ঢাকা , রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন : পরিস্থিতি খারাপ হলে মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী

স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে প্রথম ধাপের পরিস্থিতি দেখে মাঠে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এজন্য নির্বাচন বিধিমালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনীকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দ্রত স্থানীয় সরকার বিধিমালা সংশোধন করে সরকারের কাছে পাঠানো হবে। সরকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, এবারের নির্দলীয় নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা যেমন বেশি হবে, তেমন বিভিন্ন দলের একাধিক প্রার্থীও অংশগ্রহণ করবেন। স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনেক কোন্দলও রয়েছে।
তাদের মতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) সংশোধন এনে সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় যুক্ত করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইনে সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় যুক্ত করা হচ্ছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘জেলা পরিষদ ছাড়া অন্য চারটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের আইনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনীকে যুক্ত করার প্রস্তাব করব। সংজ্ঞায় যুক্ত হলেই যে সেনাবাহিনী ব্যবহার করা হবে তা কিন্তু না।
পরিস্থিতি নিয়ে কোনো শঙ্কা থেকে যুক্ত করা হচ্ছে কি না প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা দিয়ে রাখলাম যদি প্রয়োজন হয়।’ তিনি বলেন, ‘দুই চিন্তা থেকেই রাখছি। প্রথম ধাপে নির্বাচন যদি ভালো হয়, তবে পরের ধাপে প্রয়োজন হবে না। প্রথম ধাপে নির্বাচনে যদি হোঁচট খাই, তবে পরের ধাপে যেন সেনাবাহিনী আমরা ডাকতে পারি। তখন আর কোনো প্রশ্ন থাকবে না।
ইসি কর্মকর্তারা বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ৪২ হাজার ৭৬১টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৩ হাজার সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন-২০০৯ অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থা’ অর্থ পুলিশ বাহিনী, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, আনসার বাহিনী, ব্যাটালিয়ান আনসার, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও কোস্টগার্ড। তবে নির্বাচন কমিশনের নতুন এ আইন সংশোধন হলে উল্লেখিত বাহিনীগুলোর সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীকেও স্থানীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে মোতায়েনের আইনগত ভিত্তি তৈরি হবে। ইউনিয়ন পরিষদের রোডম্যাপে বলা হয়েছে, ২০২১-২২ অর্থবছরের আগে ২৮৯টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩ হাজার ৯৮১টি, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১১০টি এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯২টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মামলা, সীমানা-জটিলতাসহ নানান কারণে দীর্ঘদিন ১০৮টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হয়নি। দেশে ইউনিয়ন পরিষদ ৪ হাজার ৫৮০টি। এর মধ্যে চলতি বছরেই ৩ হাজার ৯৮১টি নির্বাচন উপযোগী হবে। বাকিগুলো ২০২৭ ও ২০২৮ সালের দিকে নির্বাচন উপযোগী হবে। পৌরসভার রোডম্যাপ অনুযায়ী, দেশের ৩৩০ পৌরসভার মধ্যে ৩২০টি নির্বাচন উপযোগী। আইনি জটিলতার কারণে ১০টি এখনো নির্বাচন উপযোগী নয়। সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন : পরিস্থিতি খারাপ হলে মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী

আপডেট সময় ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে প্রথম ধাপের পরিস্থিতি দেখে মাঠে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এজন্য নির্বাচন বিধিমালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনীকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দ্রত স্থানীয় সরকার বিধিমালা সংশোধন করে সরকারের কাছে পাঠানো হবে। সরকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, এবারের নির্দলীয় নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা যেমন বেশি হবে, তেমন বিভিন্ন দলের একাধিক প্রার্থীও অংশগ্রহণ করবেন। স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনেক কোন্দলও রয়েছে।
তাদের মতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) সংশোধন এনে সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় যুক্ত করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইনে সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় যুক্ত করা হচ্ছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘জেলা পরিষদ ছাড়া অন্য চারটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের আইনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনীকে যুক্ত করার প্রস্তাব করব। সংজ্ঞায় যুক্ত হলেই যে সেনাবাহিনী ব্যবহার করা হবে তা কিন্তু না।
পরিস্থিতি নিয়ে কোনো শঙ্কা থেকে যুক্ত করা হচ্ছে কি না প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা দিয়ে রাখলাম যদি প্রয়োজন হয়।’ তিনি বলেন, ‘দুই চিন্তা থেকেই রাখছি। প্রথম ধাপে নির্বাচন যদি ভালো হয়, তবে পরের ধাপে প্রয়োজন হবে না। প্রথম ধাপে নির্বাচনে যদি হোঁচট খাই, তবে পরের ধাপে যেন সেনাবাহিনী আমরা ডাকতে পারি। তখন আর কোনো প্রশ্ন থাকবে না।
ইসি কর্মকর্তারা বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ৪২ হাজার ৭৬১টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৩ হাজার সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন-২০০৯ অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থা’ অর্থ পুলিশ বাহিনী, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, আনসার বাহিনী, ব্যাটালিয়ান আনসার, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও কোস্টগার্ড। তবে নির্বাচন কমিশনের নতুন এ আইন সংশোধন হলে উল্লেখিত বাহিনীগুলোর সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীকেও স্থানীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে মোতায়েনের আইনগত ভিত্তি তৈরি হবে। ইউনিয়ন পরিষদের রোডম্যাপে বলা হয়েছে, ২০২১-২২ অর্থবছরের আগে ২৮৯টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩ হাজার ৯৮১টি, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১১০টি এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯২টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মামলা, সীমানা-জটিলতাসহ নানান কারণে দীর্ঘদিন ১০৮টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হয়নি। দেশে ইউনিয়ন পরিষদ ৪ হাজার ৫৮০টি। এর মধ্যে চলতি বছরেই ৩ হাজার ৯৮১টি নির্বাচন উপযোগী হবে। বাকিগুলো ২০২৭ ও ২০২৮ সালের দিকে নির্বাচন উপযোগী হবে। পৌরসভার রোডম্যাপ অনুযায়ী, দেশের ৩৩০ পৌরসভার মধ্যে ৩২০টি নির্বাচন উপযোগী। আইনি জটিলতার কারণে ১০টি এখনো নির্বাচন উপযোগী নয়। সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন