ঢাকা , রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইতিহাস গড়ে রোনালদো বললেন ‘আই এম ব্যাক’

বিশ্বকাপে অবশেষে গোলের দেখা পেলেন পর্তুগালের তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি শুধু দলের বড় জয়ই নিশ্চিত করেননি, বরং দীর্ঘ এক হতাশাজনক সপ্তাহের পর নিজের সেরা ছন্দে ফেরার বার্তাও দিয়েছেন।
মঙ্গলবারের ম্যাচে রোনালদোর দুই গোলের ওপর ভর করে পর্তুগাল ৫-০ ব্যবধানে সহজ জয় পায়। এর ফলে প্রথম ম্যাচে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর সঙ্গে ১-১ ড্রয়ের পর দল ও খেলোয়াড়—দু’পক্ষই কিছুটা স্বস্তি ফিরে পায়। এই ম্যাচে গোল করার মাধ্যমে রোনালদো বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি গড়েন। পাশাপাশি তিনি পর্তুগালের হয়ে কিংবদন্তি ইউসেবিওকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতাও হন।
মেসি, আর্লিং হালান্ড ও কিলিয়ান এমবাপ্পে যখন টুর্নামেন্টে নিজেদের গোল উদযাপন করছিলেন, তখন রোনালদোও নিজের নাম তালিকায় যোগ করে নেন। পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ বলেন, ‘মেসি-রোনালদোর মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা দুই খেলোয়াড়কেই আরও ভালো হতে অনুপ্রাণিত করে।’ তিনি বলেন, ‘এই দুই ফুটবলার বছরের পর বছর ফুটবলকে উন্নত করেছেন এবং তাদের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিজেদের উন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রোনালদো জাতীয় দলের একজন আদর্শ খেলোয়াড়, যিনি মাঠে ও ড্রেসিং রুমে অসাধারণ মনোভাব দেখান।’ তিনি আরও বলেন, ‘শুধু গোল নয়, রোনালদোর পাস ও সুযোগ তৈরির ক্ষমতাও তাকে বিশ্বকাপের আদর্শ খেলোয়াড় হিসেবে তুলে ধরে।’ এদিন ম্যাচ শেষে রোনালদো ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বলেন ‘আই এম ব্যাক (আমি ফিরে এসেছি)’। তবে কোচ মার্তিনেজ জানান, তিনি কখনোই রোনালদোকে নিজের ওপর সন্দেহ করতে দেখেননি। তিনি বলেন, ‘রোনালদো একজন মানবিক মানুষ এবং অনুভূতি প্রকাশ করতে পারেন, কিন্তু তার সবচেয়ে বড় গুণ হলো প্রতিদিনই নতুন উদ্যমে কাজ করার মানসিকতা।’ অন্যদিকে উজবেকিস্তানের কোচ ফাবিও ক্যানাভারো, যিনি ২০০৬ বিশ্বকাপে ইতালিকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন, রোনালদোর দীর্ঘ ক্যারিয়ার ও ধারাবাহিকতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘রোনালদোর বিপক্ষে খেললে তাকে এক মুহূর্তের জায়গাও দেওয়া যায় না, নইলে সে সুযোগ পেলে গোল করে দেয়। তার মতে, রোনালদোকে দলে সবাই খেলায় যুক্ত রাখে এবং সতর্ক ডিফেন্ডার না হলে তাকে আটকানো কঠিন।’ ম্যাচ শেষে ক্যানাভারো রোনালদোকে আরও অনেক বছর খেলা চালিয়ে যাওয়ার শুভকামনাও জানান। এদিকে ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো রোনালদোর এই অর্জনের প্রশংসা করে তাকে অভিনন্দন জানান এবং টুর্নামেন্টের বাকি সময়ের জন্য শুভকামনা জানান।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

ইতিহাস গড়ে রোনালদো বললেন ‘আই এম ব্যাক’

আপডেট সময় ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপে অবশেষে গোলের দেখা পেলেন পর্তুগালের তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি শুধু দলের বড় জয়ই নিশ্চিত করেননি, বরং দীর্ঘ এক হতাশাজনক সপ্তাহের পর নিজের সেরা ছন্দে ফেরার বার্তাও দিয়েছেন।
মঙ্গলবারের ম্যাচে রোনালদোর দুই গোলের ওপর ভর করে পর্তুগাল ৫-০ ব্যবধানে সহজ জয় পায়। এর ফলে প্রথম ম্যাচে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর সঙ্গে ১-১ ড্রয়ের পর দল ও খেলোয়াড়—দু’পক্ষই কিছুটা স্বস্তি ফিরে পায়। এই ম্যাচে গোল করার মাধ্যমে রোনালদো বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি গড়েন। পাশাপাশি তিনি পর্তুগালের হয়ে কিংবদন্তি ইউসেবিওকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতাও হন।
মেসি, আর্লিং হালান্ড ও কিলিয়ান এমবাপ্পে যখন টুর্নামেন্টে নিজেদের গোল উদযাপন করছিলেন, তখন রোনালদোও নিজের নাম তালিকায় যোগ করে নেন। পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ বলেন, ‘মেসি-রোনালদোর মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা দুই খেলোয়াড়কেই আরও ভালো হতে অনুপ্রাণিত করে।’ তিনি বলেন, ‘এই দুই ফুটবলার বছরের পর বছর ফুটবলকে উন্নত করেছেন এবং তাদের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিজেদের উন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রোনালদো জাতীয় দলের একজন আদর্শ খেলোয়াড়, যিনি মাঠে ও ড্রেসিং রুমে অসাধারণ মনোভাব দেখান।’ তিনি আরও বলেন, ‘শুধু গোল নয়, রোনালদোর পাস ও সুযোগ তৈরির ক্ষমতাও তাকে বিশ্বকাপের আদর্শ খেলোয়াড় হিসেবে তুলে ধরে।’ এদিন ম্যাচ শেষে রোনালদো ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বলেন ‘আই এম ব্যাক (আমি ফিরে এসেছি)’। তবে কোচ মার্তিনেজ জানান, তিনি কখনোই রোনালদোকে নিজের ওপর সন্দেহ করতে দেখেননি। তিনি বলেন, ‘রোনালদো একজন মানবিক মানুষ এবং অনুভূতি প্রকাশ করতে পারেন, কিন্তু তার সবচেয়ে বড় গুণ হলো প্রতিদিনই নতুন উদ্যমে কাজ করার মানসিকতা।’ অন্যদিকে উজবেকিস্তানের কোচ ফাবিও ক্যানাভারো, যিনি ২০০৬ বিশ্বকাপে ইতালিকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন, রোনালদোর দীর্ঘ ক্যারিয়ার ও ধারাবাহিকতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘রোনালদোর বিপক্ষে খেললে তাকে এক মুহূর্তের জায়গাও দেওয়া যায় না, নইলে সে সুযোগ পেলে গোল করে দেয়। তার মতে, রোনালদোকে দলে সবাই খেলায় যুক্ত রাখে এবং সতর্ক ডিফেন্ডার না হলে তাকে আটকানো কঠিন।’ ম্যাচ শেষে ক্যানাভারো রোনালদোকে আরও অনেক বছর খেলা চালিয়ে যাওয়ার শুভকামনাও জানান। এদিকে ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো রোনালদোর এই অর্জনের প্রশংসা করে তাকে অভিনন্দন জানান এবং টুর্নামেন্টের বাকি সময়ের জন্য শুভকামনা জানান।