ঢাকা , রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিসেম্বরে কাউন্সিলের পরিকল্পনা বিএনপির

চলতি বছরে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে এখনও কাউন্সিলের তারিখ নির্ধারণ হয়নি। প্রাথমিকভাবে আগামী ডিসেম্বরে কাউন্সিল করার বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। কেন্দ্র থেকে নেতৃত্ব চাপিয়ে দেওয়ার প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে কাউন্সিলে নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। গতকাল শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয় বলে সূত্রে জানা গেছে। রাত ৮টার দিকে বৈঠক শুরু হয়ে শেষ হয় রাত পৌনে ১০টায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তৃতীয় দফায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠক সূত্র জানায়, কাউন্সিলের চূড়ান্ত তারিখ এখনও নির্ধারণ না হলেও সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ডিসেম্বরের মধ্যে কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে দলের। প্রস্তাবিত নতুন পদ্ধতি অনুযায়ী, বিএনপি তৃণমূল পর্যায় থেকে একটি উন্মুক্ত কাউন্সিল প্রক্রিয়া চালুর পরিকল্পনা করছে। এটি ওয়ার্ড থেকে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন ও থানা ইউনিট হয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি পর্যন্ত পৌঁছাবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, কেন্দ্র থেকে সরাসরি নেতৃত্ব চাপিয়ে দেওয়ার প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে নেতৃত্ব গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন এই সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, জেলা নেতারা থানা কমিটি গঠনের বিষয়টি তদারকি করবেন। আবার থানা ইউনিট ইউনিয়ন কমিটি এবং ইউনিয়ন কমিটি ওয়ার্ড কমিটি গঠনের দায়িত্বে থাকবে। তৃণমূলের এ স্তরগুলোর সাংগঠনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই কেবল কেন্দ্রীয় কাউন্সিল হবে। সূত্র আরও জানায়, পুনর্গঠন প্রক্রিয়া তদারকি করতে একটি ‘মনিটরিং অ্যান্ড ডিজাইন কমিটি’ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় দুই-চারজনের একটি ছোট কোর টিম কাজ শুরু করবে, পরে এর পরিধি বাড়ানো হবে। সাংগঠনিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে এবং কাউন্সিলের প্রস্তুতি তদারকি করতে স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যানসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা বিভিন্ন অঞ্চল সফর করবেন। জানা গেছে, কাউন্সিলের তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার পর গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য একটি উপকমিটি এবং প্রচার, যোগাযোগ ও অভ্যর্থনা তদারকির জন্য আরও কয়েকটি উপকমিটি গঠন করা হবে। এ ছাড়া বিএনপির সহযোগী এবং অঙ্গ সংগঠনগুলোকেও একই পদ্ধতিতে (বটম-আপ অ্যাপ্রোচ) পুনর্গঠন করা হবে। বৈঠকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়। সূত্র জানায়, প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক ব্যবহার না করেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন, তবে বিষয়টি এখনও আলোচনাধীন। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন। মালয়েশিয়া থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

ডিসেম্বরে কাউন্সিলের পরিকল্পনা বিএনপির

আপডেট সময় ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
চলতি বছরে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে এখনও কাউন্সিলের তারিখ নির্ধারণ হয়নি। প্রাথমিকভাবে আগামী ডিসেম্বরে কাউন্সিল করার বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। কেন্দ্র থেকে নেতৃত্ব চাপিয়ে দেওয়ার প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে কাউন্সিলে নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। গতকাল শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয় বলে সূত্রে জানা গেছে। রাত ৮টার দিকে বৈঠক শুরু হয়ে শেষ হয় রাত পৌনে ১০টায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তৃতীয় দফায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠক সূত্র জানায়, কাউন্সিলের চূড়ান্ত তারিখ এখনও নির্ধারণ না হলেও সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ডিসেম্বরের মধ্যে কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে দলের। প্রস্তাবিত নতুন পদ্ধতি অনুযায়ী, বিএনপি তৃণমূল পর্যায় থেকে একটি উন্মুক্ত কাউন্সিল প্রক্রিয়া চালুর পরিকল্পনা করছে। এটি ওয়ার্ড থেকে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন ও থানা ইউনিট হয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি পর্যন্ত পৌঁছাবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, কেন্দ্র থেকে সরাসরি নেতৃত্ব চাপিয়ে দেওয়ার প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে নেতৃত্ব গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন এই সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, জেলা নেতারা থানা কমিটি গঠনের বিষয়টি তদারকি করবেন। আবার থানা ইউনিট ইউনিয়ন কমিটি এবং ইউনিয়ন কমিটি ওয়ার্ড কমিটি গঠনের দায়িত্বে থাকবে। তৃণমূলের এ স্তরগুলোর সাংগঠনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই কেবল কেন্দ্রীয় কাউন্সিল হবে। সূত্র আরও জানায়, পুনর্গঠন প্রক্রিয়া তদারকি করতে একটি ‘মনিটরিং অ্যান্ড ডিজাইন কমিটি’ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় দুই-চারজনের একটি ছোট কোর টিম কাজ শুরু করবে, পরে এর পরিধি বাড়ানো হবে। সাংগঠনিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে এবং কাউন্সিলের প্রস্তুতি তদারকি করতে স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যানসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা বিভিন্ন অঞ্চল সফর করবেন। জানা গেছে, কাউন্সিলের তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার পর গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য একটি উপকমিটি এবং প্রচার, যোগাযোগ ও অভ্যর্থনা তদারকির জন্য আরও কয়েকটি উপকমিটি গঠন করা হবে। এ ছাড়া বিএনপির সহযোগী এবং অঙ্গ সংগঠনগুলোকেও একই পদ্ধতিতে (বটম-আপ অ্যাপ্রোচ) পুনর্গঠন করা হবে। বৈঠকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়। সূত্র জানায়, প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক ব্যবহার না করেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন, তবে বিষয়টি এখনও আলোচনাধীন। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন। মালয়েশিয়া থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।