ঢাকা , শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে ফিফা

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (আর্জেন্টিনার ভাষায় মালভিনাস) নিয়ে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শন এবং বিশ্বকাপ ফাইনালের পর সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার ঘটনায় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে ফিফা। ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জয়ের পর উদযাপনের সময় আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ‘Las Malvinas son Argentinas’ (মালভিনাস আর্জেন্টিনার) লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। ব্যানারটি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে আর্জেন্টিনার দাবির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ১৮৩৩ সাল থেকে দ্বীপপুঞ্জটি ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আর্জেন্টিনা এর সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে। ১৯৮২ সালে এ বিরোধকে কেন্দ্র করে ৭৪ দিনের যুদ্ধ হয়, যাতে ৯০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৬৪৯ জন ছিলেন আর্জেন্টাইন এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ।
ফিফার শৃঙ্খলা বিধিমালায় খেলাধুলার কোনো আয়োজনকে রাজনৈতিক বা অ-ক্রীড়াসংক্রান্ত বার্তা প্রচারের জন্য ব্যবহার নিষিদ্ধ। ব্যানার প্রদর্শনের পর বিষয়টি নিয়ে দুই দেশেই রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মুখপাত্র বলেন, ‘বিশ্বকাপ হয়তো আমাদের নয়, কিন্তু ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ অবশ্যই আমাদের।’ অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের ফিফা টাস্কফোর্সের প্রধান অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে।
এ ধরনের ঘটনায় এর আগেও শাস্তির মুখে পড়েছে আর্জেন্টিনা। ২০১৪ সালে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের আগে একই ধরনের ব্যানার প্রদর্শনের দায়ে দেশটির ফুটবল ফেডারেশনকে ২০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছিল ফিফা।
ফিফার অভিযোগপত্রে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গি, নির্ধারিত সময়ের পরে ম্যাচ শুরু, ম্যাচ ও নিরাপত্তা প্রটোকল লঙ্ঘন, দল ও দর্শকদের মাধ্যমে অনুপযুক্ত বার্তা প্রদর্শন এবং বিভিন্ন ম্যাচে দর্শকদের বস্তু নিক্ষেপের অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর মাঠে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার ঘটনায় কয়েকজন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও পৃথক তদন্ত শুরু হয়েছে। মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বিরুদ্ধে তিনটি হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনার বিরুদ্ধে দুটি হামলার অভিযোগ (একটি সংঘটিত এবং একটি চেষ্টার) ও একটি অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে। সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধে একটি হামলার অভিযোগ এবং ফাইনালে বেঞ্চে থাকা থিয়াগো আলমাদার বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। একই ঘটনায় স্পেনের মিডফিল্ডার গাভির বিরুদ্ধেও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ এনেছে ফিফা। ফিফা জানিয়েছে, শৃঙ্খলা বিধিমালা অনুযায়ী অভিযুক্তদের নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাদের জবাব পাওয়ার পর যথাসময়ে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে ফিফা

আপডেট সময় ১০:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (আর্জেন্টিনার ভাষায় মালভিনাস) নিয়ে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শন এবং বিশ্বকাপ ফাইনালের পর সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার ঘটনায় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে ফিফা। ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জয়ের পর উদযাপনের সময় আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ‘Las Malvinas son Argentinas’ (মালভিনাস আর্জেন্টিনার) লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। ব্যানারটি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে আর্জেন্টিনার দাবির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ১৮৩৩ সাল থেকে দ্বীপপুঞ্জটি ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আর্জেন্টিনা এর সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে। ১৯৮২ সালে এ বিরোধকে কেন্দ্র করে ৭৪ দিনের যুদ্ধ হয়, যাতে ৯০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৬৪৯ জন ছিলেন আর্জেন্টাইন এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ।
ফিফার শৃঙ্খলা বিধিমালায় খেলাধুলার কোনো আয়োজনকে রাজনৈতিক বা অ-ক্রীড়াসংক্রান্ত বার্তা প্রচারের জন্য ব্যবহার নিষিদ্ধ। ব্যানার প্রদর্শনের পর বিষয়টি নিয়ে দুই দেশেই রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মুখপাত্র বলেন, ‘বিশ্বকাপ হয়তো আমাদের নয়, কিন্তু ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ অবশ্যই আমাদের।’ অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের ফিফা টাস্কফোর্সের প্রধান অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে।
এ ধরনের ঘটনায় এর আগেও শাস্তির মুখে পড়েছে আর্জেন্টিনা। ২০১৪ সালে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের আগে একই ধরনের ব্যানার প্রদর্শনের দায়ে দেশটির ফুটবল ফেডারেশনকে ২০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছিল ফিফা।
ফিফার অভিযোগপত্রে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গি, নির্ধারিত সময়ের পরে ম্যাচ শুরু, ম্যাচ ও নিরাপত্তা প্রটোকল লঙ্ঘন, দল ও দর্শকদের মাধ্যমে অনুপযুক্ত বার্তা প্রদর্শন এবং বিভিন্ন ম্যাচে দর্শকদের বস্তু নিক্ষেপের অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর মাঠে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার ঘটনায় কয়েকজন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও পৃথক তদন্ত শুরু হয়েছে। মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বিরুদ্ধে তিনটি হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনার বিরুদ্ধে দুটি হামলার অভিযোগ (একটি সংঘটিত এবং একটি চেষ্টার) ও একটি অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে। সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধে একটি হামলার অভিযোগ এবং ফাইনালে বেঞ্চে থাকা থিয়াগো আলমাদার বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। একই ঘটনায় স্পেনের মিডফিল্ডার গাভির বিরুদ্ধেও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ এনেছে ফিফা। ফিফা জানিয়েছে, শৃঙ্খলা বিধিমালা অনুযায়ী অভিযুক্তদের নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাদের জবাব পাওয়ার পর যথাসময়ে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান