ঢাকা , রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই যাত্রীর টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আরএনবি সদস্য বরখাস্ত

রাজশাহী রেলস্টেশনে দুই যাত্রীর কাছ থেকে ১০ হাজার ৬০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি)সিপাহী আমিনুল ইসলাম পলাশকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আরএনবির পশ্চিমাঞ্চল জোনের চিফ কমান্ড্যান্ট মোহা. আশাবুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, অভিযুক্ত সিপাহীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী দুই যাত্রীর একজন রুবেল (২৫)। তার বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সরকারপাড়া গ্রামে। অপর যাত্রী অলিউল্লাহর বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার চর চকপাড়া গ্রামে। গত বুধবার রাতে কুষ্টিয়া থেকে সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছান তারা। রাত বেশি হওয়ায় অন্য কোথাও না গিয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন।
সেখানে বসে খাবার খাওয়ার সময় আরএনবির সিপাহী আমিনুল ইসলাম পলাশ ও তার সঙ্গে থাকা আরও দুজন তাদের কাছে যান। কথাবার্তার এক পর্যায়ে তারা ওই দুই যাত্রীকে থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ভয়ভীতি দেখান। একপর্যায়ে তাদের কাছ থেকে ১০ হাজার ৬০০ টাকা জোর করে নিয়ে চলে যান তারা। এদিকে ঘটনার রাতেই আরএনবির রাজশাহী স্টেশন চৌকির ইনচার্জের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগ দেওয়ার পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে অভিযুক্ত সিপাহী তাদের সঙ্গে বিষয়টি আপস-মীমাংসার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগ প্রত্যাহারে রাজি হননি দুই যাত্রী। এরপর স্টেশন ছেড়ে চলে যান আমিনুল। বৃহস্পতিবার দিনভর তাকে স্টেশনে দেখা যায়নি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতেই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। আরএনবির পশ্চিমাঞ্চল জোনের চিফ কমান্ড্যান্ট মোহা. আশাবুল ইসলাম বলেন, ‘আমার কাছে যে তথ্য এসেছে, তাতে অভিযুক্ত সিপাহী আরও দুজনের সহযোগিতায় দুই যাত্রীর কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নিয়েছেন। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সেই অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতাও পাওয়া গেছে। তাকে সাময়িক দরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, পূজার ছুটির কারণে অফিস বন্ধ থাকায় আগামী রোববার অভিযুক্ত সিপাহীকে তিন দিনের সময়সীমা দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। এরপর বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

দুই যাত্রীর টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আরএনবি সদস্য বরখাস্ত

আপডেট সময় ১২:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
রাজশাহী রেলস্টেশনে দুই যাত্রীর কাছ থেকে ১০ হাজার ৬০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি)সিপাহী আমিনুল ইসলাম পলাশকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আরএনবির পশ্চিমাঞ্চল জোনের চিফ কমান্ড্যান্ট মোহা. আশাবুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, অভিযুক্ত সিপাহীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী দুই যাত্রীর একজন রুবেল (২৫)। তার বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সরকারপাড়া গ্রামে। অপর যাত্রী অলিউল্লাহর বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার চর চকপাড়া গ্রামে। গত বুধবার রাতে কুষ্টিয়া থেকে সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছান তারা। রাত বেশি হওয়ায় অন্য কোথাও না গিয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন।
সেখানে বসে খাবার খাওয়ার সময় আরএনবির সিপাহী আমিনুল ইসলাম পলাশ ও তার সঙ্গে থাকা আরও দুজন তাদের কাছে যান। কথাবার্তার এক পর্যায়ে তারা ওই দুই যাত্রীকে থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ভয়ভীতি দেখান। একপর্যায়ে তাদের কাছ থেকে ১০ হাজার ৬০০ টাকা জোর করে নিয়ে চলে যান তারা। এদিকে ঘটনার রাতেই আরএনবির রাজশাহী স্টেশন চৌকির ইনচার্জের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগ দেওয়ার পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে অভিযুক্ত সিপাহী তাদের সঙ্গে বিষয়টি আপস-মীমাংসার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগ প্রত্যাহারে রাজি হননি দুই যাত্রী। এরপর স্টেশন ছেড়ে চলে যান আমিনুল। বৃহস্পতিবার দিনভর তাকে স্টেশনে দেখা যায়নি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতেই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। আরএনবির পশ্চিমাঞ্চল জোনের চিফ কমান্ড্যান্ট মোহা. আশাবুল ইসলাম বলেন, ‘আমার কাছে যে তথ্য এসেছে, তাতে অভিযুক্ত সিপাহী আরও দুজনের সহযোগিতায় দুই যাত্রীর কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নিয়েছেন। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সেই অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতাও পাওয়া গেছে। তাকে সাময়িক দরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, পূজার ছুটির কারণে অফিস বন্ধ থাকায় আগামী রোববার অভিযুক্ত সিপাহীকে তিন দিনের সময়সীমা দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। এরপর বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।