ঢাকা , বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইয়ামাল-রাফিনিয়ার জোড়া গোলে বার্সার দাপুটে জয়

টানা দুই ম্যাচে হারের ধাক্কা সামলে জয়ে ফিরেছে বার্সেলোনা। শনিবার রাতে আলাভেসকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে লা লিগার শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছে হান্সি ফ্লিকের দল। জোড়া গোল করেছেন রাফিনিয়া ও লামিনে ইয়ামাল। অন্য দুটি গোল ফেরমিন লোপেস ও বদলি খেলোয়াড় অ্যান্থনি গর্ডনের।
এর আগে লেভান্তেকে ২-০ গোলে হারিয়ে সাময়িকভাবে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠেছিল দ্বিতীয় স্থানে থাকা আতলেতিকো মাদ্রিদ। তবে আলাভেসকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে আবারও দুই পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে গেছে বার্সেলোনা। চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির কাছে হার এবং গত সপ্তাহে নিজেদের মাঠে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের কাছে এল ক্লাসিকোয় পরাজয়ের ক্ষত নিয়ে মাঠে নেমেছিল বার্সেলোনা। তবে এবার শুরু থেকেই ছন্দে দেখা গেছে ফ্লিকের দলকে।
প্রথমার্ধে দুটি গোল করেন রাফিনিয়া। মাঝে একটি গোল করেন ফেরমিন লোপেস। বিরতির ঠিক আগে ব্যবধান বাড়ান ইয়ামাল। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন কিশোর এই উইঙ্গার। বদলি হিসেবে নামা অ্যান্থনি গর্ডন করেন দলের ষষ্ঠ গোল। শেষ দিকে আলাভেসের হয়ে ব্যবধান কমান মারিয়ানো দিয়াজ। এদিকে, স্পেনের তোলেদো প্রদেশে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৬৯ জনের স্মরণে দিনের প্রতিটি ম্যাচ শুরুর আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। রক্ষণভাগে একের পর এক চোটের কারণে কিছুটা পরিবর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নামে বার্সেলোনা। ডাচ মিডফিল্ডার ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংকে খেলানো হয় সেন্টারব্যাক হিসেবে। আর তরুণ ব্রায়ান ফারিনাস প্রথমবারের মতো রাইটব্যাক পজিশনে শুরুর একাদশে সুযোগ পান। তবে তাতে দলের পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব পড়েনি। ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতা রাফিনিয়া নিজের দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রাখেন। পেদ্রির বাড়ানো বল পেয়ে ফেরমিন লোপেস বলটি বক্সের মধ্যে বাড়িয়ে দেন। সেখান থেকে বল জালে পাঠান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। এরপর আবদে রেব্বাচের প্রচেষ্টা থেকে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল আলাভেস। কিন্তু ২৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বার্সেলোনা। ইয়ামালের পাস থেকে বল পেয়ে সংকীর্ণ কোণ থেকে শট নেন লোপেস। বলটি গোলমুখ পেরিয়ে দূরের পোস্ট দিয়ে জালে জড়ায়। যদিও মনে হয়েছিল, গোল করার বদলে সতীর্থকে ক্রস বাড়াতে চেয়েছিলেন তিনি। এরপর কাছ থেকে গোল করার দুটি দারুণ সুযোগ নষ্ট করেন ইয়ামাল ও করিম আদেয়েমি। তবে রাফিনিয়া সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি। লোপেসের পাসে গোলরক্ষক আন্তোনিও সিভেরার মুখোমুখি হয়ে নিখুঁত শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। এটি ছিল চলতি লিগে তার ১৫তম গোল। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে গোল করে বার্সেলোনার ব্যবধান ৪-০ করেন ইয়ামাল। এর আগে সহজ সুযোগ নষ্ট করায় যেন কিছুটা ক্ষুব্ধই ছিলেন এই তরুণ তারকা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবারও গোলের সুযোগ নষ্ট করেন আদেয়েমি। এবারও নিঃস্বার্থভাবে তাকে বল বাড়িয়ে দিয়েছিলেন লোপেস। তবে গোল করতে পারেননি তিনি। এরপর বদলি হিসেবে নামা গ্যাব্রিয়েল জেসুসের পাস থেকে গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে দারুণ চিপ শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ইয়ামাল। বার্সেলোনার পঞ্চম গোলটি আসে তার পা থেকেই। পরে একই ধরনের শটে দলের ষষ্ঠ গোলটি করেন গর্ডন। ম্যাচের শেষ দিকে সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড মারিয়ানো দিয়াজ আলাভেসের হয়ে একটি গোল শোধ করেন। তবে তাতে বার্সেলোনার বড় জয়ে কোনো ছেদ পড়েনি। এর আগে ভ্যালেন্সিয়ায় লেভান্তেকে ২-০ গোলে হারায় আতলেতিকো মাদ্রিদ। দিয়েগো সিমিওনের দলকে জেতাতে গোল করেন আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো ও জুলিয়ানো সিমিওনে। এই জয়ে লা লিগায় টানা সপ্তম জয় তুলে নিয়েছে আতলেতিকো। দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রেখে শিরোপাধারী বার্সেলোনার ওপর চাপও বাড়িয়েছিল তারা। ম্যাচ শেষে মুভিস্টারকে আতলেতিকো কোচ সিমিওনে বলেন, 'দলের পারফরম্যান্সে আমি খুবই খুশি। মৌসুম শেষ হতে এখনো অনেক দেরি। আমরা ম্যাচ ধরে ধরে এগিয়ে যেতে চাই।' দলের দুই গোলেই অবদান ছিল অতিথিদের প্রধান সৃজনশীল খেলোয়াড় অ্যালেক্স বায়েনার। এই জয়ের মধ্য দিয়ে আতলেতিকোর কোচ হিসেবে লা লিগায় ৩৪৪তম জয় পেলেন সিমিওনে। ক্লাবটির হয়ে সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ডে লুইস আরাগোনেসকে ছুঁয়েছেন তিনি। ২০১১ সালে আতলেতিকোর দায়িত্ব নেওয়া সিমিওনে বলেন, 'এই অর্জনকে আমি নিজের বলে মনে করি না। এটি আমার খেলোয়াড়দের এবং এত বছর ধরে যারা আমার সঙ্গে ছিলেন, সবার অর্জন।' মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্ন মিউনিখের মুখোমুখি হবে আতলেতিকো। এরপর আগামী সপ্তাহে লা লিগায় নিজেদের মাঠ মেত্রোপলিতানোতে বার্সেলোনাকে আতিথ্য দেবে তারা। অন্যদিকে, রোববার মাঠে নামবে তৃতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ। প্রতিপক্ষ রেসিং সান্তান্দার।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

ইয়ামাল-রাফিনিয়ার জোড়া গোলে বার্সার দাপুটে জয়

আপডেট সময় ১০:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
টানা দুই ম্যাচে হারের ধাক্কা সামলে জয়ে ফিরেছে বার্সেলোনা। শনিবার রাতে আলাভেসকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে লা লিগার শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছে হান্সি ফ্লিকের দল। জোড়া গোল করেছেন রাফিনিয়া ও লামিনে ইয়ামাল। অন্য দুটি গোল ফেরমিন লোপেস ও বদলি খেলোয়াড় অ্যান্থনি গর্ডনের।
এর আগে লেভান্তেকে ২-০ গোলে হারিয়ে সাময়িকভাবে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠেছিল দ্বিতীয় স্থানে থাকা আতলেতিকো মাদ্রিদ। তবে আলাভেসকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে আবারও দুই পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে গেছে বার্সেলোনা। চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির কাছে হার এবং গত সপ্তাহে নিজেদের মাঠে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের কাছে এল ক্লাসিকোয় পরাজয়ের ক্ষত নিয়ে মাঠে নেমেছিল বার্সেলোনা। তবে এবার শুরু থেকেই ছন্দে দেখা গেছে ফ্লিকের দলকে।
প্রথমার্ধে দুটি গোল করেন রাফিনিয়া। মাঝে একটি গোল করেন ফেরমিন লোপেস। বিরতির ঠিক আগে ব্যবধান বাড়ান ইয়ামাল। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন কিশোর এই উইঙ্গার। বদলি হিসেবে নামা অ্যান্থনি গর্ডন করেন দলের ষষ্ঠ গোল। শেষ দিকে আলাভেসের হয়ে ব্যবধান কমান মারিয়ানো দিয়াজ। এদিকে, স্পেনের তোলেদো প্রদেশে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৬৯ জনের স্মরণে দিনের প্রতিটি ম্যাচ শুরুর আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। রক্ষণভাগে একের পর এক চোটের কারণে কিছুটা পরিবর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নামে বার্সেলোনা। ডাচ মিডফিল্ডার ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংকে খেলানো হয় সেন্টারব্যাক হিসেবে। আর তরুণ ব্রায়ান ফারিনাস প্রথমবারের মতো রাইটব্যাক পজিশনে শুরুর একাদশে সুযোগ পান। তবে তাতে দলের পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব পড়েনি। ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতা রাফিনিয়া নিজের দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রাখেন। পেদ্রির বাড়ানো বল পেয়ে ফেরমিন লোপেস বলটি বক্সের মধ্যে বাড়িয়ে দেন। সেখান থেকে বল জালে পাঠান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। এরপর আবদে রেব্বাচের প্রচেষ্টা থেকে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল আলাভেস। কিন্তু ২৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বার্সেলোনা। ইয়ামালের পাস থেকে বল পেয়ে সংকীর্ণ কোণ থেকে শট নেন লোপেস। বলটি গোলমুখ পেরিয়ে দূরের পোস্ট দিয়ে জালে জড়ায়। যদিও মনে হয়েছিল, গোল করার বদলে সতীর্থকে ক্রস বাড়াতে চেয়েছিলেন তিনি। এরপর কাছ থেকে গোল করার দুটি দারুণ সুযোগ নষ্ট করেন ইয়ামাল ও করিম আদেয়েমি। তবে রাফিনিয়া সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি। লোপেসের পাসে গোলরক্ষক আন্তোনিও সিভেরার মুখোমুখি হয়ে নিখুঁত শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। এটি ছিল চলতি লিগে তার ১৫তম গোল। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে গোল করে বার্সেলোনার ব্যবধান ৪-০ করেন ইয়ামাল। এর আগে সহজ সুযোগ নষ্ট করায় যেন কিছুটা ক্ষুব্ধই ছিলেন এই তরুণ তারকা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবারও গোলের সুযোগ নষ্ট করেন আদেয়েমি। এবারও নিঃস্বার্থভাবে তাকে বল বাড়িয়ে দিয়েছিলেন লোপেস। তবে গোল করতে পারেননি তিনি। এরপর বদলি হিসেবে নামা গ্যাব্রিয়েল জেসুসের পাস থেকে গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে দারুণ চিপ শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ইয়ামাল। বার্সেলোনার পঞ্চম গোলটি আসে তার পা থেকেই। পরে একই ধরনের শটে দলের ষষ্ঠ গোলটি করেন গর্ডন। ম্যাচের শেষ দিকে সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড মারিয়ানো দিয়াজ আলাভেসের হয়ে একটি গোল শোধ করেন। তবে তাতে বার্সেলোনার বড় জয়ে কোনো ছেদ পড়েনি। এর আগে ভ্যালেন্সিয়ায় লেভান্তেকে ২-০ গোলে হারায় আতলেতিকো মাদ্রিদ। দিয়েগো সিমিওনের দলকে জেতাতে গোল করেন আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো ও জুলিয়ানো সিমিওনে। এই জয়ে লা লিগায় টানা সপ্তম জয় তুলে নিয়েছে আতলেতিকো। দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রেখে শিরোপাধারী বার্সেলোনার ওপর চাপও বাড়িয়েছিল তারা। ম্যাচ শেষে মুভিস্টারকে আতলেতিকো কোচ সিমিওনে বলেন, 'দলের পারফরম্যান্সে আমি খুবই খুশি। মৌসুম শেষ হতে এখনো অনেক দেরি। আমরা ম্যাচ ধরে ধরে এগিয়ে যেতে চাই।' দলের দুই গোলেই অবদান ছিল অতিথিদের প্রধান সৃজনশীল খেলোয়াড় অ্যালেক্স বায়েনার। এই জয়ের মধ্য দিয়ে আতলেতিকোর কোচ হিসেবে লা লিগায় ৩৪৪তম জয় পেলেন সিমিওনে। ক্লাবটির হয়ে সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ডে লুইস আরাগোনেসকে ছুঁয়েছেন তিনি। ২০১১ সালে আতলেতিকোর দায়িত্ব নেওয়া সিমিওনে বলেন, 'এই অর্জনকে আমি নিজের বলে মনে করি না। এটি আমার খেলোয়াড়দের এবং এত বছর ধরে যারা আমার সঙ্গে ছিলেন, সবার অর্জন।' মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্ন মিউনিখের মুখোমুখি হবে আতলেতিকো। এরপর আগামী সপ্তাহে লা লিগায় নিজেদের মাঠ মেত্রোপলিতানোতে বার্সেলোনাকে আতিথ্য দেবে তারা। অন্যদিকে, রোববার মাঠে নামবে তৃতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ। প্রতিপক্ষ রেসিং সান্তান্দার।