ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে কারণে ইসরায়েলি বসতিতে নিষেধাজ্ঞা থেকে যুক্তরাজ্যকে থামাননি ট্রাম্প

ইসরায়েলি বসতিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের যুক্তরাজ্যের পরিকল্পনা সম্পর্কে আগেই জানতেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারপরও পরিকল্পনাটি ঘোষণা না করতে লন্ডনকে থামানোর কোনো অনুরোধ তিনি করেননি বলে জানিয়েছেন এক পশ্চিমা কর্মকর্তা। দ্য টাইমস অব ইসরায়েলকে ওই কর্মকর্তা জানান, চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে ফোনে কথা হয় ট্রাম্পের। ওই সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করাসহ ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী নীতির বিরুদ্ধে লন্ডনের নেওয়া একাধিক পদক্ষেপ সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অবহিত করেন। ওই পশ্চিমা কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি স্থগিত রাখার কোনো অনুরোধ করা হয়নি।’
মঙ্গলবার ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ওয়াশিংটনের বিরোধিতা করবে না ইঙ্গিত দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যোগ দেবে না। তবে ১১টি পশ্চিমা দেশ যুক্তরাজ্যের সঙ্গে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার পরও তিনি ব্রিটিশ সিদ্ধান্তের সমালোচনা এড়িয়ে যান।
তিনি বলেন, তারা এই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে; এ বিষয়ে আমাদের জানানো হয়েছিল। কেন তারা এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, সে বিষয়ে তাদের যুক্তিও আমরা শুনেছি। স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য আমাদেরও রয়েছে। এই অঞ্চলে এমন একটি নাজুক সময়ে পশ্চিম তীরে সহিংসতা বা উত্তেজনা বাড়ুক, আমরা তা চাই না।
তবে একই দিন এর আগে ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি ভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেন। ইসরায়েলি বসতি আন্দোলনের দীর্ঘদিনের সমর্থক হাকাবির বক্তব্যে ধারণা তৈরি হয়, বসতিগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন ব্যবস্থা নিতে পারে। বিবিসিকে হাকাবি বলেন, ব্রিটিশরা যদি তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বয়কট ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তাহলে এর পরিণতি হবে ব্যাপক। তবে পরে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানান, হাকাবির ওই মন্তব্য হোয়াইট হাউস বা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দেওয়া হয়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রকৃত নীতির প্রতিনিধিত্ব করে না বলেই ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ওই পশ্চিমা কর্মকর্তা অবশ্য জানান, আগামী কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া আসতে পারে। তবে তা হাকাবির ইঙ্গিত দেওয়া মাত্রায় পৌঁছাবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। সূত্র : দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

যে কারণে ইসরায়েলি বসতিতে নিষেধাজ্ঞা থেকে যুক্তরাজ্যকে থামাননি ট্রাম্প

আপডেট সময় ১২:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইসরায়েলি বসতিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের যুক্তরাজ্যের পরিকল্পনা সম্পর্কে আগেই জানতেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারপরও পরিকল্পনাটি ঘোষণা না করতে লন্ডনকে থামানোর কোনো অনুরোধ তিনি করেননি বলে জানিয়েছেন এক পশ্চিমা কর্মকর্তা। দ্য টাইমস অব ইসরায়েলকে ওই কর্মকর্তা জানান, চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে ফোনে কথা হয় ট্রাম্পের। ওই সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করাসহ ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী নীতির বিরুদ্ধে লন্ডনের নেওয়া একাধিক পদক্ষেপ সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অবহিত করেন। ওই পশ্চিমা কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি স্থগিত রাখার কোনো অনুরোধ করা হয়নি।’
মঙ্গলবার ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ওয়াশিংটনের বিরোধিতা করবে না ইঙ্গিত দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যোগ দেবে না। তবে ১১টি পশ্চিমা দেশ যুক্তরাজ্যের সঙ্গে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার পরও তিনি ব্রিটিশ সিদ্ধান্তের সমালোচনা এড়িয়ে যান।
তিনি বলেন, তারা এই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে; এ বিষয়ে আমাদের জানানো হয়েছিল। কেন তারা এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, সে বিষয়ে তাদের যুক্তিও আমরা শুনেছি। স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য আমাদেরও রয়েছে। এই অঞ্চলে এমন একটি নাজুক সময়ে পশ্চিম তীরে সহিংসতা বা উত্তেজনা বাড়ুক, আমরা তা চাই না।
তবে একই দিন এর আগে ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি ভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেন। ইসরায়েলি বসতি আন্দোলনের দীর্ঘদিনের সমর্থক হাকাবির বক্তব্যে ধারণা তৈরি হয়, বসতিগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন ব্যবস্থা নিতে পারে। বিবিসিকে হাকাবি বলেন, ব্রিটিশরা যদি তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বয়কট ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তাহলে এর পরিণতি হবে ব্যাপক। তবে পরে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানান, হাকাবির ওই মন্তব্য হোয়াইট হাউস বা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দেওয়া হয়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রকৃত নীতির প্রতিনিধিত্ব করে না বলেই ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ওই পশ্চিমা কর্মকর্তা অবশ্য জানান, আগামী কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া আসতে পারে। তবে তা হাকাবির ইঙ্গিত দেওয়া মাত্রায় পৌঁছাবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। সূত্র : দ্য টাইমস অব ইসরায়েল