ঢাকা
,
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
এনসিপি বলতে কিছু নেই, যা আছে তা জামায়াতের শিশু সংগঠন: রাশেদ খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ধীরগতিতে টানা ভোগান্তি
সরকারে যুক্ত হচ্ছেন শরিকরা
পরিহার করতে হবে পুরোনো ধারার রাজনীতি
যুক্তরাষ্ট্রে এক মাসে রেকর্ড ৫১ হাজার অভিবাসী গ্রেফতার
অনলাইন জুয়ায় ডুবছে দেশ
সিলেটে বাস দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার পাবে ৫ লাখ টাকা
যুক্তরাষ্ট্রে এক মাসে ৫১ হাজার অভিবাসী আটক
জুলাই যোদ্ধাদের সিএনজি-অটোরিকশা-রিকশা উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রেমিকাকে অর্থ দেওয়ার অভিযোগ, অস্বীকার ইনফান্তিনোর
ইউপি নাকি সিটি দিয়ে শুরু, এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি
-
স্বাধীনতা নিউজ ডেস্ক : - আপডেট সময় ১১:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
- ১০ বার পড়া হয়েছে
দলীয় প্রতীকবিহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এখন অপেক্ষা সরকারের সবুজ সংকেতের। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও স্থানীয় নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় কোনো বাধা হবে না। তবে ভোটের শুরুটা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) থেকে, নাকি সিটি করপোরেশন দিয়ে হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচনের বাজেট, সরকারের সুবিধা-অসুবিধা যাচাইয়ের পর দ্রুতই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে নির্বাচন শুরু হওয়ার পর এক বছরের মধ্যে সব স্তরের স্থানীয় নির্বাচন শেষ করতে চায় সরকার। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় নির্বাচন হবে সরকার ও বিএনপির জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের ‘এসিড টেস্ট’।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমাদের সময়কে বলেন, বর্ষা মৌসুমের পর (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর) ধাপে ধাপে দেশের সব স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচন শুরু হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ এবং নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ দেশের ১৩ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দলীয় প্রতীক ও ব্যানার ছাড়া স্থানীয় নির্বাচনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সেক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন ও সেবা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তিক দলীয় প্রতীক বাদ দিয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকছে। তবে কোনো প্রার্থী বিগত সহিংসতা ও অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার সুযোগ থাকবে। একইসঙ্গে পোস্টার ও ইভিএম ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে ভোট অনুষ্ঠানের রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।
৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৩৩০ পৌরসভা, ৪৯৫ উপজেলা, ৬১ জেলা পরিষদ ও ১৩ সিটি করপোরেশন মিলিয়ে বিশাল এই কর্মযজ্ঞ সর্বোচ্চ এক বছরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। যদিও এই মুহূর্তে জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া আছে। তারা সবাই ক্ষমতাসীন দল বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সে অর্থে জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সবার পরে হতে পারে।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞদের মতে, দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচনী সহিংসতা ও সন্ত্রাস গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। পারিবারিক-সামাজিক রীতিনীতি ও বন্ধনকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিল। শুধু ভিন্নমতের কারণে প্রিয়জন হয়ে উঠেছিল খুনি। তাই এবার স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বাদ দেওয়া ইতিবাচক। কারণ তৃণমূলে গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনতে এবং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত এড়াতে দলীয় প্রতীকবিহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। নির্বাচন কমিশনের এই রূপরেখা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার সংস্কারের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন মূলত ‘ব্যয়’সাপেক্ষে নির্ধারণ হবে ইউনিয়ন পরিষদ, নাকি সিটি করপোরেশন পর্যায় থেকে শুরু হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের খসড়া প্রতিবেদন জানাচ্ছে; ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা বেশি, তাই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ব্যয় বেশি। সেক্ষেত্রে শুরুতেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট আয়োজন না হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে। ফলে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা নির্বাচন আগে শুরু হতে পারে; এতে ব্যয়ও অপেক্ষাকৃত কম লাগবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই প্রথম যেহেতু স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তাই নির্বাচনের জয়-পরাজয়ের সঙ্গে সরকারের ভাবমূর্তিও অনেকাংশে জড়িয়ে আছে। তাই নির্বাচনী মাঠের ‘পরীক্ষামূলক টেস্ট’ হিসেবে বিচার-বিশ্লেষণ করেই সরকার নির্বাচন শুরু করবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রমতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ইস্যুতে মন্ত্রণালয় থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো বার্তা আসেনি কমিশনে। তাই সবকিছুই এখন সম্ভাব্য বলতে হচ্ছে। তারা সরকারের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায়। তবে চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তাদের প্রস্তুতির রয়েছে।
সম্প্রতি স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, স্থানীয় সরকারের অনেক স্তর থাকায় ভোট শুরু করে শেষ করতে স্বাভাবিকভাবেই এক বছর সময় লাগবে। অংশগ্রহণের যোগ্যতা ও আইনি অবস্থান প্রসঙ্গে উপদেষ্টা স্পষ্ট করেছেন, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পূর্ণ নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল দলীয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে না। অতীতে কেউ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগে থাকলেও সুনির্দিষ্ট অপরাধ বা মামলায় জড়িত না থাকলে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ইস্যুতে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বলছেন, দলীয় প্রতীক না থাকায় এটি তাদের জন্য এক ধরনের ‘এসিড টেস্ট’। ক্ষমতার আসার পর সাধারণ মানুষের কাছে দলের নীতি ও সরকারের ভাবমূর্তি কতটুকু গ্রহণযোগ্য হয়েছে, তা যাচাই করার বড় সুযোগ স্থানীয় সরকার নির্বাচন। আর দলীয় প্রতীকহীন ভোটে প্রার্থীর যোগ্যতা এবং জনপ্রিয়তাই প্রধান ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে। অতীতে দলীয় প্রতীক থাকায় দলের একাধিক যোগ্য প্রার্থীর মধ্যে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ নিয়ে যে চরম কোন্দল ও সংঘাত হতো, প্রতীকহীন ভোটে তা থাকবে না। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন যত বিলম্ব হবে, ক্ষমতাসীন দলের প্রতিদ্বন্দ্বী তত বাড়বে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আমাদের সময়কে বলেন, দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া (আওয়ামী লীগ) দলটির তৃণমূল নেতারাও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সরকারের বিরুদ্ধে মাঠপর্যায়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ বা ‘পুনর্বাসনের প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে দেখছেন। তবে দলীয় প্রতীকবিহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচন যেন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন ও রাজনৈতিক অস্তিত্বের প্ল্যাটফর্ম না হয়; সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
বিএনপির দপ্তর সূত্রমতে, নির্বাচনে বিএনপিকে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। স্থানীয় নির্বাচনে মাঠপর্যায়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে আবির্ভূত হবে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হওয়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অপেক্ষাকৃত ‘ক্লিন ইমেজ’সম্পন্ন স্থানীয় প্রভাবশালীরাও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মাঠে থাকতে পারে। দলের সম্প্রতি শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি সাফ জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে। কাউকে বিজয়ী করে আনা তাদের দায়িত্ব নয়। প্রার্থীদের জনগণের দুয়ারে পৌঁছাতে হবে এবং ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে হবে। যারা জনগণের মন জয় করতে পারবে, তারাই নির্বাচিত হবে। বিএনপি চেয়ারম্যানের এমন বার্তাকে তৃণমূলের জন্য যেমন সতর্কবাণী, তেমনি বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখছেন দলের নেতারা।
ইউপি থেকে শুরু হলে ভালো হবে মনে করেন বদিউল আলম : জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিশ্লেষক ও সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার আমাদের সময়কে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত সময়ের মধ্যে হওয়া উচিত। সেক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে শুরু করা গেলে ভালো হবে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। তবে তার আগে নির্বাচনসংক্রান্ত আইনগত বিষয়গুলো পরিশোধিত করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, যেহেতু এবার দলীয় প্রতীক থাকবে না; সেক্ষেত্রে যে কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এমনকি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরাও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন; যদি তারা কোনো ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়িত না থাকেন।
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ























