ঢাকা , রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পাকিস্তানে বিস্ফোরণে নিহত ১১, আহত ৩০ যুক্তরাষ্ট্রে ‘নরইস্টার’-এ বিপর্যস্ত জনজীবন, জরুরি অবস্থা জারি জাতিসংঘ সফর : বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছে: মাহ্দী আমিন স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ওসি প্রত্যাহার, গ্রেপ্তার ৯ সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আ. লীগ নেত্রী বকুল গ্রেপ্তার রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা-লুটপাটের পর শাহ আলী থানার ওসি প্রত্যাহার নিয়োগপত্রের দাবিতে প্রাথমিকের নিয়োগবঞ্চিতদের শাহবাগে অবস্থান শক্তিশালী ঝড়ে বিপর্যস্ত নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি, জরুরি অবস্থা এবার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে সশস্ত্র হামলা ডিএমপির অভিযানে গ্রেপ্তার আরো ৫০৬

‘জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের পদত্যাগ ‘পলিটিক্যাল স্ট্যান্টবাজি’

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে জামায়াতপন্থি ১৮ আইন কর্মকর্তার একযোগে পদত্যাগকে ‘রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি’ বলে মন্তব্য করেছে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক এম বদরুদ্দোজা বাদল। একই সঙ্গে গত চার মাসে তারা রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছে তিনি।

বুধবার (২৪ জুন) সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম বদরুদ্দোজা বাদল।

বদরুদ্দোজা বাদলের মতে, তাদের পদত্যাগের বিষয়টি ‌‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। তিনি বলেন, উনাদের ওই বক্তব্যটা টোটালি পলিটিক্যাল স্ট্যান্টবাজি, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। তারা যদি সরকারের বিরুদ্ধে আচরণই করত, তারা যদি সরকারের সুযোগ-সুবিধাই না নিত, তাহলে সরকার গঠন হওয়ার পরদিনই তাদের পদত্যাগ করে চলে যাওয়ার কথা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল কিংবা অ্যাটর্নি জেনারেল পদে থাকা ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায় পদত্যাগের নজির রয়েছে। কিন্তু যাঁরা মঙ্গলবার পদত্যাগ করেছেন, তাঁরা নতুন সরকারের অধীনে চার মাস দায়িত্ব পালন করেছেন, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা নিয়েছেন এবং পদ-পদবিও ব্যবহার করেছেন।

মঙ্গলবার ইসলামিক লয়ার্স কাউন্সিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাতজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) ও ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হওয়া, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ এবং বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়টি উল্লেখ করেন।

এই পদত্যাগের প্রতিক্রিয়ায় বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, যদি তারা সত্যিই সরকারের নীতির বিরোধী হয়ে থাকতেন, তাহলে সরকার গঠনের পরপরই পদত্যাগ করতেন। চার মাস দায়িত্ব পালনের পর এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পদত্যাগকারী আইন কর্মকর্তারা দায়িত্বে থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রের পক্ষে কাজ করেছেন নাকি কোনো ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক ভূমিকা পালন করেছেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাদের পরিচালিত মামলার নথি, আপিল সংক্রান্ত মতামত এবং রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা পর্যালোচনা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আইন মন্ত্রণালয়ে সম্ভাব্য রদবদলের অংশ হিসেবে এই পদত্যাগ কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। তবে তার মতে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই তাদের পদত্যাগ করা উচিত ছিল।

তিনি আরও বলেন, সরকারের কাছ থেকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার পর শেষ মুহূর্তে সরকারের বিরুদ্ধেই অবস্থান নেওয়া হলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে-তারা এতদিন রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় কতটা আন্তরিক ছিলেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানে বিস্ফোরণে নিহত ১১, আহত ৩০

‘জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের পদত্যাগ ‘পলিটিক্যাল স্ট্যান্টবাজি’

আপডেট সময় ০৩:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে জামায়াতপন্থি ১৮ আইন কর্মকর্তার একযোগে পদত্যাগকে ‘রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি’ বলে মন্তব্য করেছে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক এম বদরুদ্দোজা বাদল। একই সঙ্গে গত চার মাসে তারা রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছে তিনি।

বুধবার (২৪ জুন) সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম বদরুদ্দোজা বাদল।

বদরুদ্দোজা বাদলের মতে, তাদের পদত্যাগের বিষয়টি ‌‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। তিনি বলেন, উনাদের ওই বক্তব্যটা টোটালি পলিটিক্যাল স্ট্যান্টবাজি, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। তারা যদি সরকারের বিরুদ্ধে আচরণই করত, তারা যদি সরকারের সুযোগ-সুবিধাই না নিত, তাহলে সরকার গঠন হওয়ার পরদিনই তাদের পদত্যাগ করে চলে যাওয়ার কথা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল কিংবা অ্যাটর্নি জেনারেল পদে থাকা ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায় পদত্যাগের নজির রয়েছে। কিন্তু যাঁরা মঙ্গলবার পদত্যাগ করেছেন, তাঁরা নতুন সরকারের অধীনে চার মাস দায়িত্ব পালন করেছেন, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা নিয়েছেন এবং পদ-পদবিও ব্যবহার করেছেন।

মঙ্গলবার ইসলামিক লয়ার্স কাউন্সিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাতজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) ও ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হওয়া, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ এবং বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়টি উল্লেখ করেন।

এই পদত্যাগের প্রতিক্রিয়ায় বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, যদি তারা সত্যিই সরকারের নীতির বিরোধী হয়ে থাকতেন, তাহলে সরকার গঠনের পরপরই পদত্যাগ করতেন। চার মাস দায়িত্ব পালনের পর এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পদত্যাগকারী আইন কর্মকর্তারা দায়িত্বে থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রের পক্ষে কাজ করেছেন নাকি কোনো ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক ভূমিকা পালন করেছেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাদের পরিচালিত মামলার নথি, আপিল সংক্রান্ত মতামত এবং রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা পর্যালোচনা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আইন মন্ত্রণালয়ে সম্ভাব্য রদবদলের অংশ হিসেবে এই পদত্যাগ কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। তবে তার মতে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই তাদের পদত্যাগ করা উচিত ছিল।

তিনি আরও বলেন, সরকারের কাছ থেকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার পর শেষ মুহূর্তে সরকারের বিরুদ্ধেই অবস্থান নেওয়া হলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে-তারা এতদিন রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় কতটা আন্তরিক ছিলেন।