মো. তুহিন হাসান। এদিকে শোয়াইয়ের খবরে শোকে স্তব্দ হয়েছে পরিবার। এমন অবস্থায় দেশে লাশ আনতে পরিবারের পক্ষ থেকে চেয়েছেন সরকারের সহযোগিতা।
নিহতের পরিবার জানান, জীবিকার তাগিদে ২০২৩ সালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে একটি কম্পানিতে কাজ শুরু করেন শোয়াইব। সেখানে কাজ শেষে চলতি বছরের এপ্রিলে ছুটিতে বাড়িতে আসেন। বাড়ি আসার পর গত দুই মাস আগে বিয়ে করেন তিনি। এরপর ছুটি শেষে গত ১ জুলাই মালয়েশিয়া চলে যায়। দেশটির জহুরবারু এলাকায় একটি কনস্ট্রাকশন কম্পানির অধীনে বোম্ব ক্রেনের সাহায্যে নির্মাণাধীন ভবনে ফায়ার ফাইটারের পাইপ লাগানোর কাজ শুরু করেন।
শুক্রবার সকালে কাজ করাকালীন বোম্বক্রেন চাপায় নিহত হন তিনি।
নিহতের ভগ্নিপতি তুহিন হাসান বলেন, শুক্রবার দুপুরে মালয়েশিয়ার ওই কম্পানির দায়িত্বরত এক বাংলাদেশি আমাকে ফোন করে নিহতের বিষয়টি জানান। তাছাড়া ওই বাংলাদেশি ছবি ও ভিডিও পাঠিয়েছে, তাতে নির্মমভাবে মৃত্যুর বিষয় ফুটে উঠেছে। কম্পানির পক্ষ থেকে তার মরদেহ ফেরত পাঠানোর জন্য তিন সপ্তাহের সময় চেয়েছেন। তবে মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি। ফরিদপুর প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. আশিক সিদ্দিকী বলেন, নিহত ব্যক্তি কোনো কম্পানির অধীনে কাজ করে থাকলে তাঁরা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ পাঠাতে পারবে। সেখান থেকে কোনো সহযোগিতার না পেলে নিহতের পরিবার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৈধকর্মী হয়ে থাকলে আমরা মরদেহ আনার ক্ষেত্রে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করব।