ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত শান্তি প্রক্রিয়ায় নারীদের অধিকতর অংশগ্রহণ নিশ্চিতের আহ্বান শামা ওবায়েদের রাতে জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী, গড়বেন নতুন ইতিহাস-ব্রিফিংয়ে মাহ্দী আমিন কিশোর গ্যাং দমনে পুলিশের বড় অভিযান: এক রাতেই আটক ৬২৪ চীন-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে অংশীদার হওয়া উচিত: শি জিনপিং ৫ রাজ্যের বিধানসভা ভোটে বিজেপির খরচ ৫২৯ কোটি ভয়ংকর সেপ্টেম্বর দেউলিয়া ঘোষণা চান ১৯৭ ঋণখেলাপি কাউন্সিলর একরাম হত্যা : হাসিনা-কাদেরসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি আজ রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ

চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও বিদ্যুৎ সংকট ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। বাড়তি জ্বালানি ব্যয় পরিবার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও জরুরি সেবাগুলোর ওপর ক্রমেই চাপ বাড়াচ্ছে। খবর সিএনএনের।

পারস্য উপসাগরে ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা এবং ইয়েমেনে ফের সংঘাত শুরু হওয়ায় তেলের সরবরাহ ও পরিবহন নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এর ফলে গত সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন, চলতি শীতে যুক্তরাষ্ট্রে হিটিং অয়েলের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলোতে এর প্রভাব আরও তীব্র। জ্বালানির বাড়তি দাম মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় বাড়াচ্ছে, ব্যবসা ও পরিবহন খাতকে চাপে ফেলছে এবং প্রয়োজনীয় সেবাগুলোর ব্যয়ও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সিরিয়ায় রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সরকার ডিজেলের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ এবং পেট্রোলের দাম ২৫ শতাংশের বেশি বাড়ানোর পর বিক্ষোভ শুরু হয়। বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ, টায়ারে আগুন দেওয়া এবং তেলবাহী ট্যাংকার আটকে দেওয়ার মতো কর্মসূচি পালন করেন। তারা জ্বালানির দাম কমানোর পাশাপাশি সরকারের অর্থনৈতিক নীতিরও সমালোচনা করেন।

গুয়াতেমালায় গত সপ্তাহে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ট্রাকচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশটির কংগ্রেস বছরের শেষ পর্যন্ত জ্বালানির দাম নির্দিষ্ট সীমায় রাখার একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে। নির্ধারিত সীমার বেশি দাম হলে সরকার আমদানিকারকদের ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

পর্তুগালে উপকূলীয় শহর এসপিনহোতে শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) প্রায় ৮০ জন ব্যবসায়ী ও শ্রমিক বিক্ষোভ করেন। তারা প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রোর বাসভবন পর্যন্ত মিছিল করেন। দেশটির স্বেচ্ছাসেবী দমকল বাহিনীও সতর্ক করেছে যে জ্বালানির বাড়তি ব্যয় তাদের কার্যক্রমকে অসহনীয় চাপের মুখে ফেলছে।

ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর ফস-সুর-মেরে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রায় ৫০ জন জেলে একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ডিপো অবরোধ করেন। বাড়তি জ্বালানি খরচ ও ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপের প্রতিবাদে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষও হয়।

ফিলিপাইনে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে পরিবহন শ্রমিকেরা ধর্মঘট পালন করেন। তারা জ্বালানি ভর্তুকি এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর কর কমানোর দাবি জানান। মার্চে জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ার পর থেকেই দেশটির চালক ও ব্যবসায়ীরা বাড়তি ব্যয়ের চাপে রয়েছেন। সরকার বর্তমানে পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর আবগারি কর কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এসব বিক্ষোভে একটি অভিন্ন উদ্বেগ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট দ্রুত জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমাচ্ছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ

আপডেট সময় ০১:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও বিদ্যুৎ সংকট ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। বাড়তি জ্বালানি ব্যয় পরিবার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও জরুরি সেবাগুলোর ওপর ক্রমেই চাপ বাড়াচ্ছে। খবর সিএনএনের।

পারস্য উপসাগরে ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা এবং ইয়েমেনে ফের সংঘাত শুরু হওয়ায় তেলের সরবরাহ ও পরিবহন নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এর ফলে গত সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন, চলতি শীতে যুক্তরাষ্ট্রে হিটিং অয়েলের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলোতে এর প্রভাব আরও তীব্র। জ্বালানির বাড়তি দাম মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় বাড়াচ্ছে, ব্যবসা ও পরিবহন খাতকে চাপে ফেলছে এবং প্রয়োজনীয় সেবাগুলোর ব্যয়ও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সিরিয়ায় রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সরকার ডিজেলের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ এবং পেট্রোলের দাম ২৫ শতাংশের বেশি বাড়ানোর পর বিক্ষোভ শুরু হয়। বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ, টায়ারে আগুন দেওয়া এবং তেলবাহী ট্যাংকার আটকে দেওয়ার মতো কর্মসূচি পালন করেন। তারা জ্বালানির দাম কমানোর পাশাপাশি সরকারের অর্থনৈতিক নীতিরও সমালোচনা করেন।

গুয়াতেমালায় গত সপ্তাহে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ট্রাকচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশটির কংগ্রেস বছরের শেষ পর্যন্ত জ্বালানির দাম নির্দিষ্ট সীমায় রাখার একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে। নির্ধারিত সীমার বেশি দাম হলে সরকার আমদানিকারকদের ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

পর্তুগালে উপকূলীয় শহর এসপিনহোতে শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) প্রায় ৮০ জন ব্যবসায়ী ও শ্রমিক বিক্ষোভ করেন। তারা প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রোর বাসভবন পর্যন্ত মিছিল করেন। দেশটির স্বেচ্ছাসেবী দমকল বাহিনীও সতর্ক করেছে যে জ্বালানির বাড়তি ব্যয় তাদের কার্যক্রমকে অসহনীয় চাপের মুখে ফেলছে।

ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর ফস-সুর-মেরে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রায় ৫০ জন জেলে একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ডিপো অবরোধ করেন। বাড়তি জ্বালানি খরচ ও ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপের প্রতিবাদে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষও হয়।

ফিলিপাইনে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে পরিবহন শ্রমিকেরা ধর্মঘট পালন করেন। তারা জ্বালানি ভর্তুকি এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর কর কমানোর দাবি জানান। মার্চে জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ার পর থেকেই দেশটির চালক ও ব্যবসায়ীরা বাড়তি ব্যয়ের চাপে রয়েছেন। সরকার বর্তমানে পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর আবগারি কর কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এসব বিক্ষোভে একটি অভিন্ন উদ্বেগ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট দ্রুত জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমাচ্ছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।