ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সমকামিতায় অভিযুক্ত ঢাবির দুই শিক্ষার্থী হল থেকে বহিষ্কার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন : আলোচনায় সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, দাবি ট্রাম্পের ঈদে মিলাদুন্নবী কবে, জানা যাবে বৃহস্পতিবার সিলেটে বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার অস্ট্রেলিয়ার বাউন্স সামলানোই বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ: শান্ত সালমান শাহ হত্যা মামলা : ডনের জামিন নামঞ্জুর, ভাইকে ‘হত্যার হুমকি’ সাভারে জেএমবির আস্তানার পর এবার মিলল প্রেসার কুকার বোমা হরমুজ নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় বাড়ল তেলের দাম আ. লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলার খবরটি গুজব: তথ্যমন্ত্রী

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন : আলোচনায় সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এবার একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন। যদিও ক্ষমতাসীন দল বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধিত্ব নিয়ে সংসদে রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিএনপির প্রার্থীই নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন বলে অনুমেয়। এমন বাস্তবতায়ও প্রার্থী দিয়েছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। ফলে তিন যুগ পর আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে, কেউ দলীয় প্রার্থীর বাইরে অন্য কাউকে ভোট দিলে তার ক্ষেত্রে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কি প্রযোজ্য হবে?
জাতীয় সংসদে কোনো সদস্য নিজের দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাকে বলা হয় ‘ফ্লোর ক্রসিং’। অনেক দেশে এমপিদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ আছে। তবে বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সেই সুযোগ নেই। রাজনৈতিক দল হতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়া বিষয়ে সংবিধানের ৭০(খ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না। এ বিষয়ে সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যেহেতু সংশোধিত হয়নি, সুতরাং এটা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কার্যকর হবে। সাংবাদিকেদের প্রশ্নের জবাবে ৭০ অনুচ্ছেদ তুলে ধরে তিনি বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে এমপিরা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। কেউ দলের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে।
চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম দাবি করেন, জুলাই সনদ অনুযায়ীও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৭০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে। ৭০ অনুচ্ছেদে অর্থবিল ও আস্থাভোট ছাড়া অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে মত দিতে পারবেন। পরাজয় জেনেও নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, এটাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দিতে চাই না। আমরা সে কারণে বিরোধী দলের জায়গা থেকে প্রার্থী দিয়েছি। ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উচিত ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, যেহেতু গণভোটের রায়ও সংস্কারের পক্ষে এসেছে, তাই ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা যেত। তাহলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আরও বেশি সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য হতেন। এদিকে ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ২০২৬’ উপলক্ষে গতকাল জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা হয়। সভায় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং হুইপ মো. জিকে গউছ, রকিবুল ইসলাম বকুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ, মো. আখতারুজ্জামান মিয়া ও এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, সংসদ সচিবালয় সচিব ও নির্বাচন কমিশন সচিব অংশগ্রহণ করেন। আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে। সংরক্ষিত আসনের ৫০ জন নারী এমপিসহ মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোটার। এ নির্বাচন সামনে রেখে কোনো বিশেষ অধিবেশন ডাকা হচ্ছে না। বেলা ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোট হবে। ভোটের দিন সংসদ কক্ষে বৈঠক ডাকবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এই বৈঠকে যার যার আসনে সংসদ সদস্যরা বসবেন। নির্বাচনী কর্তা হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, রাষ্ট্রপতি, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও স্পিকারের ভোট দেওয়ার দৃশ্য গণমাধ্যমকে সরাসরি সম্প্রচারের সুযোগ দেওয়া হবে। ভোটগ্রহণ শেষে ব্যালট গণনা ও ফলাফল প্রস্তুতের কার্যক্রমও ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে। এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট কীভাবে নেওয়া হবে, তা বিস্তারিত তুলে ধরেছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ। গতকাল মঙ্গলবার সংসদ ভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সভাপতিত্বে প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে ইসি সচিব বলেন, ভোটের জন্য (সংসদ সদস্যদের আহ্বান জানিয়ে) সংসদ কক্ষে বৈঠক আহ্বান করবেন সিইসি। আজকে আমরা গেজেটটা করব। ভোটদান পদ্ধতি বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, সংসদ সদস্যরা তাদের নিজ নিজ আসনে বসবেন। নির্বাচনী কর্তার সঙ্গে আমরা যারা সহায়ক কর্মকর্তা থাকব, আমরা তাদের কাছে ব্যালট পেপারটা পৌঁছে দিব। সংসদ সদস্যরা প্রার্থীর নামের পাশে ভোটারের পূর্ণ স্বাক্ষর ও বিভক্তি সংখ্যা লিখে ব্যালট পেপার বাক্সে রাখবেন। ইসি সচিব আরও বলেন, এখান থেকে সহায়ক কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে আমরা ইসির সহকর্মীর নাম প্রেরণ করব; তাদেরকে আলাদা করে আইডি কার্ড দেওয়া হবে। আর সংসদ সচিবালয় থেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সাহায্যকারী কর্মকর্তা দেবেন। ইসি সচিব বলেন, সিইসির বসার জায়গা নির্ধারণ করে দেবে সংসদ সচিবালয় থেকে। নির্বাচন কমিশনার মহোদয়গণও যদি যেতে চান, আমরা তাদের নামও পৌঁছাব। তারা ‘জাস্ট অ্যাটেন্ডেন্স’ হিসেবে থাকবেন। ১৯৯১-এর পরে তো এখন প্রথম হচ্ছে, এত দীর্ঘ বিরতিতে এই কমিশন এটি দেখার এবং প্রত্যক্ষ করার সুযোগ হয়তো নেবে। প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর বিধিমালা অনুযায়ী ব্যালট পেপার ছাপাবে ইসি। ইসি সচিব বলেন, ব্যালট পেপারে দুটো পার্ট, একটা চেকমুড়ি আর একটা হচ্ছে ভোটের ব্যালট। মুড়িতে চারটা তথ্য থাকে, ব্যালটের ক্রমিক, যিনি ভোটার তার নাম, বিভক্তি নম্বর, আর স্বাক্ষর করে ব্যালটটা নিতে হবে। ডান দিকের সাইডটা যেটা ব্যালট, সেই ব্যালটটায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম থাকবে। তার পাশে স্পেস দেওয়া আছে, সেই স্পেসে ভোটার পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন। প্রস্তুতিমূলক সভার আলোচনা তুলে ধরে সচিব আখতার আহমেদ বলেন, তিনটা ব্যালট বাক্স রাখা হবে। যেকোনোটায় সংসদ সদস্য নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী কাছের কোনো একটা বাক্সে ব্যালট ফেলবেন। সংসদ কক্ষে ভোট গণনা শেষে দ্রুত ফল ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশের ব্যবস্থা নেবে ইসি। আখতার আহমেদ বলেন, যখন ভোট গ্রহণ শেষ হবে, আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ওখানে কাউন্টিং করব। বৈধ কয়টা কাস্ট হয়েছে, প্রার্থীদের ফলাফল সংসদে ঘোষণা করবেন সিইসি। প্রাথমিক ফলাফল ওখানে ঘোষণা করা হবে। ইসি সচিবালয়ে গেজেট করা হবে। ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী এ ভোট হচ্ছে। নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচনী কর্তাকে সহায়তায় ইসির ২০ জন সহায়ক কর্মকর্তা থাকবেন, সঙ্গে সংসদ সচিবালয়ের প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা নিয়েজিত হবেন। সংসদীয় ব্যবস্থা ফেরার পর দুই প্রার্থী থাকায় ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটাভুটি হয়। এরপর ৭ বার একক প্রার্থী থাকায় বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন রাষ্ট্রপতি। এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে আগামী ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের বৈঠক ডেকেছে ইসি। গতকাল রাতে ‘নির্বাচনী কর্তা’ সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিনের পক্ষে নোটিশের প্রজ্ঞাপনটি জারি করেছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। নোটিশে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৫(৩) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ৬ আগস্ট প্রজ্ঞাপনের (নির্বাচনের তফসিল) ধারাবাহিকতায় স্পিকারের সঙ্গে আলোচনাক্রমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত ভোটগ্রহণের দিনে অর্থাৎ ২০ আগস্ট দুপুর ২টায় ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে সংসদ সদস্যদের বৈঠক আহ্বান করছি। গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মেয়াদের পৌনে দুই বছর বাকি থাকতে পদত্যাগ করেন। বর্তমানে এ পদে দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সমকামিতায় অভিযুক্ত ঢাবির দুই শিক্ষার্থী হল থেকে বহিষ্কার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন : আলোচনায় সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ

আপডেট সময় ১৩ ঘন্টা আগে
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এবার একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন। যদিও ক্ষমতাসীন দল বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধিত্ব নিয়ে সংসদে রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিএনপির প্রার্থীই নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন বলে অনুমেয়। এমন বাস্তবতায়ও প্রার্থী দিয়েছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। ফলে তিন যুগ পর আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে, কেউ দলীয় প্রার্থীর বাইরে অন্য কাউকে ভোট দিলে তার ক্ষেত্রে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কি প্রযোজ্য হবে?
জাতীয় সংসদে কোনো সদস্য নিজের দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাকে বলা হয় ‘ফ্লোর ক্রসিং’। অনেক দেশে এমপিদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ আছে। তবে বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সেই সুযোগ নেই। রাজনৈতিক দল হতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়া বিষয়ে সংবিধানের ৭০(খ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না। এ বিষয়ে সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যেহেতু সংশোধিত হয়নি, সুতরাং এটা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কার্যকর হবে। সাংবাদিকেদের প্রশ্নের জবাবে ৭০ অনুচ্ছেদ তুলে ধরে তিনি বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে এমপিরা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। কেউ দলের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে।
চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম দাবি করেন, জুলাই সনদ অনুযায়ীও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৭০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে। ৭০ অনুচ্ছেদে অর্থবিল ও আস্থাভোট ছাড়া অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে মত দিতে পারবেন। পরাজয় জেনেও নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, এটাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দিতে চাই না। আমরা সে কারণে বিরোধী দলের জায়গা থেকে প্রার্থী দিয়েছি। ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উচিত ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, যেহেতু গণভোটের রায়ও সংস্কারের পক্ষে এসেছে, তাই ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা যেত। তাহলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আরও বেশি সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য হতেন। এদিকে ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ২০২৬’ উপলক্ষে গতকাল জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা হয়। সভায় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং হুইপ মো. জিকে গউছ, রকিবুল ইসলাম বকুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ, মো. আখতারুজ্জামান মিয়া ও এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, সংসদ সচিবালয় সচিব ও নির্বাচন কমিশন সচিব অংশগ্রহণ করেন। আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে। সংরক্ষিত আসনের ৫০ জন নারী এমপিসহ মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোটার। এ নির্বাচন সামনে রেখে কোনো বিশেষ অধিবেশন ডাকা হচ্ছে না। বেলা ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোট হবে। ভোটের দিন সংসদ কক্ষে বৈঠক ডাকবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এই বৈঠকে যার যার আসনে সংসদ সদস্যরা বসবেন। নির্বাচনী কর্তা হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, রাষ্ট্রপতি, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও স্পিকারের ভোট দেওয়ার দৃশ্য গণমাধ্যমকে সরাসরি সম্প্রচারের সুযোগ দেওয়া হবে। ভোটগ্রহণ শেষে ব্যালট গণনা ও ফলাফল প্রস্তুতের কার্যক্রমও ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে। এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট কীভাবে নেওয়া হবে, তা বিস্তারিত তুলে ধরেছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ। গতকাল মঙ্গলবার সংসদ ভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সভাপতিত্বে প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে ইসি সচিব বলেন, ভোটের জন্য (সংসদ সদস্যদের আহ্বান জানিয়ে) সংসদ কক্ষে বৈঠক আহ্বান করবেন সিইসি। আজকে আমরা গেজেটটা করব। ভোটদান পদ্ধতি বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, সংসদ সদস্যরা তাদের নিজ নিজ আসনে বসবেন। নির্বাচনী কর্তার সঙ্গে আমরা যারা সহায়ক কর্মকর্তা থাকব, আমরা তাদের কাছে ব্যালট পেপারটা পৌঁছে দিব। সংসদ সদস্যরা প্রার্থীর নামের পাশে ভোটারের পূর্ণ স্বাক্ষর ও বিভক্তি সংখ্যা লিখে ব্যালট পেপার বাক্সে রাখবেন। ইসি সচিব আরও বলেন, এখান থেকে সহায়ক কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে আমরা ইসির সহকর্মীর নাম প্রেরণ করব; তাদেরকে আলাদা করে আইডি কার্ড দেওয়া হবে। আর সংসদ সচিবালয় থেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সাহায্যকারী কর্মকর্তা দেবেন। ইসি সচিব বলেন, সিইসির বসার জায়গা নির্ধারণ করে দেবে সংসদ সচিবালয় থেকে। নির্বাচন কমিশনার মহোদয়গণও যদি যেতে চান, আমরা তাদের নামও পৌঁছাব। তারা ‘জাস্ট অ্যাটেন্ডেন্স’ হিসেবে থাকবেন। ১৯৯১-এর পরে তো এখন প্রথম হচ্ছে, এত দীর্ঘ বিরতিতে এই কমিশন এটি দেখার এবং প্রত্যক্ষ করার সুযোগ হয়তো নেবে। প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর বিধিমালা অনুযায়ী ব্যালট পেপার ছাপাবে ইসি। ইসি সচিব বলেন, ব্যালট পেপারে দুটো পার্ট, একটা চেকমুড়ি আর একটা হচ্ছে ভোটের ব্যালট। মুড়িতে চারটা তথ্য থাকে, ব্যালটের ক্রমিক, যিনি ভোটার তার নাম, বিভক্তি নম্বর, আর স্বাক্ষর করে ব্যালটটা নিতে হবে। ডান দিকের সাইডটা যেটা ব্যালট, সেই ব্যালটটায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম থাকবে। তার পাশে স্পেস দেওয়া আছে, সেই স্পেসে ভোটার পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন। প্রস্তুতিমূলক সভার আলোচনা তুলে ধরে সচিব আখতার আহমেদ বলেন, তিনটা ব্যালট বাক্স রাখা হবে। যেকোনোটায় সংসদ সদস্য নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী কাছের কোনো একটা বাক্সে ব্যালট ফেলবেন। সংসদ কক্ষে ভোট গণনা শেষে দ্রুত ফল ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশের ব্যবস্থা নেবে ইসি। আখতার আহমেদ বলেন, যখন ভোট গ্রহণ শেষ হবে, আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ওখানে কাউন্টিং করব। বৈধ কয়টা কাস্ট হয়েছে, প্রার্থীদের ফলাফল সংসদে ঘোষণা করবেন সিইসি। প্রাথমিক ফলাফল ওখানে ঘোষণা করা হবে। ইসি সচিবালয়ে গেজেট করা হবে। ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী এ ভোট হচ্ছে। নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচনী কর্তাকে সহায়তায় ইসির ২০ জন সহায়ক কর্মকর্তা থাকবেন, সঙ্গে সংসদ সচিবালয়ের প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা নিয়েজিত হবেন। সংসদীয় ব্যবস্থা ফেরার পর দুই প্রার্থী থাকায় ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটাভুটি হয়। এরপর ৭ বার একক প্রার্থী থাকায় বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন রাষ্ট্রপতি। এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে আগামী ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের বৈঠক ডেকেছে ইসি। গতকাল রাতে ‘নির্বাচনী কর্তা’ সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিনের পক্ষে নোটিশের প্রজ্ঞাপনটি জারি করেছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। নোটিশে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৫(৩) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ৬ আগস্ট প্রজ্ঞাপনের (নির্বাচনের তফসিল) ধারাবাহিকতায় স্পিকারের সঙ্গে আলোচনাক্রমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত ভোটগ্রহণের দিনে অর্থাৎ ২০ আগস্ট দুপুর ২টায় ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে সংসদ সদস্যদের বৈঠক আহ্বান করছি। গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মেয়াদের পৌনে দুই বছর বাকি থাকতে পদত্যাগ করেন। বর্তমানে এ পদে দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।