ঢাকা , রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেসি জাদুতে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

আবারো মেসি জাদু। আবারো খাদের কিনারা থেকে বেচে উঠে জয় আর্জেন্টিনার। আটলান্টায় ৫৫ মিনিটে পিছিয়ে পড়া আলবিসেলেস্তেরা মেসির দুই অ্যাসিস্টে, ১০ মিনিটে এনজো ও লাউতারে মার্তিনেজদের জোড়া গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে। পৌছে গেছে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপের ফাইনালে। ১৯ জুলাই স্পেনের সংগে শিরোপা ধরে রাখার লড়াই করবে তারা।‎

ম্যাচের আবহ এতটাই উত্তপ্ত ছিল যে, শুরু থেকেই মাঠের ফুটবলকে ছাপিয়ে ওঠে দুই দলের খেলোয়াড়দের আগ্রাসন। প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিটে মাঠজুড়ে চলেছে শুধুই শারীরিক শক্তি ও কনুইয়ের লড়াই, ফাউল এবং রেফারির সাথে তর্কে জড়ানোর দৃশ্য। ‎‎ইংল্যান্ড কিছুটা গুছিয়ে খেলে রজার্স এবং গর্ডনকে দিয়ে আক্রমণ তৈরির চেষ্টা করলেও ফাইনাল পাসের ভুলে কোনো গোল আদায় করতে পারেনি। অন্যদিকে, ইংলিশ মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসন কড়া পাহারায় রেখেছিলেন লিওনেল মেসিকে। প্রথমার্ধের একমাত্র সহজ সুযোগটি পেয়েছিল আর্জেন্টিনা, যখন এনজো ফার্নান্দেজের ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া দূরপাল্লার শটটি ক্রসবারের সামান্য ওপর দিয়ে চলে যায়। ফলে গোলশূন্যভাবেই বিরতিতে যায় দুই দল। ‎‎দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচে প্রাণ ফেরে। ৪৭ মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজের শট রুখে দেন ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। তবে ম্যাচের ৫৫ মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায় ইংল্যান্ড। হ্যারি কেইনের পাস ধরে রাইস বল বাড়িয়ে দেন রজার্সকে। রজার্সের ক্রস থেকে দ্বিতীয় পোস্টে থাকা অ্যান্থনি গর্ডন ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনাকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান। ‎‎১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার বদলে যেন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে আর্জেন্টিনা, আর পুরো ইংল্যান্ড দল রক্ষণাত্মক কৌশল (বাস পার্কিং) অবলম্বন করে নিজেদের বক্সে গুটিয়ে যায়। ‎‎ম্যাচ যখন শেষের দিকে গড়াচ্ছিল, তখন আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় আর্জেন্টিনা। মেসির ক্রস থেকে নিকো গঞ্জালেসের হেড অবিশ্বাস্য দক্ষতায় বাঁচান পিকফোর্ড। এর কিছুক্ষণ পর অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। ‎‎অবশেষে ৮৫ মিনিটে ফেরে সমতা। কর্নার থেকে ছোট পাসে বল পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে ফাঁকায় থাকা এনজো ফার্নান্দেজকে বল বাড়িয়ে দেন মেসি। এনজোর দুর্দান্ত বাঁকানো শট পরাস্ত করে পিকফোর্ডকে (১-১)। ‎‎গোল হজম করার পর ইংলিশদের মনোযোগ সম্পূর্ণ ভেস্তে যায়। আর সেই সুযোগে নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে (৯০+২ মিনিট) ডানপ্রান্ত থেকে মেসির নিখুঁত ক্রস খুঁজে নেয় অরক্ষিত লাউতারো মার্টিনেজকে। দ্বিতীয় পোস্টে দারুণ হেডে বল জালে জড়িয়ে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে নিয়ে যান এই ইন্টার মিলান স্ট্রাইকার।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

মেসি জাদুতে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

আপডেট সময় ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
আবারো মেসি জাদু। আবারো খাদের কিনারা থেকে বেচে উঠে জয় আর্জেন্টিনার। আটলান্টায় ৫৫ মিনিটে পিছিয়ে পড়া আলবিসেলেস্তেরা মেসির দুই অ্যাসিস্টে, ১০ মিনিটে এনজো ও লাউতারে মার্তিনেজদের জোড়া গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে। পৌছে গেছে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপের ফাইনালে। ১৯ জুলাই স্পেনের সংগে শিরোপা ধরে রাখার লড়াই করবে তারা।‎

ম্যাচের আবহ এতটাই উত্তপ্ত ছিল যে, শুরু থেকেই মাঠের ফুটবলকে ছাপিয়ে ওঠে দুই দলের খেলোয়াড়দের আগ্রাসন। প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিটে মাঠজুড়ে চলেছে শুধুই শারীরিক শক্তি ও কনুইয়ের লড়াই, ফাউল এবং রেফারির সাথে তর্কে জড়ানোর দৃশ্য। ‎‎ইংল্যান্ড কিছুটা গুছিয়ে খেলে রজার্স এবং গর্ডনকে দিয়ে আক্রমণ তৈরির চেষ্টা করলেও ফাইনাল পাসের ভুলে কোনো গোল আদায় করতে পারেনি। অন্যদিকে, ইংলিশ মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসন কড়া পাহারায় রেখেছিলেন লিওনেল মেসিকে। প্রথমার্ধের একমাত্র সহজ সুযোগটি পেয়েছিল আর্জেন্টিনা, যখন এনজো ফার্নান্দেজের ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া দূরপাল্লার শটটি ক্রসবারের সামান্য ওপর দিয়ে চলে যায়। ফলে গোলশূন্যভাবেই বিরতিতে যায় দুই দল। ‎‎দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচে প্রাণ ফেরে। ৪৭ মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজের শট রুখে দেন ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। তবে ম্যাচের ৫৫ মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায় ইংল্যান্ড। হ্যারি কেইনের পাস ধরে রাইস বল বাড়িয়ে দেন রজার্সকে। রজার্সের ক্রস থেকে দ্বিতীয় পোস্টে থাকা অ্যান্থনি গর্ডন ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনাকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান। ‎‎১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার বদলে যেন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে আর্জেন্টিনা, আর পুরো ইংল্যান্ড দল রক্ষণাত্মক কৌশল (বাস পার্কিং) অবলম্বন করে নিজেদের বক্সে গুটিয়ে যায়। ‎‎ম্যাচ যখন শেষের দিকে গড়াচ্ছিল, তখন আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় আর্জেন্টিনা। মেসির ক্রস থেকে নিকো গঞ্জালেসের হেড অবিশ্বাস্য দক্ষতায় বাঁচান পিকফোর্ড। এর কিছুক্ষণ পর অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। ‎‎অবশেষে ৮৫ মিনিটে ফেরে সমতা। কর্নার থেকে ছোট পাসে বল পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে ফাঁকায় থাকা এনজো ফার্নান্দেজকে বল বাড়িয়ে দেন মেসি। এনজোর দুর্দান্ত বাঁকানো শট পরাস্ত করে পিকফোর্ডকে (১-১)। ‎‎গোল হজম করার পর ইংলিশদের মনোযোগ সম্পূর্ণ ভেস্তে যায়। আর সেই সুযোগে নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে (৯০+২ মিনিট) ডানপ্রান্ত থেকে মেসির নিখুঁত ক্রস খুঁজে নেয় অরক্ষিত লাউতারো মার্টিনেজকে। দ্বিতীয় পোস্টে দারুণ হেডে বল জালে জড়িয়ে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে নিয়ে যান এই ইন্টার মিলান স্ট্রাইকার।