ঢাকা , রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজা ছাড়তে ইসরায়েল কি রাজি, সংকটে নেতানিয়াহু

ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস গাজায় ধাপে ধাপে অস্ত্র সমর্পণে রাজি হয়েছে। তবে এর বিনিময়ে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের শর্ত নিয়ে দেশটির ভেতরে তীব্র রাজনৈতিক বিরোধ দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, অন্যদিকে নিজ সরকারের কট্টর ডানপন্থি জোটের বিরোধিতার মুখে কঠিন রাজনৈতিক সংকটে পড়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামাসের নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইসরায়েল এ চুক্তিতে সন্তুষ্ট। চুক্তি অনুযায়ী, হামাস ধাপে ধাপে অস্ত্র সমর্পণ করবে। একই সঙ্গে ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে এবং ধীরে ধীরে প্রশাসনিক দায়িত্ব একটি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে ইসরায়েল সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। শুক্রবার দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, হামাস প্রকৃত অর্থে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র হয়েছে—এ বিষয়ে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গাজায় বর্তমান অবস্থান থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই।
গাজা ছাড়তে ইসরায়েল কি রাজি, সংকটে নেতানিয়াহু
এদিকে চুক্তির বিরোধিতা করে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি নেতারা প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির বলেছেন, হামাসের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধ করা যাবে না। তার মতে, হামাসকে ছাড় দেওয়া মানে ভবিষ্যতে আরও বড় হামলার সুযোগ করে দেওয়া। তিনি গাজায় সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার এবং ফিলিস্তিনিদের এলাকা ছাড়তে উৎসাহিত করারও পক্ষে মত দেন। একই ধরনের অবস্থান নিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান ও নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট। তিনি বলেন, হামাসের সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি সম্পূর্ণ ধ্বংস না হলে কোনো চুক্তিকেই সফল বলা যাবে না। তার দাবি, প্রায় তিন বছর যুদ্ধ চললেও হামাস আবারও নিজেদের শক্তি পুনর্গঠন করেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েলের জনমতের বড় একটি অংশ এখনো কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে ৮২ শতাংশ ইহুদি ইসরায়েলি গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। আরেকটি জরিপে ৬৪ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, গাজায় কোনো নিরীহ মানুষ নেই। এছাড়া অনেক মন্ত্রী ও রাজনীতিক ইতোমধ্যে গাজায় নতুন করে ইহুদি বসতি স্থাপনেরও পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডালিয়া শেইন্ডলিনের মতে, নেতানিয়াহুর সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আগামী জাতীয় নির্বাচন। দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সংকটে পড়তে পারে। তাই তিনি এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাইবেন না, যাতে তার কট্টর ডানপন্থি জোট ভেঙে যায়। শেইন্ডলিন বলেন, নেতানিয়াহু হয়তো সীমিত পরিসরে সেনাদের অবস্থান পরিবর্তনের মতো প্রতীকী পদক্ষেপ নিতে পারেন, তবে পুরো গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা খুবই কম। তিনি মনে করেন, ইসরায়েল হয়তো ২০২৫ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে নির্ধারিত কিছু অবস্থানে ফিরে যেতে পারে, কিন্তু সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করবে না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও চায়, হামাসের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়ন হোক। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসরায়েল যদি চুক্তি বাস্তবায়ন না করে, তাহলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত হতাশ হবেন। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেসের অধ্যাপক ডভ ওয়াক্সম্যানের মতে, নেতানিয়াহু এখন অত্যন্ত কঠিন অবস্থায় রয়েছেন। তিনি যদি চুক্তির বিরোধিতা করেন, তাহলে ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। আবার চুক্তি মেনে নিলে নিজের জোটের সমর্থন হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে। ইসরায়েলি পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক নিমরোদ গোরেনের মতে, নেতানিয়াহু হয়তো ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট রাখতে কূটনৈতিকভাবে ইতিবাচক বার্তা দেবেন এবং আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন। কিন্তু বাস্তবে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবেন—এমন সম্ভাবনা খুবই কম। তার মতে, নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু বরং সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে পারেন। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

গাজা ছাড়তে ইসরায়েল কি রাজি, সংকটে নেতানিয়াহু

আপডেট সময় ০৩:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস গাজায় ধাপে ধাপে অস্ত্র সমর্পণে রাজি হয়েছে। তবে এর বিনিময়ে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের শর্ত নিয়ে দেশটির ভেতরে তীব্র রাজনৈতিক বিরোধ দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, অন্যদিকে নিজ সরকারের কট্টর ডানপন্থি জোটের বিরোধিতার মুখে কঠিন রাজনৈতিক সংকটে পড়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামাসের নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইসরায়েল এ চুক্তিতে সন্তুষ্ট। চুক্তি অনুযায়ী, হামাস ধাপে ধাপে অস্ত্র সমর্পণ করবে। একই সঙ্গে ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে এবং ধীরে ধীরে প্রশাসনিক দায়িত্ব একটি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে ইসরায়েল সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। শুক্রবার দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, হামাস প্রকৃত অর্থে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র হয়েছে—এ বিষয়ে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গাজায় বর্তমান অবস্থান থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই।
গাজা ছাড়তে ইসরায়েল কি রাজি, সংকটে নেতানিয়াহু
এদিকে চুক্তির বিরোধিতা করে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি নেতারা প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির বলেছেন, হামাসের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধ করা যাবে না। তার মতে, হামাসকে ছাড় দেওয়া মানে ভবিষ্যতে আরও বড় হামলার সুযোগ করে দেওয়া। তিনি গাজায় সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার এবং ফিলিস্তিনিদের এলাকা ছাড়তে উৎসাহিত করারও পক্ষে মত দেন। একই ধরনের অবস্থান নিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান ও নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট। তিনি বলেন, হামাসের সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি সম্পূর্ণ ধ্বংস না হলে কোনো চুক্তিকেই সফল বলা যাবে না। তার দাবি, প্রায় তিন বছর যুদ্ধ চললেও হামাস আবারও নিজেদের শক্তি পুনর্গঠন করেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েলের জনমতের বড় একটি অংশ এখনো কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে ৮২ শতাংশ ইহুদি ইসরায়েলি গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। আরেকটি জরিপে ৬৪ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, গাজায় কোনো নিরীহ মানুষ নেই। এছাড়া অনেক মন্ত্রী ও রাজনীতিক ইতোমধ্যে গাজায় নতুন করে ইহুদি বসতি স্থাপনেরও পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডালিয়া শেইন্ডলিনের মতে, নেতানিয়াহুর সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আগামী জাতীয় নির্বাচন। দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সংকটে পড়তে পারে। তাই তিনি এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাইবেন না, যাতে তার কট্টর ডানপন্থি জোট ভেঙে যায়। শেইন্ডলিন বলেন, নেতানিয়াহু হয়তো সীমিত পরিসরে সেনাদের অবস্থান পরিবর্তনের মতো প্রতীকী পদক্ষেপ নিতে পারেন, তবে পুরো গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা খুবই কম। তিনি মনে করেন, ইসরায়েল হয়তো ২০২৫ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে নির্ধারিত কিছু অবস্থানে ফিরে যেতে পারে, কিন্তু সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করবে না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও চায়, হামাসের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়ন হোক। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসরায়েল যদি চুক্তি বাস্তবায়ন না করে, তাহলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত হতাশ হবেন। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেসের অধ্যাপক ডভ ওয়াক্সম্যানের মতে, নেতানিয়াহু এখন অত্যন্ত কঠিন অবস্থায় রয়েছেন। তিনি যদি চুক্তির বিরোধিতা করেন, তাহলে ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। আবার চুক্তি মেনে নিলে নিজের জোটের সমর্থন হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে। ইসরায়েলি পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক নিমরোদ গোরেনের মতে, নেতানিয়াহু হয়তো ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট রাখতে কূটনৈতিকভাবে ইতিবাচক বার্তা দেবেন এবং আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন। কিন্তু বাস্তবে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবেন—এমন সম্ভাবনা খুবই কম। তার মতে, নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু বরং সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে পারেন। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা