ঢাকা , বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্ত্রীসহ হত্যার হুমকি, পুলিশের দ্বারস্থ সৌরভ গাঙ্গুলী

ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলী একের পর এক হুমকির চিঠি পাওয়ার পর পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। একটি চিঠিতে তাকে ও তার স্ত্রী ডোনাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। ভারতের সাবেক অধিনায়ক গত কয়েক মাস ধরে এ ধরনের একাধিক চিঠি পেয়ে আসছেন।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে জানা গেছে, গাঙ্গুলীর লিখিত অভিযোগের পর চিঠিগুলো কে পাঠিয়েছে, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, 'আমরা অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি এবং তদন্ত শুরু করেছি। চিঠিগুলো, এগুলোর উৎস এবং কুরিয়ার সংস্থার মাধ্যমে পাঠানোর পুরো পথ খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে দায়ী ব্যক্তিকে শনাক্ত করা যায়।'
বর্তমানে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা গাঙ্গুলী সর্বশেষ চিঠিটি পাওয়ার পর দক্ষিণ কলকাতার ঠাকুরপুকুর থানায় যান। সোমবার তার কার্যালয়ে ওই চিঠিটি পৌঁছেছিল। পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় ছয় মাস ধরে সাবেক ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড সভাপতির নামে চিঠিগুলো আসছিল। তবে শুরুতে বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। সাবেক এই ক্রিকেটারের ব্যবস্থাপক থানায় যে অভিযোগ করেছেন, তাতে বলা হয়েছে, সোমবার তার কার্যালয়ে দুটি চিঠি আসে। চিঠি দুটিতে গাঙ্গুলী ও তার স্ত্রীকে হত্যার পাশাপাশি তাদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের ক্ষতি করার সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা জানান, তদন্তকারীরা চিঠিগুলোর বক্তব্য খতিয়ে দেখছেন। একই সঙ্গে প্রেরকের পরিচয় এবং হুমকি দেওয়ার পেছনে তার উদ্দেশ্য কী, সেটিও জানার চেষ্টা চলছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, কুরিয়ার সংস্থার মাধ্যমে চিঠিগুলো পাঠানো হয়েছে। উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বেলঘরিয়া এলাকার কোনো এক ব্যক্তি এগুলো পাঠিয়ে থাকতে পারেন বলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। পুলিশ আরও জানিয়েছে, চিঠি পাঠাতে কথিতভাবে ব্যবহৃত মুঠোফোনের সিম কার্ডটির গতিবিধিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি পার্সেলগুলোর বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে সংশ্লিষ্ট কুরিয়ার সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, 'আমরা কুরিয়ার সংস্থার কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং একটি মুঠোফোন নম্বরের সন্ধান পেয়েছি। এখন সেটির অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।' কলকাতা পুলিশের তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, সবগুলো চিঠি একই ব্যক্তি পাঠিয়েছেন কি না। একই সঙ্গে গাঙ্গুলী ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়ার প্রকৃত কারণও জানার চেষ্টা চলছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা: ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু

স্ত্রীসহ হত্যার হুমকি, পুলিশের দ্বারস্থ সৌরভ গাঙ্গুলী

আপডেট সময় ১২ ঘন্টা আগে
ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলী একের পর এক হুমকির চিঠি পাওয়ার পর পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। একটি চিঠিতে তাকে ও তার স্ত্রী ডোনাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। ভারতের সাবেক অধিনায়ক গত কয়েক মাস ধরে এ ধরনের একাধিক চিঠি পেয়ে আসছেন।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে জানা গেছে, গাঙ্গুলীর লিখিত অভিযোগের পর চিঠিগুলো কে পাঠিয়েছে, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, 'আমরা অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি এবং তদন্ত শুরু করেছি। চিঠিগুলো, এগুলোর উৎস এবং কুরিয়ার সংস্থার মাধ্যমে পাঠানোর পুরো পথ খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে দায়ী ব্যক্তিকে শনাক্ত করা যায়।'
বর্তমানে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা গাঙ্গুলী সর্বশেষ চিঠিটি পাওয়ার পর দক্ষিণ কলকাতার ঠাকুরপুকুর থানায় যান। সোমবার তার কার্যালয়ে ওই চিঠিটি পৌঁছেছিল। পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় ছয় মাস ধরে সাবেক ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড সভাপতির নামে চিঠিগুলো আসছিল। তবে শুরুতে বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। সাবেক এই ক্রিকেটারের ব্যবস্থাপক থানায় যে অভিযোগ করেছেন, তাতে বলা হয়েছে, সোমবার তার কার্যালয়ে দুটি চিঠি আসে। চিঠি দুটিতে গাঙ্গুলী ও তার স্ত্রীকে হত্যার পাশাপাশি তাদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের ক্ষতি করার সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা জানান, তদন্তকারীরা চিঠিগুলোর বক্তব্য খতিয়ে দেখছেন। একই সঙ্গে প্রেরকের পরিচয় এবং হুমকি দেওয়ার পেছনে তার উদ্দেশ্য কী, সেটিও জানার চেষ্টা চলছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, কুরিয়ার সংস্থার মাধ্যমে চিঠিগুলো পাঠানো হয়েছে। উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বেলঘরিয়া এলাকার কোনো এক ব্যক্তি এগুলো পাঠিয়ে থাকতে পারেন বলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। পুলিশ আরও জানিয়েছে, চিঠি পাঠাতে কথিতভাবে ব্যবহৃত মুঠোফোনের সিম কার্ডটির গতিবিধিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি পার্সেলগুলোর বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে সংশ্লিষ্ট কুরিয়ার সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, 'আমরা কুরিয়ার সংস্থার কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং একটি মুঠোফোন নম্বরের সন্ধান পেয়েছি। এখন সেটির অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।' কলকাতা পুলিশের তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, সবগুলো চিঠি একই ব্যক্তি পাঠিয়েছেন কি না। একই সঙ্গে গাঙ্গুলী ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়ার প্রকৃত কারণও জানার চেষ্টা চলছে।