ঢাকা , সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিন বিষয়ের পরীক্ষা আবার হবে: শিক্ষামন্ত্রী

জাতীয় সংসদে নিজের সাম্প্রতিক মন্তব্য ইস্যুতে দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম বোর্ডের সঙ্গে পদার্থ বিজ্ঞান প্রথমপত্র, হিসাব বিজ্ঞান এবং যুক্তিবিদ্যা পরীক্ষা আবার নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০২৬ পাসের আগে সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে শুরুতেই শিক্ষামন্ত্রী এই দুঃখ প্রকাশ করেন। এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে অনেকেই আপত্তি জানিয়েছেন। আমি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে কিছু বলিনি। তারপরও আমার বক্তব্যে কেউ যদি আহত হয়ে থাকেন, সেজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।
মন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর উপস্থিত সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তার দুঃখ প্রকাশকে স্বাগত জানান। পরীক্ষা পেছানোর দাবি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পদার্থবিজ্ঞান, হিসাব বিজ্ঞান এবং যুক্তিবিদ্যা। এই পরীক্ষার সময় বৃষ্টি ছিল, অনেকেই ভিজে গেছে এবং পরীক্ষা ভালোভাবে দিতে পারেনি- এ ধরনের কমপ্লেন এসেছে। আমরা যদিও সবসময় প্রশ্নপত্রের ব্যাপারে সজাগ ছিলাম, তারপরও শিক্ষার্থীদের দাবি এসেছে এই পরীক্ষাটি নিয়ে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই বন্যার কারণে আমরা চিটাগাং বোর্ডের প্রত্যেকটি জেলার পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছি এবং আমাদেরকে পুনরায় পরীক্ষা নিতেই হবে। এইক্ষেত্রে আমরা ভেবেচিন্তে দেখেছি, চিটাগাং বোর্ডের পরীক্ষার আরেকটি প্রশ্নপত্রের সেটে যখন আমরা নিতে যাব— পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথমপত্র, যুক্তিবিদ্যা এবং হিসাব বিজ্ঞান, সেই সময়ে আমরা এই পরীক্ষাটি পুনরায় নেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারব- ইনশাআল্লাহ। একইদিন সংসদে স্পিকারের মাধ্যমে সম্পূরক প্রশ্ন উত্থাপন করে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, এইচএসসির মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, যেটার ওপর আগামীতে একজন ছেলে বা মেয়ের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করে। আর পদার্থবিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষার ক্ষেত্রে কেন এক দিন বা দুদিনের জন্য পিছিয়ে দেওয়া গেল না, তা মন্ত্রীর কাছে জানতে চান তিনি। রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা বাংলাদেশে এইচএসসি পরীক্ষায় প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা শুরু হয়। চট্টগ্রামে বন্যার কারণে এরই মধ্যে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়িসহ পুরো চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা আগেই স্থগিত করা হয়েছিল। চলমান পরিস্থিতির ওপর সরকার সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছিল এবং ৬৪ জেলার এসপি, আটটি বিভাগীয় কমিশনার, প্রতিটি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ইউএনওদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছিল। এমনকি আবহাওয়ার পূর্বাভাসের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হয়। তারা সবাই পরিস্থিতি অনুকূলে থাকবে বলে জানানোর পর, বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত অপেক্ষা করে পরীক্ষা যথাসময়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আবহাওয়াবিদরা বলেছিলেন বৃষ্টি হবে না উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিকেল ৫টা পর্যন্ত আমরা বসে থেকে সিদ্ধান্ত নিলাম যে, সকলেই বলল আবহাওয়া ভালো হবে। সেজন্য আমরা পরীক্ষা রেখেছিলাম। ‍কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখি কুমিল্লা সরকারি কলেজের মাঠ পানিতে ভরে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে আমি পরীক্ষাকেন্দ্র স্থানান্তরের নির্দেশ দিই। এ ছাড়া সারা দেশের ইউএনও, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি, তারা জানিয়েছেন কোথাও পরীক্ষা ঘিরে কোনো দুর্যোগ ঘটেনি। শুধু কুমিল্লা মহিলা কলেজেই এমনটি হয়েছে। যে মেয়েটির কাপড় ভিজে গিয়েছিল, তার জন্য শুকনো কাপড় এনে এক ঘণ্টা পর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার সময়সীমাও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

তিন বিষয়ের পরীক্ষা আবার হবে: শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট সময় ১১:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
জাতীয় সংসদে নিজের সাম্প্রতিক মন্তব্য ইস্যুতে দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম বোর্ডের সঙ্গে পদার্থ বিজ্ঞান প্রথমপত্র, হিসাব বিজ্ঞান এবং যুক্তিবিদ্যা পরীক্ষা আবার নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০২৬ পাসের আগে সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে শুরুতেই শিক্ষামন্ত্রী এই দুঃখ প্রকাশ করেন। এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে অনেকেই আপত্তি জানিয়েছেন। আমি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে কিছু বলিনি। তারপরও আমার বক্তব্যে কেউ যদি আহত হয়ে থাকেন, সেজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।
মন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর উপস্থিত সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তার দুঃখ প্রকাশকে স্বাগত জানান। পরীক্ষা পেছানোর দাবি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পদার্থবিজ্ঞান, হিসাব বিজ্ঞান এবং যুক্তিবিদ্যা। এই পরীক্ষার সময় বৃষ্টি ছিল, অনেকেই ভিজে গেছে এবং পরীক্ষা ভালোভাবে দিতে পারেনি- এ ধরনের কমপ্লেন এসেছে। আমরা যদিও সবসময় প্রশ্নপত্রের ব্যাপারে সজাগ ছিলাম, তারপরও শিক্ষার্থীদের দাবি এসেছে এই পরীক্ষাটি নিয়ে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই বন্যার কারণে আমরা চিটাগাং বোর্ডের প্রত্যেকটি জেলার পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছি এবং আমাদেরকে পুনরায় পরীক্ষা নিতেই হবে। এইক্ষেত্রে আমরা ভেবেচিন্তে দেখেছি, চিটাগাং বোর্ডের পরীক্ষার আরেকটি প্রশ্নপত্রের সেটে যখন আমরা নিতে যাব— পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথমপত্র, যুক্তিবিদ্যা এবং হিসাব বিজ্ঞান, সেই সময়ে আমরা এই পরীক্ষাটি পুনরায় নেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারব- ইনশাআল্লাহ। একইদিন সংসদে স্পিকারের মাধ্যমে সম্পূরক প্রশ্ন উত্থাপন করে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, এইচএসসির মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, যেটার ওপর আগামীতে একজন ছেলে বা মেয়ের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করে। আর পদার্থবিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষার ক্ষেত্রে কেন এক দিন বা দুদিনের জন্য পিছিয়ে দেওয়া গেল না, তা মন্ত্রীর কাছে জানতে চান তিনি। রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা বাংলাদেশে এইচএসসি পরীক্ষায় প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা শুরু হয়। চট্টগ্রামে বন্যার কারণে এরই মধ্যে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়িসহ পুরো চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা আগেই স্থগিত করা হয়েছিল। চলমান পরিস্থিতির ওপর সরকার সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছিল এবং ৬৪ জেলার এসপি, আটটি বিভাগীয় কমিশনার, প্রতিটি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ইউএনওদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছিল। এমনকি আবহাওয়ার পূর্বাভাসের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হয়। তারা সবাই পরিস্থিতি অনুকূলে থাকবে বলে জানানোর পর, বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত অপেক্ষা করে পরীক্ষা যথাসময়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আবহাওয়াবিদরা বলেছিলেন বৃষ্টি হবে না উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিকেল ৫টা পর্যন্ত আমরা বসে থেকে সিদ্ধান্ত নিলাম যে, সকলেই বলল আবহাওয়া ভালো হবে। সেজন্য আমরা পরীক্ষা রেখেছিলাম। ‍কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখি কুমিল্লা সরকারি কলেজের মাঠ পানিতে ভরে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে আমি পরীক্ষাকেন্দ্র স্থানান্তরের নির্দেশ দিই। এ ছাড়া সারা দেশের ইউএনও, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি, তারা জানিয়েছেন কোথাও পরীক্ষা ঘিরে কোনো দুর্যোগ ঘটেনি। শুধু কুমিল্লা মহিলা কলেজেই এমনটি হয়েছে। যে মেয়েটির কাপড় ভিজে গিয়েছিল, তার জন্য শুকনো কাপড় এনে এক ঘণ্টা পর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার সময়সীমাও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।