ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত শান্তি প্রক্রিয়ায় নারীদের অধিকতর অংশগ্রহণ নিশ্চিতের আহ্বান শামা ওবায়েদের রাতে জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী, গড়বেন নতুন ইতিহাস-ব্রিফিংয়ে মাহ্দী আমিন কিশোর গ্যাং দমনে পুলিশের বড় অভিযান: এক রাতেই আটক ৬২৪ চীন-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে অংশীদার হওয়া উচিত: শি জিনপিং ৫ রাজ্যের বিধানসভা ভোটে বিজেপির খরচ ৫২৯ কোটি ভয়ংকর সেপ্টেম্বর দেউলিয়া ঘোষণা চান ১৯৭ ঋণখেলাপি কাউন্সিলর একরাম হত্যা : হাসিনা-কাদেরসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি আজ রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সরকারি চাকরি পেয়ে স্বামীকে তালাক!

স্বামীর উপার্জনের অর্থে পড়াশোনা ও কোচিং করে সরকারি চাকরি পাওয়ার প্রায় সাত মাসের মাথায় তাকে তালাক দিয়েছেন স্ত্রী— এমন অভিযোগ করেছেন চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার মালয়েশিয়াপ্রবাসী সাইফুল ইসলাম খোকন। তার স্বজনদের দাবি, দীর্ঘ প্রবাসজীবনের উপার্জনের অর্থে স্ত্রীর পড়াশোনা ও অন্য ব্যয় বহনের পর এখন বিপাকে পড়েছেন সাইফুল।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেনের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের উনকিলা গ্রামের সাইফুল ইসলামের। বিয়ের প্রায় চার মাস পর কর্মসূত্রে মালয়েশিয়া চলে যান সাইফুল। সাইফুলের দাবি, উচ্চশিক্ষার আগ্রহ প্রকাশ করলে স্ত্রীকে পড়াশোনার সুযোগ করে দেন তিনি। প্রথমে কুমিল্লায় বাসা ভাড়া করে এইচএসসি পড়াশোনার ব্যবস্থা করেন। পরে ঢাকার একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি, থাকা-খাওয়াসহ বিভিন্ন খরচও বহন করেন। প্রায় চার বছর ধরে এসব ব্যয় বহনের পর জান্নাতুল ফেরদৌস দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে সরকারি চাকরি পান বলে তাকে জানান।
সাইফুলের ভাষ্য, চাকরিতে যোগদানের পর স্ত্রী কর্মচারী সমিতির মাধ্যমে জমি বা প্লট কেনার জন্য অর্থ দেওয়ার কথা জানিয়ে একটি আবেদনপত্রের কপি পাঠান। এতে তাকে নমিনি করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তবে চাকরিতে যোগদানের পর স্ত্রীর সঙ্গে তার যোগাযোগ কমে যায় বলে অভিযোগ সাইফুলের। গত জুলাইয়ে দেশে ফিরে দাম্পত্য সম্পর্কে অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে স্ত্রী তাকে তালাক দেন বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে ভিন্ন কথা বলেন জান্নাতুল ফেরদৌসের ছোট ভাই ফয়সাল। তার দাবি, সাইফুল বিদেশে থাকাকালে বোনের খোঁজখবর রাখতেন না। এ কারণে জান্নাত তাকে তালাক দিয়েছেন। তবে বোনের পড়াশোনা, কোচিং ও ঢাকায় থাকা-খাওয়ার খরচ স্বামীর অর্থে হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। বক্তব্য জানতে একাধিকবার জান্নাতুল ফেরদৌসের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। সাইফুল ও তার পরিবারের অভিযোগ, স্ত্রীকে পড়াশোনা করিয়ে সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করার পর কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি তালাকের শিকার হয়েছেন। একই সঙ্গে স্ত্রীর কাছে থাকা প্রবাসজীবনের গচ্ছিত অর্থ ও অন্য পাওনা ফেরত পেতে চেষ্টা করছেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

সরকারি চাকরি পেয়ে স্বামীকে তালাক!

আপডেট সময় ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্বামীর উপার্জনের অর্থে পড়াশোনা ও কোচিং করে সরকারি চাকরি পাওয়ার প্রায় সাত মাসের মাথায় তাকে তালাক দিয়েছেন স্ত্রী— এমন অভিযোগ করেছেন চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার মালয়েশিয়াপ্রবাসী সাইফুল ইসলাম খোকন। তার স্বজনদের দাবি, দীর্ঘ প্রবাসজীবনের উপার্জনের অর্থে স্ত্রীর পড়াশোনা ও অন্য ব্যয় বহনের পর এখন বিপাকে পড়েছেন সাইফুল।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেনের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের উনকিলা গ্রামের সাইফুল ইসলামের। বিয়ের প্রায় চার মাস পর কর্মসূত্রে মালয়েশিয়া চলে যান সাইফুল। সাইফুলের দাবি, উচ্চশিক্ষার আগ্রহ প্রকাশ করলে স্ত্রীকে পড়াশোনার সুযোগ করে দেন তিনি। প্রথমে কুমিল্লায় বাসা ভাড়া করে এইচএসসি পড়াশোনার ব্যবস্থা করেন। পরে ঢাকার একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি, থাকা-খাওয়াসহ বিভিন্ন খরচও বহন করেন। প্রায় চার বছর ধরে এসব ব্যয় বহনের পর জান্নাতুল ফেরদৌস দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে সরকারি চাকরি পান বলে তাকে জানান।
সাইফুলের ভাষ্য, চাকরিতে যোগদানের পর স্ত্রী কর্মচারী সমিতির মাধ্যমে জমি বা প্লট কেনার জন্য অর্থ দেওয়ার কথা জানিয়ে একটি আবেদনপত্রের কপি পাঠান। এতে তাকে নমিনি করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তবে চাকরিতে যোগদানের পর স্ত্রীর সঙ্গে তার যোগাযোগ কমে যায় বলে অভিযোগ সাইফুলের। গত জুলাইয়ে দেশে ফিরে দাম্পত্য সম্পর্কে অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে স্ত্রী তাকে তালাক দেন বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে ভিন্ন কথা বলেন জান্নাতুল ফেরদৌসের ছোট ভাই ফয়সাল। তার দাবি, সাইফুল বিদেশে থাকাকালে বোনের খোঁজখবর রাখতেন না। এ কারণে জান্নাত তাকে তালাক দিয়েছেন। তবে বোনের পড়াশোনা, কোচিং ও ঢাকায় থাকা-খাওয়ার খরচ স্বামীর অর্থে হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। বক্তব্য জানতে একাধিকবার জান্নাতুল ফেরদৌসের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। সাইফুল ও তার পরিবারের অভিযোগ, স্ত্রীকে পড়াশোনা করিয়ে সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করার পর কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি তালাকের শিকার হয়েছেন। একই সঙ্গে স্ত্রীর কাছে থাকা প্রবাসজীবনের গচ্ছিত অর্থ ও অন্য পাওনা ফেরত পেতে চেষ্টা করছেন।